পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কমলগঞ্জে ৪০টি পলাশের চারা রোপণ


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : জুন ২৮, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ন /
পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কমলগঞ্জে ৪০টি পলাশের চারা রোপণ

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:

পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পর্যটন এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ৪০টি পলাশ ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার-এর উদ্যোগে গত শুক্রবার (২৬ জুন) শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কের কমলগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কৃষিবিদ ও তরুণ উদ্যোক্তা মুঈদ আশিক চিশতি।

আয়োজকরা জানান, শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সড়কটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন সড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, চা-বাগানসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে যাতায়াত করেন। সড়কের দুই পাশে দৃষ্টিনন্দন বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় পরিবেশ সৃষ্টি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সেভ ওয়াইল্ড লাইফ অ্যান্ড নেচার-এর মৌলভীবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি আহমেদুজ্জামান আলম, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব ও সংগঠনের সহ-সভাপতি রুবেল আহমদ, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আহাদ মিয়াসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আয়োজকদের মতে, পলাশস্প (Butemonosperma) বাংলাদেশের একটি দেশীয় বৃক্ষ, যা তার উজ্জ্বল লাল-কমলা রঙের ফুলের জন্য ‘বসন্তের অগ্নিশিখা’ নামে পরিচিত। বসন্তকালে ফোটা এ ফুল মৌমাছি, প্রজাপতি ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখিকে আকৃষ্ট করে। এর মাধ্যমে পরাগায়ন বৃদ্ধি পায়, যা উদ্ভিদের প্রাকৃতিক বংশবিস্তার এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে দেশীয় বৃক্ষরোপণ স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রকে সমৃদ্ধ করে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায়ও ইতিবাচক অবদান রাখে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু সবুজায়ন নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তোলার সামাজিক দায়িত্ব। পর্যটন এলাকাগুলোতে দেশীয় বৃক্ষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটনের নান্দনিকতাও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।