
নূরুজ্জামান ফারুকী হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।
ছাবির আহমেদ চৌধুরী। নবীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র। শহরাঞ্চলে পরিচিত ম্যাজিকম্যান। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শিল্পপতি। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পৌর পরিষদ। প্রতিষ্ঠালগ্নে ছাবির আহমেদ ছিলেন পৌর পরিষদ সদস্য। পৌর প্রশাসক মনোনীত হন বর্তমান সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী।
১৯৯৯ সালে প্রথম অনুষ্ঠিত পৌর নির্বাচনে চরগাঁও, আখরমপুর নিয়ে গঠিত ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর হিসেবে বিজয়ী হন ছাবির আহমেদ চৌধুরী। সেখান থেকেই শুরু স্বপ্নের অভিযাত্রা। পরবর্তীতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পৌর কাউন্সিলর থেকে প্যানেল মেয়র। এক সময়ের গুরু ও তিনবারের মেয়র অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরীকে হারিয়ে ২০১৫ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে মেয়র হিসেবে বিজয়ী হন ছাবির আহমেদ চৌধুরী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট প্রার্থী তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরীকে হারিয়ে চমক দেখান তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের নির্বাচনেও দ্বিতীয় বারের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হন। তবে আলোচিত ওই নির্বাচনে বিজয়ী হলেও তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। অনেক জল্পনা-কল্পনা আর নাটকীয়তায় মাত্র ৬৪ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগ মনোনীত তরুণ প্রার্থী গোলাম রসুল চৌধুরী রাহেলকে পরাজিত করে বিজয়ী হন তিনি। সিলেট বিভাগে এটা ছিল আলোচিত নির্বাচন। তার হাত ধরেই প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে ২০১৩ সালে বিকশিত হয় নবীগঞ্জ পৌরসভা। পৌর পরিষদ গঠনে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া, প্রয়াত সংসদ সদস্য দেওয়ান ফরিদ গাজী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব ও তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং পৌর প্রশাসক নজরুল ইসলাম, সাবেক সচিব অশোক মাধব রায়, প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান দেওয়ান গোলাম ছরওয়ার হাদী গাজী, প্রয়াত চেয়ারম্যান আব্দুল হক চৌধুরী, অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী, গ্যাস আন্দোলনের নেতা প্রয়াত এডভোকেট আব্দুস শহিদ গোলাপ, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ, অধ্যাপক আব্দুল হান্নানসহ অনেক গুণীজনের অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। আজ ২২ ও ২৩শে মার্চ বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হচ্ছে নবীগঞ্জ পৌরসভার ২৫ বছরের রজতজয়ন্তী। রজতজয়ন্তীতে পৌরসভার স্থায়ী ভবন, যানজট নিরসন, আধুনিক নগরায়ন, পানি নিষ্কাশন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ বিষয়ে পৌর মেয়র ও পরিষদ সূত্র জানায়, ১৯৯৮ সালে নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সিংহভাগ এরিয়া, বাউশা ইউনিয়নের জয়নগর, করগাঁও ইউনিয়নের গন্ধা, মদনপুর, জন্তরী নিয়ে ৯টি ওয়ার্ড সংবলিত নবীগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন পৌর প্রশাসক হিসেবে প্রায় দু’বছর দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বর্তমান সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম। যার সহায়তায় পৌর এলাকার সালামতপুর এলাকায় পৌর বাস টার্মিনাল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৯ সালে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রথম পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী। ২০১৫ সাল পর্যন্ত একটানা তিনি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সময়েই পৌরসভা প্রথম শ্রেণির স্বীকৃতি লাভ করে। তবে এক্ষেত্রে অনবদ্য ভূমিকা রাখেন প্যানেল মেয়র ছাবির আহমেদ চৌধুরী। ২০১৩ সালে মেয়র তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী প্রবাসে থাকাবস্থায় তৎকালীন পৌরসভার হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা জালাল আহমেদের মাধ্যমে অবহিত হন প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করতে হলে ৫ দিনের মধ্যে ২০১১-২০১২ এবং ২০১২ থেকে ২০১৩ সালের গড় আয় এক কোটি দেখাতে হবে। এ নিয়ে জটিলতায় প্রায় ৮ লাখ টাকার ঘাটতি দেখা দেয়। এমতাবস্থায় ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়ে শহরে ১০ জন ব্যবসায়ী রাজা কমপ্লেক্সের স্বত্বাধিকারী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ খালেদুর রহমান, মালিক টাওয়ারের মো. আব্দুল মালিক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী আব্দুল ওয়াহিদ, আবু ছালেহ, নিখিল আচার্য্য, শামছুল আলম, আব্দুল মন্নান, আব্দুল মন্নাফ এবং নিজের কর সংযুক্ত করে ঘাটতি ও শর্ত পূরণ করে নবীগঞ্জ পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় পরিণত করার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এর ফলে ২০১৩ সালে নবীগঞ্জ পৌরসভা প্রথম শ্রেণির মর্যাদা লাভ করে। আধুনিক নগরায়নের স্বপ্ন বাস্তবায়নের নিমিত্তে পৌরসভার করদাতাদের নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কর মেলায় পুরস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের নিমিত্তে দানশীল ব্যক্তি মরহুম আব্দুল মালিক ও দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল হিকমাহ জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দানকৃত ভূমিতে ভূ-গর্ভস্থ গভীর পাইপ লাইন স্থাপনের কার্যক্রম ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। অচিরেই পৌরবাসী বিশুদ্ধ পানির আওতায় আসবে।
এ ছাড়াও অচিরেই বিনোদনের চাহিদা নিবারণে পৌর পার্ক নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হবে। নিজ উদ্যোগে পৌর ভবন নির্মাণের কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ২৫ বছর পূর্তি ও রজতজয়ন্তী বিষয়ে পৌর মেয়র আলহাজ ছাবির আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমি মানুষের সেবা করাকে একটি মহৎ ইবাদত মনে করি। আমার জীবনে চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। দায়িত্বে থাকি বা না থাকি সেটা বড় কথা নয়। আমি জনগণের ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে চাই। তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত গর্বিত, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও পৌরসভার রজতজয়ন্তী উদ্যাপন করতে পেরেছি। তিনি নতুন প্রজন্মের উপযোগী হিসেবে আধুনিক ও নান্দনিক পৌরসভা গঠনে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :