৭ জানুয়ারি ২০২৪ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভারত আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনা সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় আসতে নিরঙ্কুশ সমর্থন করায়, ভারতের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি-জামায়াতের মিডিয়া সেল মালদ্বীপের মইজু সমর্থকদের অনুসরণ করে ‘ইন্ডিয়া আউট’ নামের ক্যাম্পেইন শুরু করে। লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানই তার দলের নেতাকর্মীদের ‘ইন্ডিয়া আউট’ ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে বিভিন্ন মিডিয়ার খবরে জানা গেছে।
এখানে মালদ্বীপের মইজ্জু সরকারের ভারত বিরোধীতা নিয়ে সামান্য কথা বলতে চাই। অনেকেই কমবেশি জানি যে,২০২১ সালে মালদ্বীপে ‘ইন্ডিয়া আউট’ আন্দোলন শুরু করে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও মালের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মইজ্জু। ২০১৩ সালে প্রোগ্রেসিভ পার্টি অব মালদ্বীপের (পিপিএম) সভাপতি হওয়ার সময় থেকেই তার ভারতবিরোধী মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়। ইব্রাহিম সোলিহ যখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন তখন এই মনোভাব অনেকটা হ্রাস পায়, কিন্তু ২০২০ সালে এটি আবার তীব্রভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। এই আন্দোলনটি মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিততে সাহায্য করার জন্য মোহাম্মদ মুইজ্জুর নেতৃত্বে ভারতবিরোধী মনোভাব আরো তীব্রতা পায়। এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে মালদ্বীপ সরকারের মন্ত্রীদের অবমাননাকর মন্তব্য কূটনৈতিক সম্পর্ককে উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
মালদ্বীপের অনুকরণে ভারতবিরোধী প্রচারণা চালাতে এবং ‘ভারত বাংলাদেশের বন্ধু নয়’ কিংবা ‘ভারতই ধ্বংস করছে বাংলাদেশকে’—এই জাতীয় স্লোগান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত পোস্ট করতে নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই ‘হ্যাশট্যাগ ইন্ডিয়া আউট’ ইদানিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার করা হচ্ছে।
শুধু কি তাই ২০ মার্চ ২০২৪ বুধবার বিএনপির ভারতীয় পন্য বর্জনের র্যালীতে (রেলী) বিএনপির যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাহেব তো নিজের গায়ের ইন্ডিয়ার প্রস্তুত চাদরে অগ্নিসংযোগ করে ভারতীয় পন্যবর্জনের উদ্ভোদন করে বিষয়টি দারুণ উপভোগ করেছেন। এতে বিএনপি যে দলীয়ভাবে ‘ইন্ডিয়া আউট’ ক্যাম্পেইন সমর্থন করে এতে তা প্রমাণিত হলো।
এ’বিষয়ে ১৮ জানুয়ারি রাতে ভারতের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক পালকি শর্মা উপাধ্যায়ও তার নিজস্ব সিগনেচার প্রোগ্রাম ‘ভান্টেজ’-এ এই প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ভারতের জাতীয় স্তরের শীর্ষস্থানীয় টিভি চ্যানেল সিএনএন-আইবিএনে প্রাইম টাইমে প্রচারিত সেই অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিরোধী দল বিএনপি ও লন্ডন প্রবাসী ‘পলাতক নেতা’ তারেক রহমানের মদদে সেখানে জোরেশোরে ভারতবিরোধী প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বাংলাদেশে ও বাংলাদেশের বাইরে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের ব্যবহার করেই সুকৌশলে ‘ইন্ডিয়া আউট’ প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন পালকি শর্মা।
সে যাহাই হোক। ১৭ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে প্রথম ইন্ডিয়া আউট আন্দোলনের ডাক দেয় আওয়ামী লীগ সরকারের তুমুলবিরোধী ও বিএনপি সমর্থক নির্বাসিত বাংলাদেশি পিনাকী ভট্টাচার্য। নিচে পিনাকী ভট্টাচার্যের হ্যাসট্যাগ করা কন্টেন্টটি হুবহু তোলে ধরা হলো-
“প্রিয় নাগরিকবৃন্দ, আজ এক যুগান্তকারী সংগ্রামের সূচনা, বিজয়ের লড়াই শুরু করেছি। আমরা যেখানেই যে অবস্থাতেই থাকি না কেন, আমাদের প্রত্যেককে এই স্মরণীয় প্রচেষ্টার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে। অটল সংকল্প এবং স্বদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসায় উদ্বুদ্ধ আমাদের সম্মিলিত সংকল্প আমাদের বেঁধে রাখা শিকলকে ছিন্নভিন্ন করে দিবে। এটি কোনো গোপন অভিযান নয়; এটি একটি স্বচ্ছ যুদ্ধ যেখানে আমাদের শত্রুরা শক্তিহীন, তাদের অনিবার্য পরাজয় আমরা প্রত্যক্ষ করবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে হতাশা ও যন্ত্রণায় নিমজ্জিত ছিলাম। এখনই সময় জেগে ওঠার, আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে ওদের পেছনে ছুঁড়ে ফেলে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের মাটি পুনরুদ্ধার করার।
আগামীকাল, আমরা আমাদের কৌশল, বিজয়ের রোডম্যাপ উন্মোচন করব। এই লড়াই সবার জন্য উন্মুক্ত, সর্বশক্তিমানের পতাকাতলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান। একসাথে, আমরা বিজয়ের দিকে অগ্রসর হব।
বাংলা দেশ জিন্দাবাদ!
— পিনাকী ভট্টাচার্য-
এরপর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ইন্ডিয়াআউট’ এবং ‘বয়কটইন্ডিয়ানপ্রোডাক্টস’ দুটি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেছে এবং ভারতীয় পণ্য ও সেবা বর্জনের ডাক দিচ্ছে।
কেবল বিএনপি-জামাতের সমর্থক পর্যায়ে নয় এতে যোগ দিয়েছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্বও। সম্প্রতি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বাংলাদেশকে একটি ডামি রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করছে। তাদের পেছনের আসল শক্তি বাংলাদেশের জনগণ নয়, ভারত। আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে বাংলাদেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে ভারত দেশের নাগরিকদের অধিকার লঙ্ঘন করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের জনগণের ম্যান্ডেট চায় না। বরং মোদি সরকারের সমর্থনে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে এবং পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ হয়ে তারা ক্ষমতা দখল করেছে।
৭ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বিবৃতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশে ‘ইন্ডিয়া আউট’ ক্যাম্পেইন জোরদার হচ্ছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘এটা দেশটির প্রভাবের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের প্রতিবাদ।
এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আল জাজিরাকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “ইন্ডিয়া আউট” প্রচারণাবিরোধী দলগুলো চালাচ্ছে যারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে তাদের পতনের জন্য ভারতকে দোষারোপ করছে। তিনি আরও বলেন,’সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে এ ধরনের আন্দোলন সমীচীন নয়। এটা সহসাই বুমেরাং হবে।
বাংলাদেশে ‘ইন্ডিয়া আউট’ ক্যাম্পেইন নিয়ে বিবিসিবাংলা এক প্রতিবেদনে লিখেছে “বাংলাদেশে চীনের পরে ভারত থেকেই সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি হয়ে থাকে, যা মোট আমদানির প্রায় বিশ শতাংশ। এর মধ্যে পেঁয়াজের মতো জরুরি অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য ভারতের ওপর নির্ভরতা আছে বাংলাদেশের আমদানিকারকদের।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছে মোট ১০৯ কোটি ৬৩ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলারের পণ্য। একই সময়ে ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছে ৫৭৯ কোটি ৩৬ লাখ ডলারের পণ্য। এর আলোকে তাই বলা যায় ১৫০ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারত কোন পণ্য ১৭ কোটি মানুষের দেশে বর্জন করলেই সে দেশ শেষ হয়ে যাবে, পঙ্গু হয়ে যাবে এমন ভাবনা বোকামি ও রাজনৈতিক বালখিল্যতা ছাড়া কিছু নয়। বিএনপি যদি মনে করে থাকে
ভারত বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে দেয়নি তাহলে বুঝতে হবে ভারতের শক্তি কতটুকু! ভারত কি করতে পারে। এখানে আমেরিকা ভারতকে ঘাটাতে যায়নি। কাজেই বিএনপি নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে বলতে চাই তাদের এমন কোন কাজ করা উচিৎ নয় যাতে তাদের নিজেদের কফিনে শেষ পেরেক মারা হয়ে যায়। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে সীমান্ত হত্যা, তিস্তাসহ ৫৪টি নদীর পানিবন্টনসহ ভারতের আরও কিছু কিছু আচরণে বাংলাদেশের অনেক মানুষ ক্ষুব্ধ। এবং জন্মগতভাবে কিছুকিছু মানুষ ভারতবিরোধী যেটা পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই চলে আসছে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই প্রতিবেশি দেশ ভারতের
সাথে সুসম্পর্ক চায়।
১০ জানু ২০২৪ বিএন কোরাতে Captain Jack Sparrow নামের এক রাজনৈতিক ভাষ্যকার ‘সম্প্রতি মালদ্বীপ বিতর্কে কি কি প্রভাব পড়তে পারে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে? এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর প্রভাব কি হতে পারে?’ শিরোনামের এক নিবন্ধে লিখেছেন, “প্রথমত মালদ্বীপের অর্থনীতি দূর্বল হবে তারপর মালদ্বীপের ক্যাপিটালিস্ট এস্টাবলিশমেন্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুকে ক্ষমতা ছেড়ে জেলে যেতে হবে বা হাউজ এরেস্ট হয়ে থাকতে হবে।মোহাম্মদ সলিহ ভবিষ্যতে পুনরায় নির্বাচিত হবেন।
বিশ্ব রাজনীতিতে কোনদিন ইতিহাসের ভুল ক্যাম্পে থাকতে নেই। শীতল যুদ্ধে ভারত সোভিয়েতের ক্যাম্পে যাওয়ার মূল্য দিতে হয়েছে ভয়াবহভাবে। ইন্দিরা গান্ধিকে জীবন দিতে হয়েছে, কাশ্মীরে এখনো ভারত বিচ্ছন্নতাবাদ সমাধান করতে পারে নি। বাংলাদেশে বিএনপির পাকিস্তানের ক্যাম্পে যাওয়ার মূল্য দিতে হয়েছে ভয়াবহভাবে। তাই নতুন শীতল যুদ্ধে যারা চিনের পক্ষে যাবে তাদের ভাল পরিনতি হবে না। ইমরান খানের পরিনতি কি হয়েছে সবাই দেখেছে, শ্রীলংকায় রাজা পাকশের সঙ্গে কি হয়েছে সবাই দেখছে, নেপালে কেপি শর্মা অলির সঙ্গে কি হয়েছে সবাই দেখেছে। মিয়ানমারের জান্তার সঙ্গে কি হচ্ছে সবাই দেখছে।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর কোন ধারণা নেই তিনি কি করছেন। সম্প্রতি চিন সফরে চিনা অফিশিয়ালরা প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুকে সতর্ক করেছে ভারতের সঙ্গে রেড লাইন ক্রস না করতে। চিনের BRI অনেকখানি ব্যর্থ। আমেরিকানরা BRI কে ভয়াবহভাবে স্যাবোট্যাজ করেছে।BRI এর হার্ট CEPC কে পাকিস্তানে বালুচ ও পশতুন গেরিলাদের মাধ্যমে স্যাবোট্যাজ করা হয়েছে। চিন নিজেই অসহায় হয়ে গিয়েছে পশ্চিমাদের সামনে। তাদের অভ্যন্তরীন ডেমগ্রাফিক ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।চিন তাইওয়ানে অতীতের ন্যায় এগ্রেসন দেখাচ্ছে না।সেখানে তারা কিভাবে মালদ্বীপে খুবই ভারত বিরোধী সরকারকে ব্যাক করবে? মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু জলের গভীরতা পরিমাপ না করে জলে নেমেছেন।তিনি কতক্ষণ ভেসে থাকবেন সময় বলে দেবে।”
এই নিবন্ধের আলোকে বলতে চাই বলতে চাই বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন-তারেক রহমান বা বিএনপির “ইন্ডিয়া আউট’ বা ভারত হঠাও এই স্ট্যান্টবাজী ৭ জানুয়ারি ২০২৪ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ক্ষততে সাময়িক মলমের প্রলেপ হতে পারে, কিন্তু তারেক রহমান বা বিএনপির জন্য এর সুদূরপ্রসারী কি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে তা দলটির নেতৃত্ব মোটেই অনুধাবন করতে পারছে না। এমনিতে বিএনপির জন্মলগ্ন থেকে ভারতের সাথে সবসময় টানাপোড়েন লেগেই আছে। ভারত মনে করছে জন্মগতভাবেই বিএনপি পাকিস্তানপন্থী একটি
রাজনৈতিক দল। তাই ভারত কখনো বিএনপিকে আস্থায় নিতে পারেনি। তারা মনে করে মুখে দলটি মুখে ভারতের সাথে সুসম্পর্ক রাখার কথা বললেও তাদের আত্মা বন্ধক ভারতের চিরশত্রু পাকিস্তানের হাতে।
এখানে উল্লেখ্য ২০০৪ সালে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে তাদের নির্দেশে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার জন্য পাকিস্তান থেকে আনা হয় ১০ ট্রাক অত্যাধুনিক অস্ত্র। আর তাতে পূর্ণ সহযোগিতা দিয়েছিল ডিজিএফআই এবং এনএসআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতৃত্বের বেশ কয়েকজন এ বিষয়টি প্রণিধানযোগ্য। বিএন উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে “১লা এপ্রিল ২০০৪ বাংলাদেশের বন্দর নগরীতে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড এর জেটিতে ১০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ আটকের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশের ইতিহাসে ধরা পড়া অস্ত্র চোরাচালানের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ পরিমাণ। এ মামলার পাবলিক প্রসিকউটর কামাল উদ্দিন আহমেদের মতে আসামি ছাড়াও এই মামলার কয়েকজন সাক্ষী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার জন্য আটককৃত অস্ত্রশস্ত্র বাংলাদেশের জলসীমা ব্যবহার করে আনয়ন করা হয়েছিল। আটককালে চোরাচালনের মোট ৪৬৩টি বাক্স অশস্ত্রসশ্ত্র উদ্ধার করা হয় যেগুলির মধ্যে ছিল এমটিটি, এসএমজি, টমিগান ৭৯০টি, গ্রেনেড ২৭ হাজার, রকেট লঞ্চার ১৫০, ম্যাগজিন ৬২০ এবং ১১ লাখ ৪৩ হাজার ৫২০টি গুলি। এগুলির আনুমানিক মূল্য ২৭ হাজার কোটি টাকা। পত্রিকার সংবাদে বলা হয়েছে যে উলফা চীন থেকে ক্রয় করে কিউসি নামীয় জাহাজে করে বাংলাদেশের জলসীমায় নিয়ে আসে এবং দুটি ‘কনটেইনার বোট’-এ করে বাংলাদেশের ভূমিসীমায় অবতরণ করায়। চট্টগ্রাম থেকে স্থলপথে ভারতে উলফার কাছে এ অস্ত্র প্রেরণের পরিকল্পনা ছিল।” [উইকিপিডিয়া] এ অস্ত্রকাহিনী ইন্ডিয়া নিশ্চয় ভুলে যায়নি, একথাটিও সবসময় বিবেচনায় রাখতে হবে।
তাছাড়া বাংলাদেশে প্রায় তিনবার ক্ষমতায় থাকা বিএনপির রাজনীতিতে ভারত বিরোধিতার ইতিহাস অনেক। কখনো কখনো ভারতীয় নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে দলটির সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা দেখা গেলেও অনেক ক্ষেত্রেই সম্পর্কের অবনতি হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত কূটনৈতিক বিশ্লেষক নালিম ফেরদৌস বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘মানুষের মনে যদি সন্দেহ জাগে, একটা প্রচারণার কারণে একটা পক্ষ সরব থাকে তাহলে কিছুটা ইমপ্যাক্ট পড়তে পারে। তবে সেটি খুব বেশি না।’ ‘আসলে আমরা ভারত থেকে ইমপোর্ট করি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। এগুলো বর্জন করলেই কী, বর্জন না করলেই কী। এতে খুব একটা প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম,’ বলেন নাসিম ফেরদৌস।
পরিশেষে এই বলে শেষ করতে চাই, মালদ্বীপ আর বাংলাদেশ এক নয়, দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভূ-প্রকৃতিরও তুলনা হয় না। মালদ্বীপে যা-ই ঘটে থাকুক, বাংলাদেশে অন্তত তার পুনরাবৃত্তির কোনও সম্ভাবনা নেই একথা অনেকটা জোর দিয়ে বলা যায়। কেননা, ভারত আমাদের নিকটতম বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র। এদেশের সিংহভাগ মানুষ একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতে সাহায্য সহযোগিতার কথা কখনো ভুলবে না।
লেখক: কবি-কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট, শিক্ষাবিদ ও গবেষক
২৩ মার্চ ২০২৪,
ডেট্রয়েট মিশিগান, ইউএসএ
আপনার মতামত লিখুন :