
ডেস্ক রিপোর্টঃ
অনলাইন জগতে লেডি বাইকার হিসেবে বেশ পরিচিত রিয়া রায়। তরুণীদের মোটরসাইকেল চালাতে তিনি উদ্ধুদ্ধ করেন ভিডিওবার্তায়। নিজে টিকটক ভিডিও বানিয়ে ছড়িয়ে দেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। উশৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তবে এবার ফেঁসে গেছেন। বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে মাদক কারবারে নামার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
রোববার রাতে পুলিশের হাত ফসকে বেরিয়ে গেছেন লেডি বাইকার রিয়া। তবে তার বয়ফ্রেন্ডকে ধরে পুলিশ পাঠিয়েছে কারাগারে। এখন রিয়াকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ।
রিয়া রায় সিলেট নগরীর কুমারপাড়ার মন্দিরগলির ঝর্ণারপাড় এলাকার ৬২/এ-এর বাসিন্দা রামু রায়ের মেয়ে। তবে রিয়ার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ষোলঘর এলাকায়। তার বয়ফ্রেন্ডের নাম আরমান সামি। তিনি নগরীর মিরাপাড়ার ১৪৯/বি নম্বর বাসার শামসুল ইসলামের ছেলে।
জানা গেছে, প্রাইভেটকার থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় রিয়া ও তার বয়ফ্রেন্ড সামির বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মাদক আইনে মামলা করেছে পুলিশ। সোমবার এ মামলা করা হয়। মাদক মামলায় এরই মধ্যে গ্রেফতার রিয়া রায়ের বয়ফ্রেন্ড আরমান সামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উশৃঙ্খল এবং বিলাসী জীবনযাপনের পাশাপাশি সামি ও রিয়া দুজনই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। চতুর সামি তার গার্লফ্রেন্ড রিয়াকে বাঁচানোর জন্য রোববার রাতে পুলিশের সিগন্যালে প্রথমে থামেননি। তবে কিছুটা দূরে গিয়ে রিয়াকে নিরাপদ আশ্রয়ে ছেড়ে পুলিশের কাছে ধরা দেন তিনি।
রিয়াকে নিরাপদ আশ্রয়ে ছেড়ে দিলেও নিজেদের ব্যবহৃত প্রাইভেট গাড়িতে থেকে যায় মাদক। এরপর গাড়িটি তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবা, মদ ও গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ।
সিলেট মেট্রোপলিট্ন পুলিশের (এসএমপি) বিমানবন্দর থানার ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, রোববার রাতে বয়ফ্রেন্ড আরমান সামীকে নিয়ে সিলেটের এয়ারপোর্ট এলাকায় যান রিয়া। নীল রঙের একটি গাড়ি নিয়ে এদিক-সেদিক ঘুরছিলেন তারা। টহল পুলিশের সন্দেহ হলে গাড়িটি থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। একটু দূরে গিয়ে গাড়িটি থামে। তখন গাড়ি থেকে দ্রুত নেমে যান এক তরুণী।
তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক গাড়ি থেকে আরমান সামীকে আটক করে পুলিশ। এরপর আরমান সামীই জানান- পালিয়ে যাওয়া তরুণী রিয়া রায়। এ সময় গাড়ি তল্লাশি চালিয়ে মাম পানির বোতলে রাখা বিশেষ মদ ৫০০ মিলিগ্রাম, ১০টি ইয়াবা ও দুই পুড়িয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওসি খান মুহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, সোমবার সকালে সামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় রিয়া ও সামির বিরুদ্ধে মামলা করেন এয়ারপোর্ট থানার এসআই গৌতম চন্দ্র দাশ। রিয়া ঘটনার পর থেকে পলাতক। তাকে গ্রেফতারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে, সিলেটের লেডি বাইকার হিসেবে পরিচিত রিয়াকে নিয়ে ফেসবুকে মঙ্গলবার দিনভর তোলপাড় চলে। অনেকে নানা নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তারা তদন্ত করে রিয়া ও সামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। ফেসবুকে অনেকেই বলেছেন, রিয়ার শাস্তি দেখে যেন আর কোনো ঘরের মেয়ে এমন ‘উশৃঙ্খল লেডি বাইকার’ হওয়ার দুঃসাহস না দেখায়।
আপনার মতামত লিখুন :