হবিগঞ্জে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহ হলেও ফের লোডশেডিং ভোগান্তিতে মানুষ


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৬, ২০২৬, ৯:৪৪ পূর্বাহ্ন / ০ Views
হবিগঞ্জে দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ সরবরাহ হলেও ফের লোডশেডিং ভোগান্তিতে মানুষ

নূরুজ্জামান ফারুকী হবিগঞ্জ থেকে  ॥

উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কথা বলে জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ ৯ ঘণ্টা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলেও বিদ্যুত ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয় নির্ধারিত সময়ের ২ ঘণ্টা পর। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও রাত ১০ টার দিকেও অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ আসেনি । এ ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিকের পর জনমনে স্বস্তি ফিরলেও সেই স্বস্থি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ঘণ্টাখানেক যেতে না যেতেই রাত ৯টার দিকে আবারও পুরোনো চিত্রে ফিরে যায় বিদ্যুৎ বিভাগ। শুরু হয় ঘণ্টা ধরে লোডশেডিং, যা নিয়ে চরম ােভ ও দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ। এর আগে রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্দ জনতা হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ বিভাগের অভিযোগ কেন্দ্র ঘেরাও করেন। তাদের দাবি ফোন রিসিভ না করা এবং রাস্তাঘাটে তার ছিড়েঁ পড়ে থাকা এবং ফিউজ লাগাতেও ৩-৪ ঘন্টা লাগে। এ কারণে তারা ঘেরাও করেন। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী মোবাইল ফোনে আশ^াস দিলে তারা ফিরে যান। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) কর্তৃপক্ষ শহরে মাইকিং করে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়টি জানায়। কিন্তু ঘোষণার তুলনায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষোভ বাড়ে গ্রাহকদের মধ্যে।

গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে সারাদিন হবিগঞ্জ শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনজীবনে স্থবিরতা নেমে আসে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে। অনেক দোকানপাট বাধ্য হয়ে আগেভাগেই বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পাঠদান ব্যাহত হয়। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে জুম্মার নামাজ আদায়ে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে, মসজিদগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকায় মুসল্লিদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। পানি না থাকায় অযু করতে পারেননি মুসল্লিরা। গরমে নামাজ পড়তেও মারাত্মক অসুবিধায় পড়তে হয়। পৌরসভা পানি সরবরাহ করতে না পারায় বাসা-বাড়ির অনেকেই পানি তুলতে পারেননি। বিদ্যুৎ এলেও পৌরসভার লাইনে ত্রুটি দেখা দেয়ায় কোনো কোনো এলাকার মোটর বিকল হয়ে গেছে। অভিযোগ কেন্দ্র ফোন না ধরায় পৌর কর্মচারিরা সরাসরি অভিযোগ জানালে পৌরসভার লাইনের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। শাহজীবাজার লাইনে কাজ করায় পৌরসভার লাইন উলট পালট হয়ে যায়। আজ শনিবার এর সমাধান হবে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন জানিয়েছেন হবিগঞ্জ শহরে প্রায় অর্ধশতাধিক ট্রান্সফরমার ও বেশ কয়েকটি ফিডার রয়েছে। ট্রান্সফরমারগুলোর ফিউজ মেরামতে যেখানে ৫টি গ্রুপ থাকার কথা সেখানে ১টি গ্রুপ থাকায় মেরামতে সময় বেশি লাগছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর মোর্শেদ বলেন, “গ্রিডভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহের দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপকেন্দ্রে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, যন্ত্রপাতি সংস্কার ও রণাবেণ কাজ পরিচালিত হয়। উন্নয়ন কাজের স্বার্থে সাময়িক এই অসুবিধা মেনে নেওয়ার জন্য গ্রাহকদের প্রতি অনুরোধ জানান।” পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, জেলার মোট প্রায় ৬ লাখ গ্রাহকের মধ্যে শায়েস্তাগঞ্জ ও চুনারুঘাট, মাধবপুর, বানিয়াচংসহ কয়েকটি এলাকায় প্রায় এক লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল ছিল। তবে হবিগঞ্জ পৌর এলাকার প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহকসহ জেলার ৯টি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল দীর্ঘ সময়।

এদিকে সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ ফিরে আসার পরপরই আবার লোডশেডিং শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের ােভ আরও বেড়ে যায়। অনেকেই অভিযোগ করেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী নির্ধারিত সময় মেনে কাজ শেষ না করা এবং পরবর্তীতে স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান উন্নয়ন কাজ শেষ হলে হবিগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন হবে। বিশেষ করে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং ভোল্টেজ সমস্যার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।