বিএনপির পদ-পদবি ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার সুযোগ নেই – জি কে গউছ
দ্যা সিলেট পোস্ট
প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৪, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ন /
০ Views
নূরুজ্জামান ফারুকী হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
জাতীয় সংসদের হুইপ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জি কে গউছ বলেছেন, বিএনপি এবং দুর্নীতি একসঙ্গে চলতে পারে না। বিএনপি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি একসঙ্গে চলতে পারে না। বিএনপির পদ-পদবি ব্যবহার করে কেউ কোনো ধরনের অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ নেই। মানুষ পছন্দ করে না, এমন কোনো কাজ বিএনপির ব্যানারে কেউ করতে পারবেন না।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর)দুপুরে হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় ফ্রিপ প্রকল্পের আওতায় কৃষক গ্রুপের মধ্যে এলএলপি সেচযন্ত্র ও ট্রাক্টর বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হুইপ জি কে গউছ আরও বলেন, বিগত ১৭টি বছর মানুষ অনেক কষ্ট করেছে, ভোগান্তির শিকার হয়েছে। অনেকেই ধান্দাবাজ, চাঁদাবাজ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে হয়রানির শিকার হয়েছে। এসব থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার প্রত্যাশা থেকেই মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। তাই বিষয়টি আমাদের সব সময় মাথায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি জনগণের কাছে অঙ্গীকার করেছিল, মানুষ বিশ্বাস করে বিএনপিকে ভোট দিলে তাদের ভোটের অমর্যাদা করা হবে না। দল-মত ও ধর্মের ঊর্ধ্বে উঠে সবার জন্য সমানভাবে কাজ করা হবে। বিএনপি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
হুইপ আরও বলেন, প্রশাসন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। প্রশাসনের কাজে বিএনপির কেউ হস্তক্ষেপ করছে না। বিএনপির নেতাকর্মীদের অহেতুক প্রশাসনের দপ্তরে না যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকার ৩টি উপজেলায় সংসদ সদস্য হিসেবে সরকারি অর্থে আমার জন্য তিনটি অফিস প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু আমি এক সেকেন্ডের জন্যও ওই অফিসে বসিনি। কারণ, আমি অফিস থেকে চলে যাওয়ার পর সেখানে দলীয় লোকজন বসতে পারেন। সেবার নামে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারেন-এমন আশঙ্কা থেকেই আমি ওই অফিস ব্যবহার করছি না। আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনগণের সেবক। সেবার মানসিকতা নিয়েই জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে জি কে গউছ বলেন, সৎ পথে থাকলে মহান আল্লাহর রহমত ও মানুষের ভালোবাসার অভাব হয় না। বিগত দিনগুলোতে আমার বিরুদ্ধে অনেক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা সফল হতে পারেনি। তারা আমার কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা অবৈধভাবে সম্পদের মালিক হয়েছেন এবং মানুষের সম্পদ লুট করেছেন, তারা এখন দেশে-বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। সেখানে প্রকাশ্যে শপিং করতে কিংবা মসজিদে নামাজ পড়তেও যেতে পারছেন না। তারা নিজেদের সম্পদও ভোগ করতে পারছেন না। তারা বন্দির মতো জীবনযাপন করছেন। আমরা এমন জীবন চাই না।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আবু জাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান কাজল, সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম মতিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম মানিক প্রমুখ।
আপনার মতামত লিখুন :