কুলাউড়ায় এনসিপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ : জেলার নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২৮, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন /
কুলাউড়ায় এনসিপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ : জেলার নেতাসহ গ্রেপ্তার ৫

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই গ্রুপের মাঝে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দলটির জেলা পর্যায়ের পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে কুলাউড়া পৌর শহরের বিছরাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন, মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির নেতা এহসান জাকারিয়া, মো. তোফায়েল আহমেদ, সাহেল আহমেদ, ফাহিম আহমদ জনি ও সোহাগ মিয়া।

জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির নেতা এহসান জাকারিয়া কুলাউড়া উপজেলা এনসিপির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমেদকে জেলা কমিটির পদ পাইয়ে দিতে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন তার কাছে। তামিম এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। বৃহস্পতিবার রাতে শহরের বিছরাকান্দি এলাকায় জেলা নেতা এহসান জাকারিয়া উপজেলা এনসিপির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমদকে অপহরণের চেষ্টা ও হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলে তামিমসহ ৭ জন আহত হন। রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তামিম আহমদ। অভিযোগে জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক এহসান জাকারিয়াকে প্রধান করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দলীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তামিম আহমদের পূর্ববিরোধ রয়েছে। জেলা কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য জেলা এনসিপির নেতা এহসান জাকারিয়া কুলাউড়া উপজেলা এনসিপির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমেদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর এহসান জাকারিয়া ও তারেক জামিল তাকে (তামিম) হত্যার হুমকি দিয়েছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার রাতে তামিম আহমেদ কয়েকজনের সঙ্গে মৌলভীবাজার থেকে বড়লেখার দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিছরাকান্দি এলাকায় পৌঁছালে এহসান জাকারিয়াসহ অভিযুক্তরা তাদের পথরোধ করেন। এসময় এহসান জাকারিয়া আবারও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার নেতৃত্বে তামিমকে জোরপূর্বক অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এমনকি তামিমের সাথে থাকা ব্যক্তিদের উপর হামলা চালানো হয়। হামলায় তামিমসহ সাতজন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ এগিয়ে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

জেলা এনসিপির আহবায়ক খাদেল আহমদ জানান, বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে দলীলভাবে তদন্ত করা হবে।

জানতে চাইলে কুলাউড়া থানার এসআই ফরহাদ মাতব্বর বলেন, ঘটনার পর এনসিপির পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের শুক্রবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।