
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি খাদেমুল ইসলাম!
পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলায় সাপের কামড়ে আহত এক নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ছালেহা খাতুন (৪২) উপজেলার তেতুলিয়া ৩ নং ইউনিয়নের চিমতজোত গ্রামের আতিয়ার রহমানের স্ত্রী।স্বজনদের দাবি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম মজুত থাকলেও তা প্রয়োগ না করে রোগীকে পঞ্চগড় হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্বজনদের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার ১৪ মে সকালে ১১ টার দিকে বাড়ি পাশের মরিচ ক্ষেতে গরু বাধতে যাওয়া সময় পায়ে সাপ কামড় দেয়। তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে তেতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ছালেহা বেগমের স্বামী আতিয়ার রহমান (৫০) চিমতজোত স্থানীয় বাসিন্দা নুর ইসলাম অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর তার রক্ত পরীক্ষাসহ ভুল চিকিৎসা করা হয়। তবে দায়িত্ব অবহেলা অভিযোগ। তিনি বলেন, সেখানে অ্যান্টিভেনম রয়েছে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে তা প্রয়োগ করলে আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে, যা উপজেলা হাসপাতালে নেই। ‘আমরা অ্যান্টিভেনম দিতে বারবার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু চিকিৎসক তা দিতে রাজি না হওয়ায় রোগী কে পঞ্চগড় হাসপাতালে নিয়ে যাই।’ স্বজনদের দাবী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর নার্সরা জানান, এখানে চিকিৎসা নেই। পরে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পঞ্চগড় হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তেতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে বর্তমানে ৪০ ভায়াল অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের মেডিকেল অফিসার আইরিন পারভীন রোগীর স্বজনদের জানিয়েছিলেন যে, অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের পর আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হতে পারে, যা উপজেলা পর্যায়ে নেই। পরে তারা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশে রোগীকে নিয়ে যান।’ চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের বিষয়ে তেতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তেতুলিয়া প্রায়ই সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে জেলায় অন্তত ১৫ জন সাপের কামড়ে মারা গেছেন। তেতুলিয়া ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ,শাকিল আহম্মদের সাথে যোগাযোগ করে না পেয়ে ফোন করলে রিসিভ হয়নি।
পঞ্চগড় সিভিল সার্জন মিজানুর রহমান বলেন, তেতুলিয়া রোগীর মৃত্যু এবং অ্যান্টিভেনম না পাওয়ার অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে জেলায় অ্যান্টিভেনমের কোনো সংকট নেই।’
আপনার মতামত লিখুন :