সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ- কুলাউড়ায় চাচার জমি দখলে মরিয়া ভাতিজারা


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬, ৭:১৩ পূর্বাহ্ন /
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ- কুলাউড়ায় চাচার জমি দখলে মরিয়া ভাতিজারা

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার টিলাগাঁও ইউনিয়নের আশ্রয়গ্রামে মৌরসী ও খরিদাসূত্রে ১ একরের বেশি জায়গা দখলের পায়তারা করছেন আপন ভাতিজারা। বুধবার বিকেলে আশ্রয়গ্রামের নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে ভাতিজাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আব্দুল মতলিব। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তারই ছেলে মো. হাবিবুর রহমান। এসময় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আশ্রয়গ্রাম মৌজার (জেএল নং ১২০, খতিয়ান নং ৪৬, ৪৭, ৪০১, ৩৩৯, ৩০, ২৬০) ১৪টি দাগে ৬০৩৮ নং দলিলমূলে মৌরসী ও খরিদাসূত্রে ভূমির মালিক আব্দুল মতলিব। প্রায় ৩০ বছর ধরে এই জায়গা ভোগ দখল করে আসছেন তিনি। কয়েক বছর থেকেই উক্ত জায়গা দখলে নেওয়ার পায়তারা করছেন তারই আপন ভাতিজা মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে সাইফুল ইসলাম, আল আমিন, বাবর আহমদ ও রুহুল আমিন। সর্বশেষ গত ৩০ আগস্ট সকালে উল্লেখিত জায়গায় পাকা ধান কাটার সময় সাইফুলের নেতৃত্বে পরিবারের সদস্যরা মিলে আব্দুল মতলিবের পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালায়। হামলায় আব্দুল মতলিবের এক মেয়ে ও এক ছেলে আহত হন। আহত মেয়ে আমেনা আক্তারকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল একই জায়গায় হাল চাষ করতে গেলে অভিযুক্তরা কাজে বাধা দিয়ে হামলা চালায়। কোনো কারণ ছাড়াই উল্লেখিত জায়গা অভিযুক্তরা দখলে নেওয়ার পায়তারা করে আসছে এবং আব্দুল মতলিবের পরিবারের সদস্যদের উপর হামলার প্রকাশ্যে হুমকি দেন।
২৮ এপ্রিল আব্দুল মতলিবের মেয়ে আমেনা আক্তার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ৫নং আমল আদালত মৌলভীবাজারে একটি অভিযোগ (সিআর মামলা নং ২৬৯/২৬, কুলাউড়া) দায়ের করেন। এতে মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে আল আমিন, বাবর আহমদ, সাইফুল ইসলাম ও রুহুল আমিনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদিকে আইনি সহায়তা এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১৮ মে কুলাউড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (নং ১০৩৬) করেন আব্দুল মতলিবের স্ত্রী রজিবুন বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মতলিব জানান, “আমার ভাতিজারা ক্ষেতের সময় হাল চাষ করতে বাধা দেয়। কিন্তু তাদের বাধার কারণে পাকা আউশ ধান ঘরে তুলতে পারছি না। ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তারা স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের রায় মানে না।”

সর্বশেষ সালিশ বৈঠকে আমি মৌরসী ও খরিদাসূত্রের দলিলপত্র বিচারকদের সামনে তুলে ধরলে অভিযুক্ত ভাতিজারা তাদের কোনো দলিলপত্র দেখাতে পারেননি। ফলে উক্ত জায়গা আমার বলে প্রতীয়মান হয়েছে। সালিশ বৈঠকে বিচারকরা উল্লেখিত জায়গা দখলে নিতে এবং কাজে কোনো ধরনের বাধা না দিতে অভিযুক্তদের বারণ করলেও সেই রায় তারা মানছে না। তিনি এব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

জানতে চাইলে টিলাগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত জানান, অবৈধ জমি দখলের পায়তারার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে আব্দুল জব্বারের ছেলেদের দাবি, তারা বিদেশ সংক্রান্ত ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা তাদের কাছে পান। কিন্তু বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিলে আব্দুল মতলিবের পক্ষ থেকে কোন সাড়া মেলেনি।