মালেয়শিয়ায় পাচারকালে সাগর থেকে ৫৭ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : মার্চ ২৭, ২০২২, ১:১৪ পূর্বাহ্ন /
মালেয়শিয়ায় পাচারকালে সাগর থেকে ৫৭ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব

মঈনুদ্দীন শাহীন কক্সবাজার থেকে

মালয়েশিয়া পাচারের সময় উখিয়ার সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা থেকে ট্রলারসহ মানবপাচারকারী চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব-১৫। এ সময় আটককৃত ট্রলার থেকে নারী শিশুসহ ৫৭ জন রোহিঙ্গা ও ১ জন স্থানীয় নাগরিককে উদ্ধার করা হয়।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫ জানতে পারে যে, কক্সবাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মানব পাচারকারীরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প হতে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে চাকুরী দেওয়ার নাম করে মালেয়শিয়া সহ পাশ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে পাচার করে আসছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে মানব পাচারকারীদের আইনের আওতায় আনার প্রেক্ষিতে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় র‌্যাব এর গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়।

এরই প্রেক্ষিতে র‌্যাব-১৫ এর একটি আভিযানিক দল জানতে পারে যে, কতিপয় মানবপাচারকারী কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানাধীন জালিয়াপালং ইউপিস্থ ছোটখালী গ্রামের পার্শ্বে ঝাউবাগান সংলগ্ন সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা দিয়ে ট্রলারের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবৈধভাবে মালয়েশিয়া পাচার করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫ এর একটি দল (২৫ মার্চ ২০২২) আনুমানিক রাত সাড়ে ৩ টার দিকে উক্ত এলাকার গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে একটি মাছ ধরার ট্রলার আটক করে তল্লাশী শুরু করে। তল্লাশীর একপর্যায়ে ট্রলারের ডেকের নিচে বিশেষ কায়দায় জিম্মি করে রাখা অবস্থায় ৩৫ জন নারী ও শিশু এবং ২৩ জন পুরুষ ভিকটিমকে উদ্ধার করে।

উক্ত মানবপাচারের সাথে সম্পৃক্ত ২ জন সক্রিয় সদস্য ১) কুমিল্লার মোঃ আবুল কাশেমের পুত্র মোঃ সোহেল (৩২) ২) কক্সবাজার জেলার মৃত সিরাজুল হকের পুত্র মুছা কলিমুল্লাহ (৪২) কে আটক করে।

উদ্ধারকৃত ভিকটিমরা জানায়, স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের উচ্চ বেতনে বিভিন্ন পেশায় চাকরী দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে তাদের রাজি করিয়ে ৫০-৫৫ হাজার টাকার বিনিময়ে চুক্তি করে। প্রাথমিক অবস্থায় তারা ভিকটিমদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে গ্রহণ করে এবং বাকী টাকা মায়ানমার-টেকনাফ সীমান্তে অবস্থানরত জাহাজে ওঠার সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে পরিশোধ করবে মর্মে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী ভিকটিমরা মানব পাচারকারীদের প্ররোচনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প হতে মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। স্থানীয় দালালরা ৪-৫ জন করে টেকনাফে হাফিজপাড়া পাহাড়ী এলাকায় ৫০-৬০ জনকে একসাথে জড়ো করে। অতঃপর তারা মাছ ধরা ট্রলারের মাধ্যমে ভিকটিমদের টেকনাফ-মায়ানমার সীমান্তে অবস্থানরত জাহাজে স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন সময় রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের মালয়েশিয়া পাচারের মিথ্যা প্রলোভন দেখায়। অতঃপর ভিকটিমদের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী টাকা গ্রহণ করে মালয়েশিয়া পাঠানোর নাম করে টেকনাফ-মায়ানমার সীমান্তে জাহাজে অবস্থানরত দালালদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়।

উল্লেখ্য যে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে ৭ জন ভিকটিম উদ্ধারসহ ১ জন মানবপাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতাকে গ্রেফতার করেছিল র‌্যাব-১৫।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলে জানায় র‍্যাব সুত্র।