সুনামগঞ্জে পুলিশের উপর হামলা পরিকল্পনার মামলায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাসহ ৮ জন জেলহাজতে
দ্যা সিলেট পোস্ট
প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২, ২০২৬, ১:০৯ পূর্বাহ্ন /
০
পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সসহ (২০)সহ তার মা, বাবা, বোন ও বন্ধুসত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রবিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেপ্তারকৃতদের একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবার জন্য তাকে নারী ও শিশু আদালতে নেওয়া হয়েছে।
এরআগে ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ হয়ে তিনি সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পুলিশ জানায়, কিন্তু গ্রেফতারের পর থেকে থানায় নিয়ে আসা পর্যন্ত সিসি ফুটেজ রয়েছে দাবী করে সদর থানা পুলিশ তাকে কোন ধরনের নির্যাতন করেনি বলে জানান ওসি মো: রতন সেখ। এর পর পুলিশকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি ধমকি দিয়ে আসছিল ছাত্রলীগ নেতার লোকজন। পুলিশকে হামলা চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুনামগঞ্জ পৌর শহরের তেঘরিয়ার দেওয়ান শাহরুখ রাজা চৌধুরী; তাঁর ছেলে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্স, দেওয়ান শাহরিয়ার চৌধুরী পিয়াল এবং মেয়ে শাম্মী আক্তার পলি ও সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা। এ ছাড়া দেওয়ান ফারুক রাজা চৌধুরীর ছেলে ফাহিম রাজা চৌধুরীও এ মামলার আসামি।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন, সুনামগঞ্জের হাসননগর এলাকার সুজন মিয়ার ছেলে রানা, ছাতক উপজেলার জালালপুর গ্রামের শফিক আহমদের ছেলে কাওছার আহমদ সোহাগ, জামালগঞ্জ উপজেলার কদমতলী গ্রামের বিজয় করের ছেলে রজয় কর, দিরাই উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের শাহ আলমের ছেলে ইফাত আলম রাবিদ, গোলাপগঞ্জের ভাদেরশ্বর গ্রামের ওলিওর রহমান মানিকের ছেলে তাকরিব রহমান তানহির। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক সাবরিনা চৌধুরী রূপকথা ছাড়া অন্যদের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠান বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে নাশকতার মামলার আসামি হিসেবে দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে গ্রেফতার করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। থানায় আনার কিছু সময় পর তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাকে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পরবর্তীতে সিলেটে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসা চলাকালীন গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রিন্সের পরিবারের লোকজন ও বন্ধুবান্ধবরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হাসপাতালে মব সৃষ্টি করে পুলিশের ওপর হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেয়।
পুলিশের অভিযোগ, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বেআইনিভাবে জনতাবদ্ধ হয়ে সরকারি কাজে বাধা দিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে প্রিন্সকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার পাশাপাশি পুলিশ দলকে উদ্দেশ্যে আক্রমণ করার চেষ্টা করে। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ নিয়ে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা চালান প্রিন্স।
এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই মো. ফরিদ হোসেন বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আটককৃতের সবাইকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ অক্টোবর রাতে নাশকলার মামলার আসামি হিসেবে আটক করা হয় ছাত্রলীগ নেতা দেওয়ান শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রিন্সকে। গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাজতে অসুস্থ হলে তাকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর তার কিছু লোকজন ফেসবুকে ও বিভিন্ন ভাবে পুলিশকে অকথ্য ভাষায় দেখে নেয়ার হুমকিও দিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :