
খাদেমুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
কৃষকদের জন্য সরকারের ‘কৃষক কার্ড ‘। আর সেই কাট পেলেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের কাজিম উদ্দিন নামে ইউপি সদস্য। এসময় আয়োজকদের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে অনুষ্ঠানে কৃষকদের মধ্যে গাছের চারা বিতরনে দেখা গেছে বিশৃঙ্খলা পরিবেশ। হুড়হুড়ি করে উপস্থিত মানুষরা যে যার মতো করে চারা টানা হেচড়া করে নিয়ে যান। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর দ্বি মুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে এমন চিত্র দেখা যায়।
জানা যায়, তেঁতুলিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কৃষক কার্ড প্রি- পাইলটিং কার্যক্রমের আওতায় ভজনপুর ইউনিয়নের গিতালগছ কৃষি ব্লকের কৃষকদের মধ্যে এ কার্ড বিতরণ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে তেঁতুলিয়ায় মোট ১৫০৪ জন কৃষকের মাখে কৃষক কার্ড বিতরণের কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। ভারচুয়ালি যুক্ত হয়ে বিভিন্ন জেলায় দ্বিতীয় দফায় এ কৃষি কার্ডের উদ্বোধন ঘোষনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে ভজনপুর দ্বি মুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় ভাবে কৃষকদের মাঝে কৃষক কার্ড বিতরন করা হয়৷।
এসময় অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোসা: শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদ,জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল মতিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারর কমিশনার (ভূৃমি) এস এম আকাশ,উপজেলা কৃষি অফিসার সাবরিনা আফরিন প্রমুখ।
এদিকে কার্ড বিতরন অনুষ্ঠানে ভজনপুর ইউনিয়নের পরিষদের ৪ নং ইউপি সদস্য কাজিম উদ্দিনের নাম ঘোষণা করা হয় এবং অতিথিদের কাছে তার নাম সংবলিত কৃষি কার্ড গ্রহন করেন৷
কৃষকদের কার্ড বিতরনের পর পরই অতিথিরা দ্রুত চলে যান অনুষ্ঠান থেকে। অন্যদিকে মঞ্চের পিছনে কৃষকদের মধ্যে গাছে চারা বিতরণ করা হয়। কিন্তু তারা বিতরণের সময় সুশৃঙ্খল কোন ব্যবস্থা না থাকায় ও আয়োজকদের অবহেলার কারণে এক পর্যায়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। উপস্থিত লোকজন দ্রুত চারা নিতে গিয়ে একে অন্যের কাছ থেকে টানাহেচরা করে চারা নিতে থাকেন৷ এতে মুহূর্তে বিতরনস্থলে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কিছুই পর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়৷ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চারা নেওয়ার জন্য উপস্থিত লোকজনের মধ্যে হুড়োহুড়ি চলছে। এক পর্যায়ে যে যার মত করে চারা নিয়ে সেখান থেকে চলে যাচ্ছেন।
স্থানীয় ও সচেতন মহল কৃষকদের কৃষি কার্ড বিতরনে সরকারি এমন আয়োজনে কাজ বিতরণে বিশৃঙ্খল পরিবেশ ও দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য নির্ধারিত কৃষক কার্ডের তালিকায় একজন ইউপি সদস্য কিভাবে অন্তর্ভুক্ত হলেন এটি নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন। তাদের দাবী,আগে একাকার হতদরিদ্র ও গরীব কৃষকদের অগ্রাধিকার দেয়া উচিত ছিল কৃষি অফিসহ সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যায় স্বাবলম্বিদের আগে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে৷
এদিকে অনুষ্ঠানে কৃষক কার্ড পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কাজিম উদ্দিন বলেন,আমি কৃষি করি,তাই কৃষি কার্ড পেয়েছি। তার ওয়ার্ডের সব দরিদ্র কৃষক কার্ড পেয়েছেন কি’না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই একজন কৃষক হয়তো বাকি আছে।
তবে ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মসলিম উদ্দিনের কাছে গাছ বিতরণের বিশৃঙ্খল পরিবেশ বিষয়ে জানতে চাইলে,তিনি বলেন,ডিসি স্যারকে বললাম গাছ বিতরন আপনি উদ্বোধন করে দেন। কিন্তু তিনি তা পারবেন না বলে তেঁতুলিয়া উপজেলায় চলে যান, অতিথি বলে আছে। তবে ইউপি সদস্য কৃষক কার্ড পেয়েছে কি’না এবিষয়ে তিনি জানেন না বলে জানান তিনি৷
এই বিষয়ে শুক্রবার দুপুরে তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার সাবরিনা আফরিন যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ করেনি।
এদিকে তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম আকাশ কাছে জানতে চাইলে ভজনপুর কাজিম উদ্দিন নামে ইউপি সদস্য নামে কৃষকের কার্ড এবং চারা বিতরনস্থলে মুহুর্তে বিশৃঙ্খলা তিনি বলেন, এ বিষয়ে কৃষি অফিসে জানেন।
আপনার মতামত লিখুন :