
আরিয়ান বেশ ধার্মিক যুবক। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আর কোরআন তিলাওয়াতের কোনো কমতি নেই তার। তবে তার স্বভাবে একটি বড় ত্রুটি ছিল—সে সারাক্ষণ মানুষের ভুল খুঁজে বেড়াত এবং নিজেকে সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করত। অদ্ভুত বিষয় হলো, এত ইবাদতের পরেও তার মনে কোনো শান্তি ছিল ছিল না। এক অজানা অস্থিরতা তাকে সবসময় তাড়া করে ফিরত।
একদিন আরিয়ান এক বিজ্ঞ আলেমের কাছে গিয়ে নিজের মনের কথা খুলে বলল। সব শুনে আলেম তাকে একটি পুরনো ধুলোবালি মাখা আয়নার সামনে দাঁড় করালেন। আলেম বললেন, “বাবা আরিয়ান, এই আয়নায় কি তোমার মুখ দেখা যায়?”
আরিয়ান অবাক হয়ে বলল, “না হুজুর, এটা তো ময়লায় ঢেকে আছে।”
আলেম মৃদু হেসে বললেন, “আমাদের আত্মা বা নফস হলো এই আয়নার মতো। মানুষের ভেতর যখন অহংকার, ঘৃণা আর নিজেকে বড় ভাবার মতো গুণগুলো বাসা বাঁধে, তখন তার অন্তরে গুনাহের ধুলো জমতে থাকে। তুমি বাহ্যিক ইবাদত করছো ঠিকই, কিন্তু তোমার মনের আয়না থেকে এই ধুলোবালি পরিষ্কার করছ না।”
এরপর তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা শামস-এর ৯ নম্বর আয়াতটি স্মরণ করিয়ে দিলেন— “কাদ আফলাহা মান যাক্কাহা” অর্থাৎ, “নিঃসন্দেহে সে সফলকাম, যে তার নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করেছে।”
আরিয়ানের ভুল ভাঙল। সে বুঝল, প্রকৃত সফলতা কেবল কপাল সেজদায় ঠেকানোয় নয়, বরং নিজের অন্তর থেকে হিংসা ও অহংকার দূর করে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার মাঝে। সেদিন থেকে আরিয়ান বদলে গেল। অন্যের দোষ খোঁজার বদলে সে নিজের আত্মশুদ্ধিতে মনোযোগী হলো, আর তার অস্থির মনে নেমে এলো অনাবিল প্রশান্তি।
লেখক: সাংবাদিক হাবিবুর রহমান হাবিব
শাল্লা, সুনামগঞ্জ।
আপনার মতামত লিখুন :