সাংস্কৃতিক কর্মী এবং শিল্পীদের বার্ষিক ভাতা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল পঞ্চগড়ে 


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : জুলাই ২৭, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ন /
সাংস্কৃতিক কর্মী এবং শিল্পীদের বার্ষিক  ভাতা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল পঞ্চগড়ে 

খাদেমুল ইসলাম, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি 

পঞ্চগড়ে তেতুলিয়া  উপজেলার সাংস্কৃতিক শিল্পীদের ভাতাভোগীদের মধ্যে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।সরকার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও দুস্থ সংস্কৃতিকর্মী এবং শিল্পীদের নিয়মিত কল্যাণ অনুদান ও বার্ষিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করে থাকে।তাদের মধ্যে নিয়মিত ভাতা পান এমন সাংস্কৃতিক কর্মী এবং শিল্পী ৩/৪ ভাতা না পাওয়া অভিযোগ করেন।

তেতুলিয়ার আজিজ নগর গ্রামের বাসিন্দা সাংস্কৃতিক কর্মী  বাঁসি বাদক বাবুল আক্তার, একই ইউনিয়নে বুচাগছ বাসিন্দা নাট্যকার ফজলুল হক বাবুল জানান, ১৪ জন বাৎসরিক নগদে ভাতা পান। তাদের  ৪ জন মৃত্যু বরন করেছে। বাকী ৫ জন  কে চেকের মাধ্যমে ভাতা প্রদান কররেও ৩ জন এখন ভাতা পাননি। তিরনই হাট ইউনিয়নের পল্লী ভক্তি মুলক বাউল শিল্প খাদেমুল ইসলাম জানান,তিনিও নগদে বাৎসরিক সাংস্কৃতিক  মন্ত্রণালয় ভাতা পান এবছর পাননি। কেন পাননি জানেন না।

অনেকের দাবি, তালিকাকৃত  নিয়মিত  ভাতা আগে  পেলেও এখন পাননি   অনেকে  এখনো কোনো ভাতা না পাওয়া অভিযোগ করেন। ১২ মাসের বরাদ্দ জুনে   টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও বছর শেষে  পায়নি। ভুক্তভোগীরা টাকা পাওয়ার আশায় বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করেও বিফল হয়ে ফিরে যাচ্ছে। এছাড়া ভাতার  দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ ইং  ভাতাভোগীদের অসচ্ছল সাংস্কৃতিক শিল্পীদের   সরকার নির্ধারিত হারে প্রতিবছর ভাতা প্রদান করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছরে  একজন সাংস্কৃতিক শিল্পী ১৫/১৬ হাজার টাকা করে এক বছরে অন্তর ভাতা পরিশোধের কথা। অর্থাৎ ১২ মাসে একজন ভাতাভোগীর মোট পাওনা ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। তবে অর্থবছর শেষ হলেও অনেক অসচ্ছল সাংস্কৃতিক শিল্পী ভাতাভোগীদের মধ্যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।নতুনরা ভাতা পেলেও পুরাতন শিল্প ৩/৪  জন সাংস্কৃতিক  ভাতাভোগীর মধ্যে অধিকাংশই এখনো ভাতা পাননি। তাদের মধ্যে কয়েকজনের নামে তালিকায় অন্তর্ভুক্তি থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো টাকাই তাদের হিসাবে জমা হয়নি।

একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ভাতার কার্ড পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। তবে টাকা দেওয়ার পরও তারা এখনো কোনো ভাতা পাননি। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। তেতুলিয়া বাউল শিল্পী আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, গত বছরে পেলেও এবছর ভাতা আসেনি।

এব্যাপার বৃহস্পতিবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা কালচারাল শিল্প কলা অফিসার সৈয়দ জাকির হোসেন জানান, যাহারা ফরম পুরন করে জমা দিয়েছে তাদেরি ভাতা আসছে।কিন্ত আগে থেকে যাহারা  নিয়মিত নগদে  ভাতা পান এমন শিল্পীকে ভাতা প্রদান করলে এতে অনেকে ভাতা  পাইনি ।কারন হিসেবে বলেন হঠ্যাৎ সিদ্ধান্ত হয় সবাইকে ফরম পুরন করে জমা দিতে হবে। সময় না থাকায় সবাইকে সিন্ধান্ত টি জানানো হয়নি।

রবিবার ২৬ জুলাই দুপুরে এবিষয়ে তেতুলিয়া অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছে ইউএন ও ফাহমিদা সুলতানা সাথে যোগাযোগ চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ হয়নি।