কমলগঞ্জে ২২টি চা বাগানের শ্রমিক ও গ্রামের ভোটারা গণভোট কী জানেন না


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৮, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন /
কমলগঞ্জে ২২টি চা বাগানের শ্রমিক ও গ্রামের ভোটারা গণভোট কী জানেন না

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি :

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোট সামনে রেখে এরই মধ্যে সরকারের তরফ থেকে শুরু হয়েছে প্রচারণা। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ভোটের গাড়ি। তবে এই প্রচারণা সীমাবদ্ধ রয়েছে কেবল জেলা শহর পর্যন্ত। গণভোট যতটা গুরুত্বপূর্ণ ততটাই তা বিস্ময় হয়ে এসেছে ভোটারদের কাছে। মূলত গণভোট নিয়ে অজ্ঞতাই এর কারণ।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ২২টি চা-বাগানের ভোটার এবং গ্রামগঞ্জের সাধারণ ভোটাররা এখনো গণভোট কী, তা-ই বুঝে উঠতে পারেননি। গণভোট কিসের জন্য, তাও জানেন না তাঁরা। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিয়ে কাজ করার ঘোষণা দিলেও এখনো তা দৃশ্যমান হয়নি।

জানা গেছে, দেশের চাবি আপনার হাতে’ শ্লোগানে সাংবিধানিক গণভোটকে সামনে রেখে এরই মধ্যে জনসচেতনতা কার্যক্রম ও প্রচার শুরু করেছে অর্ন্তর্বতীকালীন সরকার। তবে এই প্রচার শুধু সীমাবদ্ধ রয়েছে জেলা শহর পর্যন্ত। ফলে চা বাগানের সাধারণ ভোটার ও গ্রামাঞ্চলের ভোটাররা গণভোট কী তা বুঝে উঠতে পারছেন না। তারা গণভোট কী ও কী বিষয়ে ভোট হচ্ছে তাও জানেন না। ফলে অনেকটা না বুঝেই এই ভোট দিতে হবে তাদের। গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনগণকে ধারণা দিতে দেশের জনবহুল জায়গাগুলোয় ডিজিটাল বিলবোর্ড স্থাপন করে সরকারি উদ্যোগে প্রচারণা চলছে। মৌলভীবাজার জেলা শহরেও চলছে এ প্রচারণা। তবে ভোটের গাড়ি পৌঁছায়নি উপজেলা কিংবা গ্রামগঞ্জগুলোয়। এতে করে গণভোটের বিষয়ে জানার সুযোগ পাচ্ছেন না চা শ্রমিক ও প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ।

কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর, কানিহাটি, মাধবপুর, আলীনগরসহ কয়েকটি চা-বাগান ঘুরে বেশ কয়েকজন নারী ভোটারের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, তাঁরা শুধু জানেন, ফেব্রুয়ারিতে এমপি ভোট হবে। অনেক প্রার্থীই তাঁদের কাছে গিয়ে ভোট চেয়েছেন। তবে গণভোট নিয়ে কেউ কথা বলতে যাননি। ফলে গণভোট কী এবং কিসের জন্য, তা তারা জানেন না।

আলাপকালে সুমী রানী রবিদাস, নাছরানা র‌্যালি ও নন্দিতা রবিদাস নারী ভোটার বলেন, ‘আমরা কখনো গণভোট দেইনি। এই সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি যে “হ্যাঁ” বা “না” ভোট হবে, তা আমরা জানি না। আমাদের কেউ গণভোট দেওয়ার কথা বলেনি বা কীভাবে এই ভোট দেব, তা কেউ জানায়নি। যাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, সবাই এমপি ভোটের (সংসদ নির্বাচন) কথা বলেছেন।’

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা তথ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই প্রচারণা পিআইবি থেকে চালানো হচ্ছে। যতটুকু জানি, শুধু জেলা শহরে এ প্রচারণা হবে। উপজেলা পর্যায়ে হবে না।
মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা তৌহিদুজ্জামান পাভেল গণভোট নিয়ে ব্যাপক প্রচারনা ও মাইকিং করা হবে। প্রতি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তারা প্রতিটি ওয়ার্ডে ভোটারদেরকে সচেতন করবেন।