তালাবন্ধ করে দিয়ে স্কুলে শিক্ষক, ঘরে মিলল নববধূর ঝুলন্ত লাশ


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৯, ২০২২, ১১:০৯ অপরাহ্ন /
তালাবন্ধ করে দিয়ে স্কুলে শিক্ষক, ঘরে মিলল নববধূর ঝুলন্ত লাশ

ডেস্ক রিপোর্ট। দি সিলেট পোস্ট

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে তালাবন্ধ ঘর থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত নববধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ। স্ত্রীকে ঘরে রেখে তালাবন্ধ করে স্বামী বিদ্যালয়ে চলে যান বলে জানা গেছে।

এদিকে বোনকে যৌতুকের জন্য হত্যা করা হয়েছে মর্মে নিহত নববধূর ভাই নিহার সরকার থানায় মামলা করলে পুলিশ রোববার প্রধান আসামি নিহত নববধূ ছন্দা রানী সরকারের স্বামী মৃদুল চন্দ্র সরকারকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার পাটকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মৃদুল চন্দ্র সরকার চাকরির সুবাদে উপজেলার আশারকান্দি ইউনিয়নের শেওড়া গ্রামে লজিংয়ে থাকতেন। প্রায় ছয় মাস আগে তিনি শাল্লার আনোয়ারপুর গ্রামের নিখিল চন্দ্র সরকারের মেয়ে ছন্দা রানী সরকারকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে পাঠকুড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় উঠেন। তিনি নেত্রকোনা জেলার কাইলাজুড়ি উপজেলার চানপুর গ্রামের বাসিন্দা।

শনিবার স্ত্রী চম্পা রানী দাসকে (২৬) ঘরে রেখে তালাবন্ধ করে তিনি বিদ্যালয়ে চলে যান। বিকালে বাড়ি ফিরে দেখেন ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে পেঁচানো স্ত্রীর লাশ ঝুলছে। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ নববধূর স্বামী মৃদুল চন্দ্র সরকারকে রাতেই গ্রেফতার করে।

ছন্দা রানী দাসের ভাই নিহার সরকার জানান, বিয়ের এক মাস পর জায়গা কিনবে বলে আমার বোনকে মারধর করে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে মৃদুল। আমরা এক লাখ ৫ হাজার টাকা দেই। দুই দিন আগে আমার বোন টাকার জন্য তাকে স্বামী নির্যাতন করছে  বলে মোবাইল ফোনে জানায়। আমার বোনকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনায় জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করেছি। ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়েছে বলে তিনি জানান।

গ্রেফতারের পূর্বে স্কুলশিক্ষক মৃদুল চন্দ্র সরকার তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি যৌতুকের জন্য নির্যাতন করেনি। সে আত্মহত্যা করেছে।

জগন্নাথপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ওই নববধূর ভাই যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে শিক্ষককে প্রধান আসামি এবং তার মা ও ভাইয়ের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছেন। আমরা প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছি। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।