
হাবিবুর রহমান হাবিব
সাংবাদিক ও কলামিস্ট, শাল্লা, সুনামগঞ্জ
“ইয়া বদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আর্দ” — হে আসমান ও জমিনের অপূর্ব স্রষ্টা!
“ফাবি আয়্যি আলাইহি রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান” — অতএব, হে জিন ও মানব সম্প্রদায়! তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?
ক্লান্ত যান্ত্রিকতার বাইরে হঠাৎ প্রকৃতির পটে চোখ জুড়িয়ে গেলে অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে আসে পবিত্র এই উচ্চারণগুলো। চারপাশের রূপবৈচিত্র্য, নদী-নালা আর জীবনের নিখুঁত ক্যানভাস দেখে মনে হয়, নিখিল বিশ্বের প্রতিটি ধূলিকণায় লুকিয়ে আছে অবিনাশী কারিগরি। অপার সৌন্দর্যের এই ভাঁজগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আমরা মহান আল্লাহর অগণিত করুণার সাগরে ভাসছি।
নীল আকাশ, গোধূলির দিগন্ত কিংবা এঁকেবেঁকে চলা নদী—সবকিছুই তপ্ত প্রাণের তৃষ্ণা মেটায়। আমাদের চিরচেনা হাওর অঞ্চল কিংবা জনপদ; বর্ষার থৈ থৈ জলরাশি হোক বা শরতের শিউলিঝরা ভোর, ঋতুর পালাবদলে এই মাটি বারবার নতুন রূপ ধারণ করে। এগুলো কেবল জড় পদার্থ নয়, পরম করুণাময় আল্লাহর অজস্র উপহার ও অমূল্য নিয়ামত।
শুধু নিষ্জীব প্রকৃতিই নয়, জীবজগৎ দেখলে বিস্ময়ের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। বিচিত্র মানুষ, পশুপাখি কিংবা জলচর প্রাণীর জীবনযাত্রা—সবকিছুর গঠন কী নিখুঁত! একটি ছোট পাখির বাসা বাঁধার শিল্প কিংবা মানুষের জটিল মনস্তত্ত্ব; কোনো পূর্বনমুনা ছাড়া এমন নিখুঁত সৃষ্টি একমাত্র ‘বদিউ’ বা অপরূপ স্রষ্টার পক্ষেই সম্ভব।
আজকের ব্যস্ত সময়ে আমরা অনেকেই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার ফুরসত পাই না। কংক্রিটের খাঁচায় বন্দি জীবন আমাদের দৃষ্টিকে সংকুচিত করে দিয়েছে। অথচ একটুখানি থমকে দাঁড়ালে বোঝা যায়, আমরা কতটা সৌভাগ্যবান। প্রকৃতির এই অপরূপ সৃষ্টি কেবল দেখার বস্তু নয়, এটি ভাবনার খোরাক ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের উপলক্ষ। নিখুঁত এই সুন্দরের সামনে দাঁড়ালে হৃদয়ে জেগে ওঠে কেবল গভীর শুকরিয়া।
আসমান ও জমিনে মহান আল্লাহর অপার সৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আত্মায় প্রতিধ্বনিত হয় সেই শাশ্বত সত্য—আমরা পরম করুণাময় আল্লাহর কোন্ কোন্ নিয়ামতকে অস্বীকার করব?
আপনার মতামত লিখুন :