
খাদেমুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি!
পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মহারাজার দিঘি থেকে মানিক হোসেন (১৯) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ফরহাদ হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞোপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের বড় ভাই একটি মামলা দায়ের করেন।
প্রাথমিক তদন্তে এবং মামলা দায়েরের পর হত্যার সাথে জড়িত থাকায় নিহতের বড় বোনসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।গ্রেফতাররা হলেন, পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মালাদাম এলাকার বাসিন্দা নিহত মানিকের বড় বোন (২৪) ও প্রতিবেশী চাচা শাহাবুদ্দিন (৪৯)। এর মধ্যে গ্রেফতার বোন আদালতে স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দি দিলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন। অপরদিকে শাহাবুদ্দিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার (১৫ জুলাই) মহারাজার দিঘি থেকে ভাসমান অবস্থায় মানিক হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মরদেহের কাছ থেকে দুটি চিরকুট পাওয়া যায়। চিরকুটসহ মরদেহ উদ্ধারের পর সদর থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সিআইডি ফরেনসিক টিম ও পিবিআই যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উদ্ধার হওয়া চিরকুটকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে উল্লেখ করে পুলিশের দাবি, ওই চিরকুটের লেখার সূত্র ধরে নিহতের বাড়িতে বড় বোনের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে একই ধরনের হাতের লেখাযুক্ত একটি রুল টানা ক্যালেন্ডার উদ্ধার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তথ্য দেন বলে।
পুলিশের ভাষ্য ও বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এবং বোন অভিযোগ করেছেন যে, কয়েক মাস আগে তার ছোট ভাই তাকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে এবং তা মোবাইলে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করছিল। এ কারণে সামাজিক সম্মান ও পারিবারিক সম্পর্ক রক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি সোমবার বিকেলে হত্যার পরিকল্পনা করে মানিককে দিঘির পাড়ে নিয়ে যায় বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পানির সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মানিককে অচেতন করার পর তাকে মহারাজার দিঘি এলাকায় নিয়ে হত্যার পর পানিতে ফেলে দেয়া হয়। পরে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে চিরকুটে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে মরদেহের কোমড়ে রেখে দেয়া হয়। একই সাথে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি মহারাজের দিঘির পানিতে ফেলে দেন। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে সন্দেহ করা চিরকুট, একটি রুল টানা ক্যালেন্ডার এবং দুটি বাটন মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পুলিশ।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ফরহাদ হোসেন বলেন, গ্রেফতার হওয়া নিহতের বোনকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার দাবি দীর্ঘদিন ধরে তাকে ব্ল্যাকমেইল করে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করেছেন নিহত মানিক। সে কারণে এই হত্যার ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :