প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ ঐক্য পার্টির স্মারকলিপি


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ন /
প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ ঐক্য পার্টির স্মারকলিপি

স্টাফ রিপোর্ট 

১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার বাংলাদেশ ঐক্য পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আবদুর রহীম চৌধুরী, তাদের দলের ফর্মূলা গ্রহণপূর্বক দেশকে শান্তির জনপদে পরিণত করার আহবান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, থার্ড ওয়ার্ল্ড থেকে ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডে দেশকে উন্নীত করণসহ শান্তির জনপদে পরিণত করতে রাজনীতিবিদরাসহ সরকার যাতে চেষ্টা চালায় সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ঐক্য পার্টি ছয় বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখিত বাকী বিষয়গুলো হুবহু তুলে ধরা হল।

“আর কতো অপেক্ষা! আর কতো ষড়যন্ত্র! আর কতো ধর্ষণ, হত্যা, রক্তপাত, জুলুম? দেশের প্রধান নির্বাহী empathetic হয়ে, নিজের ও নিজের পরিবারের সদস্যদের উপর উপরোক্ত জুলুম হচ্ছে -এরকম অনুভব করে কার্যকর উদ্যোগ নিলে এসব অপরাধ প্রায় শূন্যের কোটায় আসতে বাধ্য। কবে পাবো আমরা সেই রকম রাজা! যখন জনগণ মনে করবে, আমরা সবাই রাজা, রাজার রাজত্বে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে আপনার এরকম রাজা হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এমনকি আপনি চাইলে মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদ কিংবা সিঙ্গাপুরের লিকুয়ান ইউকেও ছাড়িয়ে যেতে পারবেন। বিএনপির প্রতি পক্ষপাতিত্ব না করে শতভাগ সৎ ও কৌশলী হয়ে দল, মত, ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে ন্যায্যতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করা আপনার জন্য এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা করা গেলে সবার রাজনীতি প্রায় শেষ হয়ে যাবে। তখন জনগণ অতীতের সকল রাজনীতিবিদদের চেয়ে আপনাকেই সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় ভাববে। এই জনপ্রিয়তা এমন হবে যে আপনার প্যারেন্টস জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকেও ছাড়িয়ে যাবেন। ৭১ এ আমরা স্বাধীন হয়েছি, ৭১ এর আগের চেয়ে অনেক ভালো থাকার আশা নিয়ে। কিন্তু সেই ভালো ৫৫ বছর ধরে থাকতে কি পারছি? আমরা রাজনীতিবিদরা সঠিক রাজনীতির পরিবর্তে অপরাজনীতি করার কারণে পালাক্রমে ক্ষমতাসীনরা ব্যতীত দেশের সিংহভাগ মানুষ অশান্তি ও আতংকের মধ্যে থাকে। যত দিন এই অবস্থার অবসান না হবে ততদিন দেশের সমস্যা খারাপ থেকে খারাপতর হতে থাকবে। দেশ ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার দিকে দ্রুত ধাবিত হবে।আপনার এই আমলে বাংলাদেশ ব্যাংক মাত্র তিন মাসের হিসাব করে দেখিয়েছে যে কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে ৫ হাজার জন। ব্যাংক এর হিসেবের বাইরে তা কয়েকগুণ বেশী হবে। আপনার প্রধানমন্ত্রীত্বের বাকী সময়ে কোটিপতি আমানতকারী লাখ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। তার মানে এক সরকার বিদায় নিয়ে আরেক সরকার আসলে, আমরা ৫৫ বছর ধরে দেখতে পাচ্ছি যে, অনিয়ম, দুর্নীতির কোনো পরিবর্তন হয় না, শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন হয়। শুধুমাত্র এক ব্যক্তির স্থলে অন্য ব্যক্তি আসা ছাড়া দেশের উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন কি হচ্ছে? মূল সমস্যার জায়গায় পরিবর্তন না হয়ে ছোটো খাটো পরিবর্তন ও সংস্কারগুলোকে সামগ্রিকভাবে পরিবর্তন কিংবা কল্যাণ বলা যায় না।দেশের সার্বিক অবস্থা ভালোর দিকে নাকি খারাপের দিকে? দেশের মাথাপিছু আয় বাড়ছে না কমছে? বৈদেশিক ঋণ আমাদের কতো? আমরা কি আজীবন ঋণের ভারে জর্জরিত থেকে চরম আত্মমর্যাদাহীন দেশ হিসেবে থাকবো, নাকি স্বাবলম্বী হবো? আমরা দেশবাসী আপনার থেকে সত্যিকার আশা জাগানিয়া বক্তব্য শুনতে চাই। আপনার বিগত সাত মাসে আশা জাগানিয়া কিছু জনগণ দেখতে পাচ্ছে না। আপনার এই সাত মাসকেও অতীতের সকল সরকারগুলোর অব্যবস্থাপনার অংশ ধরে অতীতের সরকার থেকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ কী পেলেন, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের বোঝা কতো, কোন কোন সেক্টরে কী কী সমস্যা তথা উত্তরাধিকার সূত্রে যত সমস্যা পেলেন, সেসবের তথ্য মন্ত্রী-সচিবদের কাজে লাগিয়ে বের করুন। সমস্যাগুলো কাটানোর পাশাপাশি দেশকে তৃতীয় বিশ্বের দেশ থেকে উন্নত বিশ্বের একটি দেশে রূপান্তরে আপনার পরিকল্পনার রোড ম্যাপ তৈরী করুন। এরপর অতীতের বিষয় আর ঘাটাঘাটি না করে এবং জনগণ বাস্তবে কী পেতে যাচ্ছে – তার অকপট বক্তব্য দেশবাসীকে শোনান৷ উন্নয়নের রোড ম্যাপ বাস্তবায়নে অপেক্ষাকৃত যোগ্য ব্যক্তি যে দলেরই কিংবা ধর্মেরই হোক না কেনো তাকে নিতে হবে। অন্যদিকে সকল অনিয়মে জিরো টলারেন্স এমনকি নিজের পিতা কিংবা সন্তান দুর্নীতি করলেও বিন্দুমাত্র ছাড় পাবে না এরকম আন্তরিক ঘোষণা থাকতে হবে। উপরোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে ১ নভেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করুন। আশ্বাস মতো শতভাগ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সর্বজনীন হয়ে দেশ চালালে অন্যদের (আওয়ামীলীগ ও জামায়াতের) রাজনীতি অপ্রাসঙ্গিক হতে বাধ্য। অন্যথা অসাংবিধানিক কারো ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা ক্ষান্ত হবে না। সাংবাদিক ইলিয়াস হোসাইন এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। তাদেরসহ বর্তমানে আপনার বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছে, সকলের গোপন ও প্রকাশ্য রাজনীতি অনেকটা নাই হয়ে যাবে, যদি আপনি বাংলাদেশ ঐক্য পার্টির সর্বজনীন ফর্মূলা গ্রহণ করেন। আমার পদ-পদবী ক্ষমতার দরকার নেই। আমাদের ফর্মূলা যে কারো নেতৃত্বে বাস্তবায়ন হোক-সেটা আমি ছয় বছর ধরে বলে আসছি। বর্তমানে আমাদের ফর্মূলা বাস্তবায়নে আপনি সবচেয়ে বেশী যোগ্য ব্যক্তি। আপনি চাইলে আমি নিঃস্বার্থভাবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আপনাকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করতে প্রস্তুত রয়েছি।

২৪ এর আন্দোলন সাংবিধানিক ছিল না, তদ্রূপ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এর ক্ষমতা গ্রহণের নিকটবর্তী পূর্বের ঘটনাও সাংবিধানিক ছিল না। সেসবের ধারাবাহিকতায় আপনার পিতা ক্ষমতায় এসেছিল। জনগণ কিংবা কোনো গোষ্ঠী সরকারের ব্যর্থতাকে এজেন্ডায় এনে সরকারের পতন ঘটালে সেটার জন্য সরকারও কি দায়ী নয়? আপনার পিতার ক্ষমতায় আরোহনকে দেশের প্রায় অর্ধেক জনগণ অসাংবিধানিক মনে করলেও আপনার পিতার সবাইকে নিয়ে উন্নয়নের রাজনীতি করার কারণে ভালো ইমেজ গড়ে উঠায় আপনার মা বারে বারে এবং আপনি এবার প্রধানমন্ত্রী হতে পেরেছেন। কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনায় আপনি ব্যর্থ হতে থাকলে অসাংবিধানিকভাবে অনেকে সে সুযোগ কাজে লাগাবে। আপনার কাছে তা অসাংবিধানিক হলেও দেশের জনগণের একটা বৃহৎ অংশের কাছে সঠিক মনে হবে যেরকম ২৪ এর আন্দোলন, ৭৫ এর পট পরিবর্তন সঠিক বলে দেশের জনসংখ্যার একটি বৃহৎ অংশ মনে করে থাকে। জন্ম হোক যতা তথা কর্ম হোক ভালো। আপনার পিতার কর্মের সুনামে আপনি এখন প্রধানমন্ত্রী কিন্তু আপনার ব্যর্থতায় অনাগত ভবিষ্যতে সত্যিকারভাবে আপনার পিতার চেয়ে বেশী ভালো করার মানসে কিংবা কপটতা নিয়ে কেউ অসাংবিধানিকভাবে এগিয়ে আসলে সেটার দায় আপনিও এড়াতে পারবেন না তাই বাংলাদেশ ঐক্য পার্টির ফর্মূলা গ্রহনপূর্বক দেশকে আসন্ন বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য আপনাকে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।”