বানিয়াচংয়ে ৯ ছাত্র-জনতা হত্যা মামলা ২ বছরেও শুরু হয়নি বিচার


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৫, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ন /
বানিয়াচংয়ে ৯ ছাত্র-জনতা হত্যা মামলা  ২ বছরেও শুরু হয়নি বিচার

নূরুজ্জামান ফারুকী হবিগঞ্জ থেকে

রক্ষক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের দুই বছর পূর্ণ হলেও বানিয়াচংয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পুলিশের গুলিতে নিহত ৯ ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার মূল বিচার কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তদন্তের ধীরগতি, এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিদের অনেকে অধরা থাকা এবং আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শহীদদের স্বজন এবং স্থানীয় ছাত্র-জনতা। তাদের শঙ্কা, সময়পেণের ফলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি সুদূরপরাহত হয়ে পড়ছে।

আদালত ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে বানিয়াচং উপজেলার সাগরদিঘীর পশ্চিমপাড় ঈদগাহ মাঠ থেকে ছাত্র-জনতার একটি বিশাল বিজয় মিছিল বের হয়। মিছিলটি বড়বাজার শহীদ মিনার থেকে থানার অভিমুখে রওয়া দিলে স্থানীয় ঈদগাহ এলাকায় পৌঁছালে বানিয়াচং থানার তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বানিয়াচং সার্কেল পলাশ রঞ্জন দে ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাতে অতর্কিতে বাঁধা দেয় ও এক পর্যায়ে পুলিশ নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে। পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই শিশুসহ ৭ জন এবং পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনসহ মোট ৯ জন ছাত্র-জনতা শহীদ হন। আহত হন অর্ধশতাধিক মানুষ।

এই বর্বরোচিত ঘটনার পর নিহত শিশু হাসান মিয়ার পিতা মো. ছানু মিয়া বাদী হয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ময়েজ উদ্দিন রুয়েলকে প্রধান আসামি করে ১৬০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩০০ জনের বিরুদ্ধে বানিয়াচং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটির প্রাথমিক তদন্ত, মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়েরের মতো কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও এখনো মূল আদালত বা ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক বিচারিক শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ পর্ব গতি পায়নি। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ মামলার অন্যতম আসামি সাবেক সংসদ সদস্য এড: আব্দুল মজিদ খান, আওয়ামীলীগ নেতা শাহজাহান মিয়া, ৪নং ইফপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, বানিয়াচং থানার সাবেক ওসি দেলোয়ার হোসেনসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিহত এক ছাত্রের স্বজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের সন্তানেরা দেশের জন্য রক্ত দিল, অথচ দুই বছর হয়ে গেল আমরা এখনো খুনিদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে দেখলাম না। পুলিশ কয়েকজনকে ধরলেও মূল রাঘববোয়ালরা এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে। আমরা কি তবে বিচার পাব না ? স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সচেতন নাগরিক সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে এই “নাইন মার্ডার” মামলাটি বিশেষ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অতি দ্রুত খুনিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে বানিয়াচংয়ের ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ময়েজ উদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা ও বানিয়াচং উত্তর-পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হায়দারুজ্জামান খান, বানিয়াচং উপজেলা পরিষদের অব্যাহতি পাওয়া চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, বানিয়াচং উপজেলার মন্দুরী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শামছুল হক, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম চৌধুরী, বানিয়াচং তোপখানা গ্রামের বাসিন্দা ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী শাহ নেওয়াজ প্রমুখ।