
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি,খাদেমুল ইসলাম!
পঞ্চগড়ে হজ্বে পাঠানোর কথা বলে টাকা আত্মসাৎ মামলায় কারাগার থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিনে বেরিয়ে এসে সামজিক মাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) দুপুরে বাদী মো: হাসিবুল ইসলাম জেলার বোদা উপজেলা প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
এসময় তিনি জানান, পঞ্চগড়ের আটোয়ারি উপজেলার তালীমুল কুরআন জান্নাতবাগ মাদ্রাসার মুহতামিম (অধ্যক্ষ) আরাফাত সরকার ২০২৫ সালে রমজানের পর ওমরা হজ্বে পাঠানোর কথা বলে আমার কাছে এক লক্ষ ষাট হাজার টাকা নেয়। কিন্তু নির্ধারিত কয়েকটি তারিখ পেরিয়ে যাওয়ার পরও হজ্বে পাঠাতে না পেরে একসময় পূর্নাঙ্গ হজ্বে পাঠানোর আশ্বাস প্রদান করেন এবং পরবর্তীতে আরাফাত হুজুরের নির্দেশনা অনুযায়ী সফিক ওভারসীজ হজ্ব এজেন্সি নামক একটি প্রতিষ্ঠানের একাউন্টে আরও ৩ লক্ষ ৪০হাজার টাকা জমা প্রদান করি। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও হজ্বে গমন কিংবা টাকা ফেরত কোনটিই না করে উল্টো আরাফাত আমার কাছে আরও টাকা দাবী করতে থাকে। একসময় এ বিষয়ে সুরাহার জন্য ধর্মমন্ত্রনালয়ে আবেদন করলে তারা তদন্তপূর্বক স্থানীয় আদালতের মাধ্যমে সমাধানের পরামর্শ দেন। যারফলে গত ২০২৬ সালের মার্চ মাসে সফিক ওভারসীজ হজ্ব এজেন্সির সত্ত্বাধিকারী শফিকুল ইসলাম, আরাফার সরকার ও আব্দুল জলিল সহ তিঞ্জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। উক্ত মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে কালমেঘ মাদ্রাসার মুহতামিম আরাফাত সরকার সহ দুই জনকে কারাগারে পাঠায় আদালত। ওইদিন ই আরাফাত সরকারের ঘনিষ্ঠ মুফতি মাসুম বিল্লাহ টাকা ফেরত সহ তাদের অনুশোচনার কথা বলে পরের দিন আদালতের মাধ্যমে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করে আটককৃত দুইজনের জামিন মঞ্জুর করে আদালত। কিন্তু শর্ত সাপেক্ষে আদালত থেকে জামিন হওয়ার পর আরাফাত ও তার কয়েকজন সহযোগী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিষ্টি বিতরণের ভিডিও প্রচার সহ আমার নামে মিথ্যাচার করে বিভ্রান্তিমূলক পোস্ট করেন। যাতে অসত্য তথ্য দিয়ে ধর্মের লেবাস পরিহিত তথাকথিত হুজুর আরাফাত আমাকে পরিবার ও সমাজের মানুষের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণিত করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। কিন্তু প্রকৃত সত্য আড়াল করে তিনি ইসলামের লেবাস ধারণ করে পার পেয়ে যেতে পারেন না। তাই এসব মিথ্যাচারের তীব্র প্রতিবাদ সহ, প্রতারণার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করছি।
এ বিষয়ে তালীমুল কুরআন জান্নাতবাগ মাদ্রাসার মুহতামিম (অধ্যক্ষ) আরাফাত সরকারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনার সাথে সাক্ষাতে কথা হবে। যেহেতু বিষয়টি কোর্টে মামলাধীন সেখানেই প্রমাণিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাদী হাসিবুল ইসলাম ছাড়াও, তার দুই পুত্র ইসমাইল হোসেন ও রুবেল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :