
হাবিবুর রহমান হাবিব, শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নবগঠিত কার্যকরী কমিটি গঠনের লক্ষ্যে এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ১৮ জুলাই শনিবার বেলা ১১:০০ ঘটিকায় শাল্লা উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের পর সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে সভার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমিতি শাল্লা উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অনাদি তালুকদারের সভাপতিত্বে উক্ত সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পোড়ারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিউটন তালুকদার এবং শান্তিপুর ইসমাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পল্লবী রাণী চৌধুরী যৌথভাবে সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সভায় উপস্থিত শিক্ষক সমিতির সর্বস্তরের সদস্যদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তক্রমে প্রথমে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী নির্বাচন বোর্ড গঠন করা হয়।
পরবর্তীতে ওই নির্বাচন বোর্ডের সিদ্ধান্ত ও সাধারণ সভার সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে আগামী ৩ (তিন) বছর মেয়াদের জন্য নতুন কার্যকরী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে লক্ষিপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোজ কান্তি সরকার খোকন-কে সভাপতি এবং সুলতানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাক আহমেদ-কে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।
কমিটি গঠন উপলক্ষে আয়োজিত সাধারণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন শাল্লা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম। এছাড়াও শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও সাংগঠনিক ঐক্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন প্রধান শিক্ষিকা কানন বালা সরকার, প্রধান শিক্ষক রাম লাল সরকার, লিটন চন্দ্র তালুকদার, অপু রঞ্জন দাস, চয়ন কান্তি চৌধুরী, অসীম কান্তি সিংহ, অরবিন্দ দাস, মো. সিদ্দিকুর রহমান, আব্দুল হামিদ, নাজমুল হুদা, লিটন চৌধুরী, মাখন লাল দাস, লিংকন রায় এবং মোজাম্মেল হক সোহাগ প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, “আমাদের সকলের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল উপজেলার সর্বস্তরের শিক্ষকদের সাথে নিয়ে একটি সুন্দর ও সর্বজনীন কমিটি গঠন করার। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, শিক্ষকদের একটি বড় অংশকে সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে ইতিপূর্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। আমরা এখনও উদার আহ্বান জানাই—তাঁরাও আমাদের সাথে আসুক, আমরা সবাই মিলে শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।”
নবগঠিত কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষকগণ অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কোনো শিক্ষক যেন কোনো ধরনের অন্যায় হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করাই হবে এই কমিটির মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষকের ওপর কোনো প্রকার হয়রানি করা হলে, উপজেলার সকল শিক্ষক কঠোর ঐক্যের মাধ্যমে তা প্রতিরোধ করবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আপনার মতামত লিখুন :