তেঁতুলিয়ায় দুই অভিযানে ৫৮ বস্তা সার জব্দ


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ৯:৪৫ অপরাহ্ন / ০ Views
তেঁতুলিয়ায় দুই অভিযানে ৫৮ বস্তা সার জব্দ

খাদেমুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পৃথক দুই অভিযানে অবৈধভাবে পরিবহন ও মজুদ করা মোট ৫৮ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় তিন ভ্যানচালক ও এক সার ব্যবসায়ীকে মোট ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়ন থেকে তিনটি ভ্যানে করে রাসায়নিক সার শালবাহান হাটে নিয়ে আসার সময় স্থানীয় বাজারের লোকজন ভ্যান তিনটি আটক করেন। পরে সার থাকার বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনোয়ার হোসাইনকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে ইউএনও মো. আনোয়ার হোসাইন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবরিনা আফরিন এবং তেঁতুলিয়া মডেল থানার কর্মকর্তা লাইছুর রহমান পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় তিনটি ভ্যান থেকে মোট ৩৫ বস্তা সার জব্দ করে উপজেলা পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়।

আটক ভ্যানচালকদের মধ্যে রয়েছেন—তেঁতুলিয়ার নারায়ণজোত গ্রামের মৃত জকিম উদ্দিনের ছেলে মো. আক্তারুল (৪০), ফুটকিবাড়ী গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে মো. সাহেদুল (৩০) এবং নারায়ণগছ গ্রামের মৃত জহর আলীর ছেলে মো. ছানোয়ার হোসেন (৪০)।

সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী প্রত্যেক ভ্যানচালককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই ঘটনায় সার সরবরাহকারী রেশমা ট্রেডার্স, তিরনইহাটের ম্যানেজার শাকিল হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উভয় পক্ষের কাছ থেকে মোট ৪৫ হাজার টাকা নগদে আদায় করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে ভ্যানচালক ছানোয়ার হোসেন জানান, তিরনইহাট এলাকার রিপনের বাড়ি থেকে সারগুলো ভ্যানে তুলে শালবাহান হাটের ধানবাজার এলাকার হারুনের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছিল। স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হারুন একজন মুদি দোকানদার এবং তার একটি চা-বাগান রয়েছে।

এদিকে একই রাতে অবৈধভাবে মজুদ করা সারের সন্ধানে পৃথক অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। রাত সাড়ে ১১টা থেকে রাত ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম আকাশ তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তিরনইহাট ইউনিয়নের মানিক ইসলামের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানে ওই বাড়ি থেকে ২৩ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে পটাশ ৪ বস্তা, বিআরবি ডাব ১১ বস্তা এবং টিএসপি ৮ বস্তা রয়েছে। অভিযানের সময় মানিক ইসলামসহ বাড়ির লোকজন পলাতক থাকায় কাউকে গ্রেপ্তার বা জরিমানা করা সম্ভব হয়নি।

এরপর বকশিপাড়া গ্রামের মো. নাঈম ও মো. নাজমুলের বসতবাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। তবে সেখানে কোনো অবৈধ সার পাওয়া যায়নি। দুই অভিযানে জব্দ করা মোট ৫৮ বস্তা সার উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন জানিয়েছেন, জব্দকৃত সার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে সাধারণ কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে।

উপজেলা প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধভাবে সার মজুদ ও পরিবহন বন্ধের পাশাপাশি প্রকৃত কৃষকদের সারপ্রাপ্তি নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।