রাজনগরের তারাপাশায় শ্রী শ্রী বিষ্ণুপদ ধাম মন্দিরে সপ্তাহব্যাপী দোল উৎসব সম্পন্ন


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : মার্চ ৭, ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ন /
রাজনগরের তারাপাশায় শ্রী শ্রী বিষ্ণুপদ ধাম মন্দিরে সপ্তাহব্যাপী দোল উৎসব সম্পন্ন

কুলাউড়া প্রতিনিধি

মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম নাসের রহমান বলেছেন, পবিত্র রমজান মাসে রাজনগরের বিষ্ণুপদ ধামে দোল উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর আয়োজন দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন—এই উৎসব তারই জাজ্বল্য প্রমাণ।”

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার তারাপাশায় অবস্থিত শ্রী শ্রী বিষ্ণুপদ ধাম মন্দিরে সপ্তাহব্যাপী দোল উৎসব অনুষ্ঠানে ভক্ত ও পূজারীদের সঙ্গে কুশলবিনিময় করেন এম নাসের রহমান। এ সময় তিনি মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ঘুরে দেখেন এবং আয়োজকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। নাসের রহমান বলেন, “দোল উৎসবে এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। সাজসজ্জা দৃষ্টিনন্দন এবং পরিবেশ উৎসবমুখর। এবার প্রথমবারের মতো এলাম, আশা করি প্রতিবছর অন্তত একবার আসা হবে।”

রমজান মাসে এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “রমজানের এই সময়ে হিন্দু সম্প্রদায় সম্প্রীতির সঙ্গে যে উৎসব পালন করছেন, তা আমাদের জন্য আনন্দের। এ দেশ সকল ধর্মের মানুষের—আমরা মিলেমিশে থাকতে চাই।” এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রেজিনা নাসের বলেন, “এ উৎসবে এসে খুব ভালো লাগছে। উৎসবমুখর পরিবেশে এত সুন্দর আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। সবার জন্য শুভকামনা রইল। ভবিষ্যতেও আমরা আসব। আমরা হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই—এই দেশ আমাদের সবার, আমরা মিলেমিশে থাকব।”

ভক্তরা জানান, “সারা বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্ত এখানে সমবেত হয়েছেন, ভারত থেকেও অনেকে এসেছেন। এটি বাংলাদেশের একমাত্র ধাম, যেখানে শ্রী বিষ্ণুর চরম চিহ্ন রয়েছে—যা গয়া সমতুল্য তীর্থ হিসেবে বিবেচিত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট সুনীল কুমার দাস, শ্যামলী সূত্রধর, রাজনগর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুপক দেবসহ উৎসব কমিটির নেতারা।

সপ্তাহব্যাপী এই দোল উৎসব উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ভক্তদের জন্য প্রসাদ বিতরণ ও ভজনসন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। আয়োজন ঘিরে পুরো এলাকা উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে।