
নজরুল ইসলাম
ব্রিটেনে এশীয় কারি শিল্পের কথা উঠলে ইয়াওয়ার খানের নামটি এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। তিনি শুধু একটি পুরস্কার আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি নন; দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পের পরিচয়, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করে আসা একজন সংগঠক ও মুখপাত্র।
ইয়াওয়ার খান Asian Catering Federation-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং Asian Curry Awards-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর উদ্যোগে কারি শিল্পের সাফল্য যেমন উদ্যাপিত হয়েছে, তেমনি শিল্পটির সংকটও বারবার জনসমক্ষে এসেছে।
Asian Curry Awards-কে অনেকে ‘কারি শিল্পের অস্কার’ বলে থাকেন। কিন্তু ইয়াওয়ার খানের কাজকে শুধু পুরস্কারের মঞ্চে সীমাবদ্ধ করলে তাঁর ভূমিকার একটি বড় অংশই বাদ পড়ে যায়।
তিনি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করার চেয়ে পুরো শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। দক্ষ কর্মীর সংকট, ব্রেক্সিট-পরবর্তী শ্রমবাজার, খাদ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মের কমিশনের মতো বিষয় নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলেছেন।
আমার কাছে এখানেই তাঁর নেতৃত্বের বিশেষত্ব। সাফল্যের সময় পাশে থাকা সহজ; সংকটের সময় নিজের শিল্পের হয়ে কথা বলাই আসল পরীক্ষা।
ব্রিটিশ কারি শিল্পের সঙ্গে বাংলাদেশিদের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। বিশেষ করে সিলেটি অভিবাসীদের একটি বড় অংশ এই শিল্পের মাধ্যমে ব্রিটেনে নিজেদের অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছেন।
দীর্ঘদিন বাংলাদেশি মালিকানাধীন অনেক রেস্তোরাঁ ‘Indian restaurant’ নামে পরিচিত হলেও এখন নিজেদের বাংলাদেশি পরিচয় আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। এই পরিবর্তনের পেছনে ইয়াওয়ার খানের মতো ব্যক্তিদের সাংগঠনিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি শুধু প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের নিয়ে কাজ করছেন না; নতুন প্রজন্মকেও এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছেন।
ইয়াওয়ার খানের গল্প আমাকে যে কারণে আকর্ষণ করে, তা হলো—তিনি শুধু নিজের পরিচয় তৈরি করেননি; বরং একটি পুরো শিল্পের পরিচয়কে সামনে আনার চেষ্টা করেছেন।
একদিকে তিনি পুরস্কারের মাধ্যমে শেফ ও রেস্তোরাঁ মালিকদের স্বীকৃতি দিয়েছেন, অন্যদিকে শিল্পের সমস্যাগুলো নিয়ে সরকারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং জনমত তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।
ব্রিটেনে কারি আজ একটি প্রতিষ্ঠিত খাদ্যসংস্কৃতির অংশ। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে হাজারো অভিবাসীর পরিশ্রম, বিশেষ করে বাংলাদেশিদের দীর্ঘ সংগ্রাম। সেই ইতিহাসকে সামনে আনার কাজে ইয়াওয়ার খান নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য নাম।
আমার চোখে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় তাই শুধু ‘কারি অ্যাওয়ার্ডসের প্রতিষ্ঠাতা’ নয়—তিনি এমন একজন সংগঠক, যিনি একটি শিল্পকে শুধু উদ্যাপন করেননি, তার পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেছেন।
– ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট, প্রধান সম্পাদক- Thesylhetpost.com
আপনার মতামত লিখুন :