কমলগঞ্জে কর্মজীবী নারীকে জোরপূর্বক অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় ৩ জন গ্রেপ্তার; প্রাইভেটকার উদ্ধার


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : মার্চ ১১, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন /
কমলগঞ্জে কর্মজীবী নারীকে জোরপূর্বক অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় ৩ জন গ্রেপ্তার; প্রাইভেটকার উদ্ধার

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় এক কর্মজীবী নারীকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কুলাউড়া উপজেলার শ্রীপুর (নাছিরাবাদ) গ্রামের মতছির আলীর ছেলে মোঃ জাকির মিয়া (২৬), মৌলভীবাজার সদর উপজেলার সৈয়ারপুর এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মোঃ কাওছার আহমদ (৩৪) এবং সদর উপজেলার গুলবাগ (বেরিরচর) এলাকার নুর মিয়ার ছেলে জসিম মিয়া (৩৬)। বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ২টায় মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা। এ সময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মার্চ সকাল আনুমানিক ৬টা ৪০ মিনিটের সময় কমলগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ বালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা কর্মজীবী নারী ফাতেমা পারভেজ নিশি (২৯) শ্রীমঙ্গলে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কমলগঞ্জের বটতলা বাজারে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-ক-০৩-৯৪৯৪) এসে তাকে শ্রীমঙ্গল যাবেন কিনা জিজ্ঞাসা করে। তিনি যেতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়িটি আশপাশে ঘোরাফেরা করতে থাকে। পরবর্তীতে তিনি বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করলে গাড়িটি তাকে অনুসরণ করে তার বাড়ির রাস্তায় ঢুকে পড়ে। একপর্যায়ে গাড়িতে থাকা এক যুবক নেমে তার মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক টেনে গাড়িতে তুলে অপহরণের চেষ্টা করে। তবে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ করে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি চিৎকার করে তাদের হাত থেকে ছুটে পালিয়ে নিরাপদে চলে যেতে সক্ষম হন।

এ ঘটনার পর ভিকটিমের অভিযোগের ভিত্তিতে কমলগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় মামলা (নং-০৭, জিআর-১৯/২৬, তারিখ ০৯ মার্চ ২০২৬) দায়ের করা হয়। মামলার পর মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, শ্রীমঙ্গল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান রাজুর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে কমলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আউয়ালের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করে। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম মোস্তফা, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিঠু রায়, এসআই আমির উদ্দিন, এসআই রনি তালুকদার ও এএসআই হামিদুর রহমানসহ একাধিক টিম সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও ম্যানুয়াল সোর্সিংয়ের মাধ্যমে অভিযান চালায়।

তদন্তের একপর্যায়ে গত ১০ মার্চ সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিলেট মহানগরীর সোবহানীঘাট এলাকার আত্মা কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত সাদা রঙের প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা বলেন, সিডিএমএস যাচাই করে গ্রেপ্তার জাকির, কাওসার এবং জসিমের বিরুদ্ধে চুরি এবং মাদক আইনে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তাদের দলের জাহাঙ্গীরের (পলাতক) বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ ৩টি মামলা রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে তিনি জানান।