
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানে গাছ চুরির সময় হেলন মিয়া (৩৯) নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ বলছে ঘটনার সময় দৌড়ে পালাতে গিয়ে স্ট্রোক করে মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি হেলেনকে গাছ চুরির অভিযোগে ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সেহরির সময় উপজেলার শ্রীগোবিন্দপুর চা বাগানে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রোমন মিয়া নামে অপর একজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বাগান কর্তৃপক্ষের বরাতে পুলিশ জানায়, সেহরির সময় ৫/৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র চা বাগানের খেলার মাঠ ও মন্দিরসংলগ্ন লেকের ধারে একটি আকাশমনি গাছ কাটছিল। গাছটি কেটে ফেলার সময় বিকট শব্দে লেকে পড়ে যায়। শব্দ শুনে বাগানের চৌকিদাররা ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে আটক করে ম্যানেজারের কাছে নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পর খবর পাওয়া যায় কাছের একটি বাড়ির পাশে এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে আছে। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিহতের মা সুবি বেগমের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ঘটনার রাতে আমার ছেলে হেলনকে রুমান, জমশেদসহ আরো ২/৩জন বাহিরে রাস্তায় দাড়ানো ছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলে আমার ছেলে জানায় বন্ধু রুমানদের সাথে ভানুগাছ বাজারে যাচ্ছে। সারারাত অপেক্ষার পর সকালে শুনি মৃত্যুর সংবাদ। আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এ ব্যপারে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টায় নিহতের ভগ্নিপতি তাজুল ইসলাম কমলগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত ৬/৭কে আসামী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট চা বাগানটির মালিক মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য ও শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মহসিন মিয়া মধু। বাগানের ব্যবস্থাপক প্রশান্ত কুমার সরকার বলেন, আটক ব্যক্তিকে অফিসে নিয়ে রাখতে বলা হয়েছিল। পরে জানতে পারি একজন মারা গেছেন। তবে যে গাছটি কাটা হচ্ছিল সেটি বাগানের নয়, সরকারি গাছ হওয়ায় আমরা তাকে ছেড়ে দিয়েছি।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হত্যা তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দৌড়ে পালানোর সময় স্ট্রোক করে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, কয়েক দিনের ব্যবধানে বর্তমানে যে আকাশমনি গাছটি কাটা হয়েছে, তার পাশেই আরো বেশ কয়েকটি আকাশমনি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে, এছাড়াও একমাসে এ চা বাগানের আশপাশ এলাকার সড়কে অবস্থিত কয়েক লক্ষ টাকার সরকারী শতাধিক মূল্যবান আকাশমনি গাছ চোরচক্র কেটে নিয়ে যায় নৈশপ্রহরীদের নাকের ডগা থেকে। এত দামী দামী গাছ পাচার হয়েছে এই নৈশপ্রহরীদের যোগসাজেসে হয়েছে বলে দাবী এলাকাবাসীর। এলাকাবাসীর দাবী এই গাছ কাটা হেলনের মৃত্যু, রুমানের আহত হওয়ার পেছনে লেনদেনের কোন কারণ হতে পারে, এটা স্বচ্ছ তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে আসল ঘটনা।
আপনার মতামত লিখুন :