নুরুজ্জামান ফারুকী হবিগঞ্জ থেকে।
ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ঊর্ধ্বতন ২৭ জন সেনা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এ বৈঠকে দেশকে স্বাধীন করার শপথ এবং যুদ্ধের রণকৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গণকে ১১টি সেক্টর ও ৩টি ব্রিগেডে ভাগ করা হয়েছিল। ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অনেক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
সেদিন সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কর্ণেল এম এ জি ওসমানী, লেঃ কর্ণেল সালেহ উদ্দিন মোহাম্মদ রেজা, মেজর কে এম সফিউল্লাহ, মেজর খালেদ মোশারফ, মেজর কাজী নুরুজ্জামান, মেজর মঈনুল হোসেন চৌধুরী, মেজর নুরুল ইসলাম, মেজর সাফায়েত জামীল, মেজর সি আর দত্ত প্রমুখ। অস্ত্রের যোগান, আন্তর্জাতিক সমর্থনসহ গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এই সভায়।
প্রতি বছর ৪ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলা ও মাধবপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ৭১ সালের ৪ এপ্রিল জেনারেল এম জি ওসমানীর নেতৃত্বে নেওয়া হয় মুক্তিযুদ্ধের সর্বাত্মক প্রস্তুতি। শপথ বাক্য পাঠ করানোর পর নিজের পিস্তল থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার শপথের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন এম এ জি ওসমানী।
৩নং সেক্টর কমান্ডার মেজর কে. এম শফিউল্লাহ্ তার হেড কোয়ার্টার স্থাপন করেন তেলিয়াপাড়া চা বাগানে। সড়ক ও রেলপথে বৃহত্তর সিলেটে প্রবেশের ক্ষেত্রে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়ার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। এখান থেকে মুক্তিবাহিনী বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করা ছাড়াও তেলিয়াপাড়া চা বাগানে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে উঠে। জেনারেল এমএজি ওসমানীসহ কয়েকটি সেক্টরের কমান্ডারগণ বিভিন্ন সময়ে তেলিয়াপাড়া সফর করেন। ম্যানেজার বাংলোসহ পাশের এলাকা ছিল মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সেনা নায়কদের পদচারণায় মুখরিত। ১৯৭১ সালের ২১ জুনের পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণের কারণে তেলিয়াপাড়া চা বাগানে স্থাপিত সেক্টর হেড কোয়ার্টার তুলে নেওয়া হয়।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ২, ৩ ও ৪নং সেক্টরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে তেলিয়াপাড়া চা বাগান ম্যানেজার বাংলোর পাশে নির্মিত হয় বুলেট আকৃতির মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্মৃতিসৌধ। ১৯৭৫ সালের জুন মাসে এ স্মৃতিসৌধের উদ্বোধন করেন সেনাপ্রধান (অব.) মেজর জেনারেল শফিউল্লাহ বীর উত্তম পিএসসি। তেলিয়াপাড়া ঐতিহাসিক ৪ এপ্রিলের মিটিং এর স্মৃতি হিসেবে মেহেরপুরের মুজিবনগর রয়েছে ভাস্কর্য।
মাধবপুর উপজেলার স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা দাবি করেন, তেলিয়াপড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান স্মৃতি বিজড়িত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। অবশ্যই এটিকে সংরক্ষণ করতে হবে। অবিলম্ভে সেখানে রেস্ট হাউজ নির্মাণসহ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণের দাবি জানান। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে ঐতিহাসিক বাংলোটিতে জাদুঘর করাসহ সরকারিভাবে দিবসটি পালন করার দাবি তাদের।
মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এবারও প্রতিবছরের মত কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তেলিয়াপাড়া স্মৃতি সৌধে সকাল ১১টা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
আপনার মতামত লিখুন :