কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল পুনর্বাসন প্রকল্প ভারতীয় ঠিকাদারের সাথে চুক্তি বাতিল!


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২২, ১২:২৪ পূর্বাহ্ন /
কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেল পুনর্বাসন প্রকল্প ভারতীয় ঠিকাদারের সাথে চুক্তি বাতিল!

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলথের ৫টি স্টেশনের নির্মাণ কাজ ও ছোট-বড় ১৭টি ব্রিজের পাইলিং বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে রেল কর্তৃপক্ষ কয়েকদফা তাগিদ দিলেও কাজ শুরু হচ্ছে না। তবে সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে ভারতের আসাম রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত রেলপথটি এক সময় বন্ধ হয়ে যায়। এরপর এটি সংস্কারে প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১১ সালে। কিন্তু ১০ বছর পর এসে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে প্রকল্পে নিযুক্ত ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিলের। কারণ ওই ঠিকাদার সময়মতো কাজ করেনি। যদিও এ সময়ে খরচ বেড়ে গেছে ৪৭৭ শতাংশ।
কয়েক দফা চিঠি চালাচালির পরও ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে এখন চুক্তি বাতিলের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগসহ পরবর্তী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নকাল নিয়ে কেউ স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি।

কেন কার্যাদেশ বাতিল হবে না, তা জানতে চেয়ে গত বছর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘কালিন্দি’কে নোটিশ পাঠায় রেলওয়ে। এতেও কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় গত ২ জানুয়ারি ‘প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটির’ বৈঠকে চুক্তি বাতিলের বিষয়টি সামনে আসে। চুক্তি বাতিলের ব্যাপারে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও ভারতের এক্সিম ব্যাংকের প্রতিনিধিরা একমত বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।

এ জন্য আইনি প্রক্রিয়া মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক সুলতান আলী জানান, ‘এটি দ্বিপাক্ষিক বিষয়। এ সংক্রান্ত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রেলসচিব। তাই তিনি ভালো বলতে পারবেন। আমি মন্তব্য করতে পারছি না।’

কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ চালু হয় ১৮৯৬ সালে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ট্রেন চলাচলে অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে রেলপথটি। ২০০২ সালে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ৫২ কিলোমিটারের এ রেলপথ সংস্কারের প্রস্তাব ২০১১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদন পায়। তখন ব্যয় ছিল ১১৭ কোটি ৬৮ লাখ ৬১ হাজার টাকা। পরে সরকারি ও দাতাসংস্থার অর্থায়ন মিলে ২০১৫ সালে খরচ ধরা হয় ৬৭৮ কোটি ৫০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। ভারতের ঋণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয় ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর। ঠিকাদার কাজ পেলেও কাজের কোনো গতি নেই। এ জন্য গত বছর ইআরডির মাধ্যমে ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়। ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর বহুপাক্ষিক সভায় দৃশ্যমান কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। এর পরের মাসের ২৭ তারিখ বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখায় অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। সেখানেও দ্রুত কাজ শুরুর তাগিদ দেওয়া হয়। এতেও কাজ না হওয়ায় গত ৯ নভেম্বর ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের ঢাকা অফিসে ভারতীয় হাইকমিশনের রেলওয়ে উপদেষ্টা ও ঠিকাদারের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। এরপর গত ১৮ নভেম্বর কাজ চলমান না থাকায় ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠির জবাবে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি করোনার অজুহাত দেখায়। একই সঙ্গে দ্রুত কাজ শুরুর অঙ্গীকার করে চুক্তি বাতিল না করার অনুরোধ জানায়। কিন্তু কাজ শুরু না হওয়ায় পুনরায় ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

এদিকে এক্সিম ব্যাংক প্রকল্প-সংক্রান্ত বহুপাক্ষিক সভায় ৫টি বিশেষ পয়েন্ট দেখিয়ে চুক্তি বহাল রাখার জন্য ৩০ দিনের সময় বেঁধে দেয়। তবু ওই ৫টি ‘পয়েন্টে’ কাজ শুরু হয়নি। শাহবাজপুর, মুড়াউল, বড়লেখা, কাঁঠালতলী ও দক্ষিণবাগ স্টেশনের নির্মাণকাজ বন্ধ। এ ছাড়া ১১টি ছোট সেতু ও ৬টি বড় সেতুর পাইলিং বন্ধ রয়েছে। এসব কাজ শুরু না হওয়ার বিষয়ে ৩ দফায় ই-মেইলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত করা হয়। পরে ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে গত ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বহুপাক্ষিক সভায় ঠিকাদারকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সর্বশেষ সময় দেওয়া হয়। তবু কাজ শুরু না করায় চুক্তি বাতিলের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা একমত হয়েছেন। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে রেল মন্ত্রণালয়, ইআরডি ও ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে আরেকটি বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে বৈঠকের পর।
রেলের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি যে দরে কাজ নিয়েছে, তা হয়তো তাদের সামর্থের বাইরে চলে গেছে। এ জন্যই কাজ শুরু করতে গড়িমসি করছে। তবে চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগেও বিপত্তি আছে। কারণ প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাবে। সময় লাগবে আরও বেশি।