
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি ||
লন্ডনের রেডব্রিজ বরো কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন লেবার পার্টির কাউন্সিলর সাইয়েদা লাভলী চৌধুরী। তাঁর এই অর্জনে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি আনন্দিত।
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিত মুখ সাইয়েদা লাভলী চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। কমিউনিটির উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কাজে তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থিতি তাঁকে মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
একজন সফল ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নারী রাজনীতিক হিসেবে তিনি নতুন প্রজন্মের নারীদের মূলধারার রাজনীতি ও সমাজসেবায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করছেন। ডেপুটি মেয়র হিসেবে তাঁর নতুন দায়িত্ব কমিউনিটির সেবায় আরও বিস্তৃত ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
দ্বিতীয় বারের মত লেবার মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর নির্বাচিত বিলেতে বাঙালি কমিউনিটিতে যে কয়জন নারীর মূলধারার রাজনীতি, সামাজিক ও শেকড়-সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সমান সরব পদচারণা সৈয়দা চৌধুরী তাদের অন্যতম। একজন টিভি উপস্থাপক, ফ্যাশন ডিজাইনার, সংগীতশিল্পী—এমন আরও অনেক পরিচয়ে ও গুণে সমৃদ্ধ । সিলেট থেকে বিলেত জয় করা এই নারীর—অনাগত ভবিষ্যৎ আরও সৃষ্টিশীল, সফল ও উজ্জ্বল হোক এই শুভকামনা।
উল্লেখ্য যে ,গত ৭ মে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে তিনি নিউবারি (Newbury) ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সৈয়দা চৌধুরী ১ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এর আগে ২০২২ সালের ৫ মে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে ব্রিজ (Bridge) ওয়ার্ড থেকে লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন।
যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে, পূর্ব লন্ডনের প্রধানত বাংলাদেশি-অধ্যুষিত চারটি বরো থেকে ৮০ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। সেগুলো হলো: টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম, রেডব্রিজ এবং বার্কিং ও ড্যাগেনহ্যাম।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে ব্রিটিশ-বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এই নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের ৩০০ জনেরও বেশি ব্যক্তি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
নির্বাচনের ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে, চারটি বরোতেই অধিকাংশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী প্রচলিত মূলধারার দলগুলোকে পাশ কাটিয়ে স্বতন্ত্র ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক মঞ্চের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।
রেডব্রিজেও বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের জোরালো উপস্থিতি সমানভাবে সুস্পষ্ট ছিল, যেখানে নয়জন লেবার কাউন্সিলর এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পাঁচজন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশি প্রার্থীদের প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে ইলফোর্ডের
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একজন কাউন্সিলর (Councillor) হলেন জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। তারা মূলত তাদের নিজ নিজ এলাকা বা ওয়ার্ডের (Ward) মানুষের স্বার্থ রক্ষা এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজ করেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের নতুন প্রজন্ম এখন আর শুধু ভোটার নয়, বরং স্থানীয় নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করছে।
আপনার মতামত লিখুন :