পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটির ভিতরে ধারালো ব্লেড দ্রূত তদন্ত দাবী


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৬, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ন / ০ Views
পঞ্চগড়ে স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটির ভিতরে ধারালো ব্লেড দ্রূত তদন্ত দাবী

খাদেমুল ইসলাম! পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা পাউরুটির ভেতরে ধারালো ব্লেড পাওয়া চাঞ্চল্য কর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে দ্রূত তদন্ত দাবী করেছে সচেতন মহল।
শিশুদের খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকগন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের ১১৬ নম্বর প্রধানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পাউরুটির ভেতরে ব্লেডটি পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২টার দিকে প্রথম শিফটের ছুটির পর শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম আক্তার স্কুল ফিডিং কর্মসূচির পাউরুটি নিয়ে বাড়িতে যায়। পরে পাউরুটি খেতে গিয়ে সেটির ভেতরে একটি ধারালো ব্লেড দেখতে পায় সে। বিষয়টি জানাজানি হলে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা পাউরুটিসহ বিদ্যালয়ে আসেন। পরে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বরুণ রায় পাউরুটিটি নিয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যান।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বরুণ রায় বলেন, মিম আক্তার নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক পাউরুটি নিয়ে বিদ্যালয়ে এসে সেটির ভেতরে ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ করেন। বিষয়টি শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি পাউরুটিটি নিয়ে অফিসে যেতে বলেন। পরে সেটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের প্যাকেটে কোনো ধরনের ব্লেড পাওয়া যায়নি।

এদিকে, পাউরুটির ভেতরে ব্লেড পাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। শিশুদের জন্য সরবরাহ করা খাবারে এমন বিপজ্জনক বস্তু কীভাবে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধানাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুফিয়া বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আজমল হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার পর পাউরুটিটি সংগ্রহ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি ভালো বলতে পারবেন।

অন্যদিকে, পঞ্চগড় জেলায় রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইএসডিওর স্কুল ফিডিং প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়েদেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।