
নুরুজ্জামান ফারুকী হবিগঞ্জ থেকে ॥
পবিত্র রমজান মাসে হঠাৎ করে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে সয়াবিন তেল নিয়ে ফের তেলেসমাতি শুরু হয়েছে। ১৫/২০ দিন ধরে বিভিন্ন হাট-বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরী করা হয়েছে। দোকানে দোকানে ঘুরে সহজে মিলছে না সয়াবিন তেল। মিললেও অনেক ব্যবসায়ী সয়াবিন তেলের সংকট দাবী করে হাতিয়ে নিচ্ছেন বাড়তি দাম। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে প্রতিদিনই ঘটছে বাদানুবাদ।
অভিযোগ রয়েছে- অনেকেই তেল বিক্রি না করে মজুদ করেছিলেন রমজান মাসে বেশি দামে বিক্রির জন্য। রমজানের প্রথম দিকে তেলের দাম স্বাভাবিক থাকলে গত এক সপ্তাহ ধরে পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতারা সিন্ডিকেট তৈরী করে কৃত্রিম সংকট তৈরী করছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, সয়াবিন তেলের সাথে চিনিগুড়া চাল, ময়দা, লবন, ডালসহ অনান্য পণ্য কিনতে বাধ্য করছে ব্যবসায়ীরা। অন্য পণ্য না নিলে বিক্রেতারা শুধু সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন না। এর ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। নবীগঞ্জ পৌর শহরসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মুদি দোকানের মধ্যে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে কিছু কিছু দোকানে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। যেসব দোকানে তেল পাওয়া যায় তারা ১ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি করেন। কোন কোন দোকানে ১ লিটার তেলের বোতল নেই। শুধু ৫ লিটার, তাও ১১ শত থেকে ১২ শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৭৫ টাকা এবং প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৫৭ টাকায় বিক্রি করার কথা।
ক্রেতারা জানান, প্রায় দেড় মাস ধরে ডিলাররা তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। তেলের সংকট ও দাম বেড়েছে। এছাড়া চাল-ডাল-ময়দাসহ অন্যান্য পণ্য অবিক্রিত থাকায় তেলের সাথে সেইসব পণ্য নিতে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। অন্যান্য পণ্য না কিনলে তেল দিচ্ছেনা।
আপনার মতামত লিখুন :