ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল : ৮ বছরেও শেষ হয়নি রাজারপুর সংযোগ সড়কের কাজ


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : অক্টোবর ৩০, ২০২৬, ২:২২ অপরাহ্ন / ০
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল : ৮ বছরেও শেষ হয়নি রাজারপুর সংযোগ সড়কের কাজ

আব্দুল কুদ্দুস, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) থেকে :

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মনুনদীর ওপর নির্মিত রাজাপুর সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ দীর্ঘ আট বছরেও শেষ হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন হওয়ায় ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় সমাপ্ত ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে বিকল্প আরেকটি প্রকল্পের অপেক্ষায় রয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। তবে নতুন প্রকল্প কবে অনুমোদন পাবে কিংবা কবে নাগাদ সংযোগ সড়কটি পুরোপুরি চালু হবে, সে অনিশ্চয়তা এখনো কাটছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুলাউড়ার শরীফপুর ও হাজীপুর ইউনিয়নের শত শত লোক প্রতিদিন উপজেলা সদরে এসে তাদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সারতে হয়। শরীফপুর ও হাজীপুর ইউনিয়নের বেশির ভাগ লোক কমলগঞ্জের শমসেরনগর হয়ে দীর্ঘ রাস্তা পেরিয়ে কুলাউড়া উপজেলা সদরে আসতে হয়। এতে তাদের প্রচুর অর্থ ও সময় নষ্ট হয়।

শুধুমাত্র একটি সংযোগ সড়কের অভাবেই তাদের এ দুর্ভোগ। এক্ষেত্রে শত কোটি টাকা প্রকল্পের সেতুটিও কোনো কাজে আসছে না। অন্যদিকে পৃথিমপাশা ইউনিয়নে অবস্থিত সরকারি হাট ‘রবিরবাজার’ উপজেলার পাশ্ববর্তী ৭/৮টি ইউনিয়নের মানুষের ব্যবসার মূল কেন্দ্রস্থল হিসেবেই পরিচিত। এক্ষেত্রেও সংযোগ না থাকায় হাজীপুর ও শরীফপুর ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ কমলগঞ্জের শমসেরনগর গিয়ে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সংযোগ সড়কটির কাজ সম্পন্ন হলে তাদের দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হতো। কিন্তু গত ৮ বছরেও তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে ৯৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে রাজাপুর সেতু প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। ২৩২ দশমিক ৯৪ মিটার দীর্ঘ মূল সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত সাড়ে ৭ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক ও ২০টি কালভার্টের কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্নের দাবী করা হলেও সংযোগ সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোর কাজ নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। এমনকি নির্মাণাধীন সড়কের স্থায়িত্ব ও কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

এদিকে সংযোগ সড়কের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুকে ঘিরে দক্ষিণ কুলাউড়ার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের প্রত্যাশা পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় তাদের ক্ষোভ প্রসারিত হচ্ছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে প্রকাশ, গত ২৬ জুন সংশ্লিষ্ট স্টিয়ারিং কমিটির এক সভায় প্রকল্পটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় সমাপ্ত ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাছাড়া নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশও বাতিল করা হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ বিকল্প প্রকল্পের মাধ্যমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনাও নেয় সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

স্থানীয়রা আরো জানান, রাজাপুর সড়কটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শরীফপুর ও হাজীপুর ইউনিয়নের মানুষ কুলাউড়া উপজেলা সদরে যাতায়াতে সময় ও দূরত্ব অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজারসহ আশপাশের এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহনে ইতিবাচক গতি ফিরবে।

মৌলভীবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে জানান, কুলাউড়ার রাজাপুর সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। সড়কের অবশিষ্ট কাজ বিকল্প আরেকটি প্রকল্পের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। তবে নতুন প্রকল্প চলতি অর্থ বছরেই অনুমোদন পেতে পারে বলেও তিনি জানান।