
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: খাদেমুল ইসলাম!
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুর বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যে সহ নানান অভিযোগ তুলেছেন। চেয়ারম্যন আশরাফুল ইসলাম অভিযোগে জানান, তার নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্পের বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনিয়ম, ঘুষ দাবি ও প্রশাসনিক হয়রানির করা হয়েছে।
গত কাল শুক্রবার নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক মাধ্যম( ফেসবুক) আইডি থেকে লাইভে এসে তিনি এসব অভিযোগ করেন। লাইভে দেওয়া ভিডিও বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
লাইভে চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা থাকলেও এখনো তাকে বহিষ্কার করা হয়নি। মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পুনরায় অফিসে যোগদান করেন। তবে ভিজিএফ (VGF) কার্যক্রমে তার নাম থাকলেও টিসিবি (TCB) কার্যক্রমের তালিকা প্রস্তুত ও মার্কিংয়ের ক্ষেত্রে তার নাম ব্যবহার না করতে ইউএনও নিষেধ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টিকে তিনি প্রশাসনিক হয়রানির অংশ বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে ইউএনও’র বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। চেয়ারম্যানের দাবি অনুযায়ী, তেঁতুলিয়া উপজেলার ২ নম্বর তিরনইহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসাইনের সহযোগিতা এবং উপজেলা পিআইও অফিসের জহিরুলের মাধ্যমে ওই টাকা নেওয়া হতো।
চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিল অনুমোদনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রশাসনের কাছে তাকে দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ না দিলে অনেক ক্ষেত্রে বিলের কাগজে স্বাক্ষর করা হয় না বলেও তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউএনও’র সহযোগী কয়েকজনের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের বিল অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রায় ১৫ শতাংশ টাকা দাবি করা হয়।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, ইউনিয়নের একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলেও বিল ছাড় পেতে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। এতে ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
ফেসবুক লাইভে তিনি আরও জানান, বিভিন্ন প্রকল্পের বিল ও প্রশাসনিক কাজ নিয়ে একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। বরং নানা অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যানের এই ফেসবুক লাইভ দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরুর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত বা ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা পরে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
শনিবার ১৩ মার্চ সকালে তেতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহিন খসরু যোগাযোগ চেষ্টা করা হলে অভিযোগ অস্বিকার করেন।
আপনার মতামত লিখুন :