হবিগঞ্জে অতিবৃষ্টিতে সবজি চাষে বিপর্যয়


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : জুলাই ২৭, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ন /
হবিগঞ্জে অতিবৃষ্টিতে সবজি চাষে বিপর্যয়
নূরুজ্জামান ফারুকী হবিগঞ্জ থেকে ॥
টানা বর্ষণ, জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সবজি চাষে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। অতিবৃষ্টিতে শত শত একর জমির শসা, করলা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, লাউ, কুমড়া, টমেটো, বরবটি ও অন্যান্য মৌসুমি সবজির খেত নষ্ট হয়ে গেছে। এতে উপজেলার শতাধিক কৃষক লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন। উৎপাদন ব্যয় তো দূরের কথা, অনেকেই এখন মূলধন ফেরত পাওয়া নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন।
উপজেলার শাহজাহানপুর, জগদীশপুর, ধর্মঘর, বহরা, বাঘাসুরা, চৌমুহনীসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজির জমিতে এখনও পানি জমে রয়েছে। দীর্ঘদিন জমিতে পানি জমে থাকায় গাছের গোড়া পচে যাচ্ছে, পাতাগুলো হলুদ হয়ে শুকিয়ে ঝরে পড়ছে। অনেক গাছে ফুল ও কাঁচা ফল থাকলেও সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষকদের কয়েক মাসের শ্রম ও বিনিয়োগ এক নিমিষেই পানিতে ভেসে গেছে।
কৃষকদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে বর্ষাকালে সবজির ভালো দাম পাওয়ার আশায় তারা ব্যাংক ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবাদ করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি তাদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে। এখন অনেকেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
শাহজাহানপুর ইউনিয়নের কৃষক জামাল মিয়া বলেন, “অনেক আশা নিয়ে শসা ও চিচিঙ্গার আবাদ করেছিলাম। কিন্তু কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে সব গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এ বছরের মতো এত দীর্ঘ সময় বৃষ্টি আগে দেখিনি। প্রায় ২০ দিন সূর্যের দেখা মেলেনি। এখন রোদ উঠলেও গাছগুলো একে একে মারা যাচ্ছে। আমাদের সব পরিশ্রম বৃথা হয়ে গেল।”
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তাপস দেব জানান, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সবজি গাছের শিকড়ে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়। ফলে গাছ দ্রুত পচে যায় এবং বিভিন্ন ছত্রাক জনিত রোগ ছড়িয়ে পড়ে। সময় মতো জমির পানি নিষ্কাশন করা না গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তবে নতুন করে সবজি আবাদে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। বন্যা-পরবর্তী সময়ে নতুন করে কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় বীজ, সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।”