
নুরুজ্জামান ফারুকী হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
হবিগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ঘটে গেছে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা। দিনভর জল্পনা-কল্পনা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও শেষ মুহূর্তের দেনদরবারের পরও নির্বাচনী মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই থেকে গেলেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া।
মঙ্গলবার(২০ জানুয়ারী) নির্ধারিত সময় বিকেল ৫টার আগ পর্যন্ত বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়ার অপেক্ষায় ছিলেন শেখ সুজাত মিয়া। দলীয় সমঝোতার অংশ হিসেবে রেজা কিবরিয়ার সঙ্গে দেখা পাওয়ার আশায় তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ড. রেজা কিবরিয়া উপস্থিত না হওয়ায় আত্মসম্মান ও নেতাকর্মীদের প্রবল চাপের মুখে শেখ সুজাত মিয়া শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার না করার সিদ্ধান্ত নেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নবীগঞ্জ শহরের গোল্ডেন প্লাজায় স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে সেখানে যান ড. রেজা কিবরিয়া। বৈঠকে পাশাপাশি চেয়ারে বসে তিনি শেখ সুজাত মিয়াকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় এবং আগের অবস্থানে অনড় থাকায় শেখ সুজাত মিয়া ওই আহ্বানে সাড়া দেননি। এ সময় সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীরা শেখ সুজাত মিয়ার পক্ষে নানা স্লোগান দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ড. রেজা কিবরিয়াসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ স্থান ত্যাগ করেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মতিউর রহমান পেয়ারা, সাবেক আহ্বায়ক সরফরাজ আহমেদ চৌধুরী, বাহুবল উপজেলা বিএনপির সভাপতি তুষার চৌধুরী, নবীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী, মোখলিছুর রহমান, নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির আহবায়ক ছালিক আহমদ চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বয়েত উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক মজিদুর রহমান মজিদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অলিউর রহমান অলি, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব আহমেদ চৌধুরী ও আব্দুল বারিক রনিসহ উপজেলা-পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
দলীয় একটি সূত্রের দাবি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই ড. রেজা কিবরিয়াকে শেখ সুজাত মিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে বলা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই বৈঠক না হওয়ায় পুরো সমঝোতা প্রক্রিয়াই ভেস্তে যায়। শেষ পর্যন্ত আত্মসম্মান ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনুরোধে প্রার্থিতায় অটল থাকলেও দলীয় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন শেখ সুজাত মিয়া এমন আশঙ্কাও করছেন অনেকে। এদিকে জোটগত রাজনৈতিক মেরুকরণে বড় ধাক্কা খেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী। ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত মেনে তিনি মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। ফলে হবিগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মাঠে রইলেন খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। সব মিলিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে হবিগঞ্জ-১ আসনে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ, যা আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও তীব্র করে তুলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিএনপির অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর অবস্থান এবং জোট রাজনীতির নতুন হিসাব সব মিলিয়ে এই আসনটি আগামী নির্বাচনে বিশেষভাবে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :