বাংলাদেশ ঐক্য পার্টির সভা অনুষ্ঠিত। একজন নারীকে নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ।


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ন / ০
বাংলাদেশ ঐক্য পার্টির সভা অনুষ্ঠিত। একজন নারীকে নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ।

স্টাফ রিপোর্ট 

সাড়ে ৫ বছরে বাংলাদেশ ঐক্য পার্টি’র (বিওপি)’র আয় দশ লক্ষ চৌষট্টি হাজার তিনশত টাকা।

বিওপি’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুর রহীম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক রাজীব চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় গত ২২ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, সকালে রাজধানীর গুলশান-২ এ পার্টির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়।

সিদ্ধান্ত নং ১: পূর্ববর্তী সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন:
গত ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণী পাঠ করা হয় এবং সর্বসম্মতিক্রমে তা অনুমোদিত হয়।

সিদ্ধান্ত নং ২: পার্টির লক্ষ্য, নেতৃত্বের জবাবদিহি ও আর্থিক স্বচ্ছতা:
ক. পার্টির লক্ষ্য ও নেতৃত্বের জবাবদিহি:
বাংলাদেশ ঐক্য পার্টি ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশকে তৃতীয় বিশ্বের অবস্থান থেকে প্রথম বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রের পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে একটি আশাব্যঞ্জক, সর্বজনীন ও ব্যতিক্রমধর্মী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সভায় মত প্রকাশ করা হয় যে, দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে যোগ্য, সৎ ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব অপরিহার্য। অতীতের বিভিন্ন সময়ে যোগ্য নেতৃত্বের আবির্ভাব ঘটলেও স্বজনপ্রীতি, পরিবারতন্ত্র, ক্ষমতা ও নেতৃত্বের প্রতি অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষা এবং দুর্নীতির কারণে প্রত্যাশিত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে সভায় অভিমত ব্যক্ত করা হয়। সভায় আরও উল্লেখ করা হয় যে, কোনো একক নেতা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে নেতৃত্বের কেন্দ্রীভবন সমস্যা নয়। কিন্তু নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্ত, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারই সমস্যা। প্রতিরোধে কার্যকর ভারসাম্য, নিয়ন্ত্রণ এবং শতভাগ জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের ওপর কার্যকর জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ঐক্য পার্টির ১৫ দফা কর্মসূচির প্রথম দফায় নেতৃত্বের জবাবদিহি ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। পার্টির নীতিমালা ও কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে পার্টির নেতৃত্ব যাতে অন্যান্য দলের নেতৃত্বে পরিলক্ষিত নেতিবাচক চর্চার শিকার না হয়, সে বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

খ. পার্টির আর্থিক স্বচ্ছতা ও আয়-ব্যয়ের হিসাব:
সভায় পার্টির আর্থিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও হিসাব সংরক্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পার্টির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আয়-ব্যয়ের হিসাব বিভিন্ন সময়ে সভায় উপস্থাপন ও অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

গত ২১ মার্চ ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় ব্যয়ের ভাউচার যাচাই-বাছাইয়ের পর পার্টির আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদন করা হয়েছিল। ওই সভার কার্যবিবরণীতে লে. কর্নেল আবু ইউসুফ যোবায়ের উল্লাহ কর্তৃক কিস্তিতে প্রদান করা মোট ৪৫,০০০ (পঁয়তাল্লিশ হাজার) টাকার উল্লেখ রয়েছে।

পরবর্তীকালে পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কিস্তিতে আরও ১,৫০,০০০ (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা অনুদান প্রদান করেন। উক্ত অর্থ পার্টির ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হয় বলে সভায় জানানো হয়।

ব্যক্তিগত জরুরি কাজে ব্যস্ততার কারণ উল্লেখ করে সাবেক চেয়ারম্যান লে. কর্নেল আবু ইউসুফ যোবায়ের উল্লাহ পদত্যাগপত্র দাখিল করেন। তাঁর (লে. কর্ণেল আবু ইউসুফ যোবায়ের উল্লাহ’র) সভাপতিত্বে ১৫ মে ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় পদত্যাগপত্র অনুমোদন করা হয় এবং তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুর রহীম চৌধুরীর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

সভায় উপস্থাপিত হিসাব অনুযায়ী, পার্টির প্রতিষ্ঠা থেকে অদ্যাবধি মোট আয় ১০,৬৪,৩০০ (দশ লক্ষ চৌষট্টি হাজার তিনশত) টাকা এবং মোট ব্যয়ও ১০,৬৪,৩০০ (দশ লক্ষ চৌষট্টি হাজার তিনশত) টাকা।

২১ মার্চ ২০২৫ তারিখের সভার কার্যবিবরণীতে পার্টির ১,৫০,০০০ (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা ঋণের উল্লেখ থাকলেও পরবর্তীকালে তা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। ফলে বর্তমানে পার্টির কোনো ঋণ নেই বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুর রহীম চৌধুরী পার্টির হিসাবভুক্ত আয়-ব্যয়ের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন ব্যয় বহন করে আসছেন বলে সভায় জানানো হয়।

সভায় পার্টির আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা, আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

সিদ্ধান্ত নং ৩: নির্বাহী চেয়ারম্যান পদে নারী নেতৃত্ব নিয়োগ:
সভায় উল্লেখ করা হয় যে, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাই নারীর যথাযথ অংশগ্রহণ এবং যোগ্য ও গুণগত নেতৃত্ব নিশ্চিত করা ছাড়া দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়। এই বিবেচনায় বাংলাদেশ ঐক্য পার্টির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ নির্বাহী চেয়ারম্যান পদে একজন যোগ্য নারীকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। উক্ত পদে দায়িত্ব পালনে সদস্য নং ২৫২১, তাহসিন ইবনাত জেবা সম্মতি প্রদান করায় সভায় উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে বাংলাদেশ ঐক্য পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।