আব্দুল কুদ্দুস:
রাজনীতির উর্বর স্থান মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলা। এই উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে মৌলভীবাজার-২ সংসদীয় আসন। চা বাগান ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অধ্যুষিত কুলাউড়া উপজেলা। সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বরাবরই আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টির প্রার্থী এমপি নির্বাচিত হন। ৫ আগস্ট গণ অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গা ঢাকা থাকলেও এখানকার মাঠে রয়েছে বিএনপি ও জামায়াত। ইতোমধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সিলেটের একটি কর্মীসভায় সিলেট বিভাগের সবকটি আসনে আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হচ্ছেন জেলা আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলী। তার গ্রামের বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের আশ্রয়গ্রামে। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে উপজেলার সর্বত্র জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে উৎসাহ উদ্দীপনা বাড়ছে। এরই মধ্যে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের পরদিন কুলাউড়া আসছেন দলের কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি কুলাউড়ার ঐতিহাসিক ডাকবাংলো মাঠে ঈদ পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কেন্দ্রীয় আমীরের বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে হওয়ায় এবং তিনি দলের কেন্দ্রীয় আমীর নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ এলাকা কুলাউড়ায় এটি তার প্রথম জনসভা। কেন্দ্রীয় আমীরের সভাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীরাও অনেকটা চাঙা হয়ে উঠছেন। মূলত আগামী সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এই ঈদ পুনর্মিলন অনুষ্ঠান বলে অনেকেই ধারণা করছেন। কেন্দ্রীয় আমীরের কুলাউড়া সফর উপলক্ষে
ঈদ পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে অন্তত ১৫ সহস্রাধিক লোক জড়ো হওয়ার কথা রয়েছে বলে দলীয় একটি সূত্রে জানা গেছে। গত কয়েকদিন ধরে জামায়াত, ছাত্রশিবির ও শ্রমিক ফেডারেশনের উপজেলা নেতৃবৃন্দ পৌরসভাসহ প্রত্যেক ইউনিয়নে কর্মী শিক্ষা শিবির ও ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা করে আসছেন।
ইতোমধ্যে উপজেলা ও পৌর জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানস্থল কুলাউড়া ডাকবাংলো মাঠ পরিদর্শন করেছেন। কেন্দ্রীয় আমীরের সফর নিয়ে উপজেলার সর্বত্রই এখন সাজ সাজ রব। রয়েছে মানুষেদের মাঝে উৎসবের বাড়তি আমেজ। এসকল সাজ ও উৎসবের মূলে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের আগমন।
কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম খান বলেন, আমীরে জামায়াতের আগমন উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় বিতরণ করা হয়েছে লিফলেট। তাছাড়া বেশ কিছু দিন ধরে চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। পাড়া-মহল্লা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও হাট বাজারে করা হয়েছে প্রস্ততি সভা। ঈদ পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন উপজেলা জামায়াতের আমীর সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল মোন্তাজিম।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল মুন্তাজিম বলেন, ঈদের পরদিন কুলাউড়া ডাকবাংলো মাঠে জামায়াতে ইসলামীর ঈদ পুনর্মিলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ওইদিন আমীরে জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলন অনুষ্ঠান সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
তিনি প্রত্যাশা নিয়ে বলেন, ওইদিন ঈদ পুনর্মিলন অনুষ্ঠানে ১৫ সহস্রাধিক কর্মীর সমাগম ঘটবে। এটি হবে কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের স্মরণকালের জনসমাগম। দীর্ঘ কয়েক বছর পর কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের এই ঈদ পুনর্মিলন অনুষ্ঠান ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ।
আপনার মতামত লিখুন :