তেঁতুলিয়ায় ইউপি নির্বাচনীকে কেন্দ্র করে মডেল থানায় ৭ মামলা অজ্ঞাতসহ অভিযুক্ত সহস্রাধিক পালিয়েছে অনেকে আটক ১২ জন


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৮, ২০২১, ১:১৪ পূর্বাহ্ন /
তেঁতুলিয়ায় ইউপি নির্বাচনীকে কেন্দ্র করে মডেল থানায় ৭ মামলা অজ্ঞাতসহ অভিযুক্ত  সহস্রাধিক পালিয়েছে  অনেকে আটক ১২ জন

তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি :

দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে তেঁতুলিয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ছিনতাই, জাল ভোট, মারধর ও পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে নির্বাচন। এ নির্বাচনে সহিংসতায় ঘটনায় তেঁতুলিয়া মডেল থানায় ৭টি মামলা হয়েছে। এসব মামলার আসামী শতাধিকের বেশি। জেল হাজতে ১২ জন, পলাতক রয়েছেন অনেক।

জানা যায়, গত ১১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ভোটের রাতে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুদ করিম সিদ্দিকীর কর্মীদের উপর হামলা করেন বিপক্ষ মটরসাইকেল শক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক শাহাদৎ হোসেন রঞ্জুর কর্মীরা।

এ হামলায় আব্দুর রউফ,কুদ্দুস, ইমরাতুউল্লাহ মুন্নাসহ বেশ কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হলে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় গত ১৪ নভেম্বর আ’লীগ কর্মী আব্দুর রউফ বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামীগের সাধারন সম্পাাদক চেয়ারম্যানের ভাইকে কাজী আসলাম ও কৃষকলীগের ইউনিয়ন সভাপতি আহসান হাবীবসহ ১০সহ ২০-৩০জনকে অজ্ঞাত আসামী করে থানায় মামলা করেন। মামলার পর থেকে আসামীরা পলাতক রয়েছেন।

একই ইউনিয়নের দর্জিপাড়া ভোট কেন্দ্রে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি দেলোয়ার খানের নেতৃত্বে মারধরের শিকা:র হন আওয়ামীলীগের সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি এমরাতুল্ল্যাহ, উপজেলা আ’লীগ যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল কদ্দুস-সহ কয়েকজন নেতাকর্মী। এ ঘটনায় আব্দুল কুদ্দুস (৫০) বাদী হয়ে দেলোয়ার খাঁনকে নামীয় অভিযুক্ত করে ২৮জনকে আসামী করে মামলা দায়ের কারেন। এ মামলায় কামাল নামে একজন আটক করেছে পুলিশ। গত ১৬ নভেম্বর এ মামলার আসামীরা আদালতে জামিন নিতে গেলে ৫ জনকে কারাগারে প্রেরণ করে বাকিদের জামিন মন্জুর করা
হয়েছে বলে জানা যায়।

১নং বাংলাবান্ধা ইউনিয়নে সিপাইপাড়া ভোট কেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৫জনকে হাতে নাতে আটক করেছে মডেল পুলিশ। ভোট কেন্দ্রের পাশের এক বাড়ি থেকে ব্যালট পেপারে সিল মারা অবস্থায় উপজেলা আ’লীগ স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুুল্লাহ আল মুসাসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার শাহাজাহান আলী বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার পর অভিযুক্তদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

দেবনগর ইউনিয়নে জাল ভোট দেয়ার ঘটনায় ভ্রাম্যমান আদালতে সামসুদ্দিন (৩০) নামের এক যুবককে ১৫ দিনের কারাদন্ড প্রদান করেন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুল হক।

এদিকে নির্বাচন প্রচারণাকালে সহিংসতায় মামলা হয়েছে আরও তিনটি। ভজনপুর ইউনিয়নে আ’লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক প্রার্থী হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে গত ৫ নভেম্বর তেঁতুলিয়া মডেল থানায় মোটরসাইকেল পুড়ানো ও সমর্থকদের মারধরের অভিযোগে শের আলী (৫০)জনকে প্রধান অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করেছেন। বাংলাবান্ধা ইউনিয়নে দলীয় কর্মীদের উপর হামলা ও নির্বাচনী অফিস ভাংচুরের অভিযোগ করে চেয়ারম্যান কুদরত ই খুদা মিলনকে প্রধান আসামী করে গত ২৫ অক্টোবর মডেল থানায় মামলা করেন আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মাহবুবুল আলম মিলন।

এ প্রসঙ্গে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবু ছায়েম মিয়া বলেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মামলার সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের দায়িত্ব চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। মডেল থানার ওসি আবু ছায়েম মিঞা জানান, যেকোন সহিংসতা মোকাবেলা করার জন্য পুলিশ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।এব্যাপারে উপজেলা বিএনপি আহব্বায়ক স্বতন্ত্র প্রাার্থী মো,শাহাদাৎ হোসেনের সাথে যোযাযোগ করলে ফোন ধরেনি।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন আলী মন্ডল জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছে, তারা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্যকন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিনিধি এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সৈনিক। যারা নৌকা প্রতীকের বিপরীতে বিদ্রোহী হয়ে প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেছে তারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না। শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।