
মাহবুবুল আলম
২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনের আড়ালে তথাকথিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নামে ডিপস্টেট, ইউনূস, জামায়াত-শিবির, বিএনপি, হেফাজত, চরমোনাই, জঙ্গিগোষ্ঠী এবং লন্ডনে নির্বাসিত তারেক রহমানের হাজার হাজার কোটি ডলার এবং দেশীয় টাকার মধ্যমে ম্যাটিকুলাইস ষড়যন্ত্রে ক্ষমতাচ্যুত ও নির্বাসিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আসার ঘোষণায় বাংলাদেশ, ভারতসহ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। হাসিনাবিরোধী শিবিরে
শুরু হয়েছে কাঁপন, চরম আতঙ্ক তাড়া করছে তাদের।
গত দুই বছর ধরে ভারতে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি আগামী ডিসেম্বরে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন এবং দেশে ফিরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে চান। তিনি রয়টার্সকে বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে, এমনকি ফাঁসিও দেওয়া হতে পারে, এটা জেনেও তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন”।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইন্যালের অপব্যবহার করে ক্যাঙারু আদালতের রায়ে ফাঁসির রায় মাথায় নিয়েই নিজ মাতৃভূমিতে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন
বাংলাদেশের ৫ বারের সফল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মৃত্যুভয়কে তুচ্ছ করে দেশত্যাগী শত শত নেতাকর্মীদের নিয়ে চলিত বছরেরর ডিসেম্বরে দেশে আসার ঘোষণায় বিএনপি-জামায়াত সরকারের সাজানো ক্ষমতার মসনদ কেঁপে ওঠেছে, লালবদর এবং আল-বদর-জামাত-শিবির রাতে ঘুমাতে পারছে না, রাতে ভয়ানক দুঃস্বপ্ন দেখছে; অন্যদিকে আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী, কোটি কোটি সমর্থক- শুভানুধ্যায়িদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মধ্যে ভেতরে ভেতরে চলছে সাংগঠনিক
নেত্রীকে বরণ করে নেয়ার তুমুল প্রস্তুতি। গত দুই বছর
ধরে হামলা, মামলা, মব সন্ত্রাসী সরকারের অমানবিক ও
অসহনীয় অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেও তাদের নেত্রীর
দেশে ফেরার ঘোষণায় সবার মাঝে নতুনভাবে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।
বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ও নেতারা বলছেন দেশে পৌঁছামাত্র তাকে সরাসরি বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, তিনি ফিরে এলে তাকে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কারাগারে যেতে হবে ভোটারবিহীন ও সন্ধ্যাভোটের নির্বাচনে সাজানো সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ এবং এনসিপি’র (জামায়াতের সি-টিম) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আরেক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে ‘কেবলমাত্র ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য’। তবে আশ্চর্যের বিষয় শেখ হাসিনার দেশে
ফেরা নিয়ে জামায়াত নেতারা তেমন উচ্চবাচ্য করছে না।
আর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকাশ্যে কিছু না বলেও
ভেতরে ভেতরে যে তার মধ্যেও অস্থিরতা বিরাজ করছে
১৯ জুলাই সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে
যমুনায় নৈশভোজের আড়ালে শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে
কৌশল নির্ধারণ করার জন্য তা করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। শুধু তা ই নয়
২৩ জুলাই ২০২৬ হঠাৎ করে তারেক রহমানকে দেশের রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে কৌশলে সরিয়ে দিয়েছেন। অনেকেই বলছে কৌশলে নয় পদত্যাগ পত্র তৈরি মব করে রাষ্ট্রপতি চুপ্পুুর দস্তখত নেয়া হতে পারে। কারণ শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সাথে সাথে প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন
যদি জামায়াতের ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী আজহারুল ইসলামের মত নির্বাহী আদেশে শেখ হাসিনার সাজানো আদালতের ফাঁসির দণ্ড মওকুফ করে দেয়, তবে দেশে গণ-অভ্যুত্থানের হয়ে যেতে পারে। এই ভয়েই তারেক রহমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগে বাধ্য
করেছেন।
কিন্তু সরকার কীকরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ঠেকাবে
এটাই এখন মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন? কেননা, ইউনূসের
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু কর্মকান্ড শেখ হাসিনার
দেশে ফেরার পথকে সুগম করে গেছেন সে সময় যাদের ফাঁসির আদেশ ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মওকুফ করে দিয়ে গেছেন তা নিচে তুলে ধরা হলো:
সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ডের পরও এরা বহাল তবিয়তে রাজনীতি
করছে। যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানে পলাতক ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার ২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর
আদালতে আত্মসমর্পণের পর কোনো জামিন ছাড়াই
দিব্যি রাজনীতি করে বেড়াচ্ছেন। আর এক ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী জামায়াত নেতা- আজহারুল ইসলাম সন্ধ্যাভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বড়গলায় কথা বলছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত এবং আরেক মামলায় সাত বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই ইউনূসের আমলে আদালতের সাজা বাতিল করে দিব্যি দেশ শাসন করছেন। তাহলে শেখ হাসিনার বেলায় এর ব্যত্যয় হবে কেন?
তাছাড়া এটাই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করে শেখ হাসিনার প্রথম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নয়। এর আগে ১৯৮১ সালে ১৭ মে শেখ হাসিনা অলিখিত নিষিদ্ধ থাকার পরও দেশ-বিদেশের চাপে প্রথম স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।
দেশে তখন জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসন বহাল, বাক-স্বাধীনতা স্তব্ধ, গণতন্ত্র বন্দী বন্দুকের নলে মুখে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকান্ডের পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্বশূন্য, বিপর্যস্ত ও দিশেহারা। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপরেই শাসকের রক্তচক্ষু, হুমকি-ধামকি উপেক্ষা করেই ১৭ মে ১৯৮১, শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তাঁর সেই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল টাকা বিমানবন্দরে। তাঁকে বহনকারী বিমান যখন ঢাকায় অবতরণ করে, তখন তীব্র ঝড়-বৃষ্টির উপেক্ষা করে লাখো মানুষ শেখ হাসিনাকে বরণ করতে হাজির হয় বিমানবন্দরে। মানুষের চোখেরজল ও প্রবল বৃষ্টিতে সেদিন তাঁকে বরণ করে নিয়েছিল অধিকার বঞ্চিত দেশের লাখো মানুষ। মানুষের ভির ঠেলে বিমানবন্দর থেকে ধানমন্ডি পৌঁছাতে সেদিন শেখ হাসিনার সময় লেগেছিল সাড়ে ৩ ঘন্টার মত।
১৯৮১ সালের ১৮ মে, বিবিসি ও এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আজকের মতোই শেখ হাসিনা বলেছিলেন,”আমি গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য ফিরে এসেছি। আমি জানি সামনে অনেক বাধা, আমি মৃত্যুকেও ভয় পাই না।”
শেখ হাসিনার দ্বিতীয় স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল ১/১১ সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। তীব্র গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া সরকারের পতন
হলে; নানান ষড়যন্ত্রের পর ক্ষমতায় আসে তিন উদ্দিনের
( মঈন উদ্দিন, ফখরুদ্দিন ও ইয়াজ উদ্দিন) সরকার। তারা ক্ষমতা দখল করে দীর্ঘ মেয়াদে শেষ শাসনের অভিলাসে বিরাজনীতিকরণের খেলায় মেতে উঠে। তখন
শেখ হাসিনা একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত
কানের চিকিৎসা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরতে চাইলে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তাঁর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কোনো এয়ারলাইন্স যাতে শেখ হাসিনার বোর্ডিং না করে সে জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এয়ারলাইন্সকে সরকার চিঠি দেয়। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার ঐকান্তিক দৃঢ়তা ও গণতন্ত্রকামী দেশবাসীর চাপে শেষ পর্যন্ত জরুরী অবস্থার মধ্যেও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয় সেনাশাসিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। ২০০৭ সালের ৭ মে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখান করে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন তিনি। সেদিন ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এসে পৌঁছলে লাখো জনতা তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়। এখানে উল্লেখ্য যে মুক্তিযুদ্ধ
চলাকালেও পাকিস্তানি সরকার তাদের হাতে বন্দী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল।
তাঁর সেলের পাশে কবর খোড়া হয়েছিল। তবু ভারতের
ইন্দিরা গান্ধী সরকার ও আন্তর্জাতিক চাপে বঙ্গবন্ধুকে
ফাঁসি দিতে পারেনি পাকিস্তান সরকার।
এছাড়াও বিশ্ব ইতিহাসে ফাঁসির রায়ের পরও অনেক রাজনীতিবিদ ফাঁসির দড়ি থেকে রক্ষা পেয়ে রাজনীতিতে ফিরে এসেছিলেন তাদের মধ্যে-
১৯৬২ সালে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া নেলসন ম্যান্ডেলাকে দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর পর মুক্তি পেয়ে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করেন এবং পরবর্তীতে দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হন।
১৯৮০ সালে দঃ কোরিয়ার কিম দায়ে-জুং কে সামরিক একনায়কতন্ত্রের সময় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক চাপের কারণে তার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করতে হয়েছিল।
তুরস্কের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট সেলাল বায়ার ১৯৬০ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর বিচারে রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে অভিযুক্ত হন এবং ১৯৬১ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তাঁর বয়স বিবেচনায় তৎকালীন সরকার মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিণত করে। ১৯৬৬ সালে তিনি সাধারণ ক্ষমা পেয়ে মুক্তি পান এবং পরবর্তীতে তুরস্কে রাজনৈতিক পুনর্বাসন লাভ করেন।
আর্জেন্টিনার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুয়ান পেরোন ১৯৫৫ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে নির্বাসনে যান। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ নানা অভিযোগ আনা হয় এবং বেশ কয়েকবার তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়। আইনি জটিলতা ও নির্বাসন কাটিয়ে ১৯৭৩ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে পুনরায় আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
তুরস্কের সাবেক এই প্রেসিডেন্ট জালাল বায়ার ১৯৫০ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর তাকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে বিচার করা হয় এবং ১৯৬১ সালে আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। পরবর্তীতে তার বয়স বিবেচনায় সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ১৯৬৬ সালে তিনি মুক্তি পান। এরপর তিনি রাজনীতিতে ফিরে আসেন এবং ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত তুর্কি সিনেটের আজীবন সদস্য হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।
মধ্য আফ্রিকার স্বৈরশাসক জঁ-বেদেল বোকাসা ১৯৭৯ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হন। ১৯৮৬ সালে তিনি স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আসেন, যার ফলে তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাতিল হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। এরপর তিনি মুক্তি পান এবং ১৯৯৬ সালে স্বাভাবিক মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাজনীতিতে নিজের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করেন।
কাজেই এটা বলা নিশ্চয় সংগতিপূর্ণ যে শেখ হাসিনা
ফিরে এলে তাকে ফাঁসিতে ঝোলানো এত সহজ নয়।
এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক চাপ এবং দেশের ভেতর কোটি কোটি মানুষের জানবাজী আন্দোলনকে উপেক্ষা করা
কারো পক্ষেই সম্ভব নয়!
জন্মলগ্ন থেকে গণমানুষের দল আওয়ামী লীগ দেশি- বিদেশি কায়েমি স্বার্থবাদী ও ষড়যন্ত্র কারীদের ষড়যন্ত্রে বারবার বিপর্যয়ে পড়েছে। দলের ভেতর বিভক্তি ও ভাঙ্গন এসেছে ১৯৫৭, ১৯৬৩ ও ১৯৬৭ সালে। এ-সময়ে অনেক জ্যৈষ্ঠনেতা দল ছেড়ে চলে গেছেন। তাতে আওয়ামী লীগ সাময়িকভাবে দূর্বল হলেও কখনো হতোদ্যম হননি, ভেঙে পড়েনি। ১৯৬৬ সালে ৬- দফা ঘোষণা করে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিনত হয়। দলের মধ্যে তৈরি হয় দৃঢ় ঐক্য ও সংহতি। এই ঐক্য ও সংহতির দুইটি বৈশিষ্ট্য ছিল। প্রথমতঃ দলের প্রধান নেতা শেখ মুজিবুরের প্রতি দেশজনতার প্রশ্নাতীত আস্থা ও আনুগত্য এবং দ্বিতীয়তঃ দলটিকে তৃণমূলে সংগঠিত করতে পারা।
দলটির এ সংগঠিত ঐক্য এবং দৃঢ় আনুগত্যই তাদের
তাদের বড় শক্তি। এ শক্তিবলেই আওয়ামী লীগ বার বার ক্ষমতায় ফিরে এসেছে। আর নিষিদ্ধের প্রশ্নে একথা বলা যায় এই দলটি এবারই শুধু নিষিদ্ধ হয়নি আইয়ুব ইয়াহিয়ার আমল স্বাধীন বাংলাদেশে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমলেও নিষিদ্ধ হয়েছে।
যাক এখন দেখার বিষয় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার মতো জনপ্রিয় নেতার কীভাবে ফাঁসির রায় কার্যকর করে। কারণ বাংলাদেশে শেখ হাসিনার দল আওয়ামিলীগের প্রায় পয়তাল্লিশ থেকে ৫০-৫৫% ভোটার রয়েছে। বর্তমানে শেখ হাসিনার
জনপ্রিয়তা ৭০%। এমতাবস্থায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে
কোনো উল্টাপাল্টা ব্যবস্থা নিলে দেশে গৃহযুদ্ধের মতো বিষয় ঘটলে তা কী এ সরকার সামাল দিতে
পারবে? তবে শেখ হাসিনা ফিরে আসার ঘোষণা সরকারের ভেতরে-বাইরে যে চাপ ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়। এতদিন যারা জোর গলায় তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর কথা বলে গলা ফাটিয়েছে তাদের মনে আশঙ্কা শেখ হাসিনা ফিরলে তাদের কী হবে? কোথায় যাবে, কোথায় পালাবে? এছাড়া দেশে ফিরেই শেখ হাসিনা আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের আবেদন করেন তাকে আপিল করার সুযোগ দিতেই হবে। আর আপিল করার সাথে সাথে শেখ হাসিনাকে দেয়া ফাঁসির রায় স্থগিত হয়ে যাবে। তারপর…
তারপর কী হবে তা দেশবাসী নিজের চোখেই দেখবে।
লেখক: কবি-কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট,
প্রাবন্ধিক ও গবেষক।
২১ জুলাই ২০২৬
হ্যামট্রামিক, মিশিগান, যুক্তরাষ্ট্র
আপনার মতামত লিখুন :