
হাবিবুর রহমান হাবিব
যেদিন কাফনের কাপড়ে আমাকে মুড়ানো হবে, সেদিন কিন্তু দুনিয়ার সবকিছু থেমে যাবে না। কেবল মাত্র থেমে যাব আমি, আমার নাম হবে ‘লাশ’। এই নশ্বর পৃথিবীর অমোঘ সত্যটি মেনে নিয়ে হৃদয়ের এক কোণে লালিত হচ্ছে এক বিশাল স্বপ্ন—পবিত্র কাবা শরীফ জিয়ারত করা।
মাঝে মাঝে মনটা খুব অবাধ্য হয়ে ওঠে। পকেটে হয়তো সেই সামর্থ্য নেই, কিন্তু মনের গহীনে আছে এক সমুদ্র আকুতি। টিভিতে বা ছবিতে যখন কাবার সেই গাম্ভীর্যপূর্ণ কালো গিলাফ দেখি, তখন বুকের ভেতরটা হু-হু করে ওঠে। অবুঝ মনটা যেন শিশুর মতো বায়না ধরে বসে থাকে—সে আর কিছু চায় না, শুধু একবার সেই পবিত্র ভূমি স্পর্শ করতে চায়।
ইচ্ছে আছে, অনেক টাকা হলে নয়, বরং সামান্য সামর্থ্য পেলেই ছুটে যাব সেই রবের ঘরে। কাবার সামনে দাঁড়িয়ে চোখের সব জল বিসর্জন দিয়ে নিজের সব দুঃখ আর না-বলা কথাগুলো স্রষ্টার কাছে উজাড় করে দেব। যে কথাগুলো দুনিয়ার কাউকে বলা যায় না, যে ক্ষতগুলো কাউকে দেখানো যায় না, সেগুলো সেই পবিত্র চত্বরে লুটিয়ে পড়ে মালিককে বলবো।
সুনামগঞ্জের শাল্লার হাওরপারের এই সাধারণ মানুষটির হৃদয়ে প্রতিদিন এক নীরব প্রার্থনা ধ্বনিত হয়—হে আমার প্রতিপালক, দুনিয়ার এই পবিত্র ঘর এবং তোমার প্রিয় বন্ধু দয়াল নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু\ আলাইহি\ ওয়া\ সাল্লাম-এর উসিলায় আমাদের সবার গুনাহ মাফ করে দাও। যারা কবরে চলে গেছেন, তাদের সবাইকে জান্নাতবাসী করো।
হয়তো একদিন আমার নামও হবে ‘লাশ’, থেমে যাবে জীবনের সব ব্যস্ততা। কিন্তু সেই চিরবিদায়ের আগে অবুঝ মনের এই একটাই চাওয়া—যেন একবার লাব্বাইক ধ্বনিতে মক্কার আকাশ-বাতাস মুখরিত করে প্রভুর ঘরে হাজিরা দিতে পারি।
লেখক: হাবিবুর রহমান হাবিব
স্থান: শাল্লা, সুনামগঞ্জ।
আপনার মতামত লিখুন :