অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস: হাওরের মাঠভরা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় শাল্লার কৃষক


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ন /
অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস: হাওরের মাঠভরা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় শাল্লার কৃষক

হাবিবুর রহমান হাবিব, শাল্লা (সুনামগঞ্জ)

​বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা সতর্কীকরণ ও পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সুনামগঞ্জের হাওর অববাহিকায় অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এই সংবাদে শাল্লাসহ পুরো হাওর অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে তৈরি হয়েছে চরম আতঙ্ক। একদিকে মাঠ ভরা বোরো ধান, অন্যদিকে বন্যার হাতছানি—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে হাওরের কৃষক এখন এক অসম লড়াইয়ে লিপ্ত।

শ্রমিক সংকট ও যন্ত্রের সীমাবদ্ধতা

কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আগামী ২৮ এপ্রিলের মধ্যে হাওরের ৮০ শতাংশ পরিপক্ক ধান জরুরি ভিত্তিতে কেটে ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশনা কার্যকর করা যেন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। হাওরের জমিতে অতিরিক্ত পানি থাকায় হারভেস্টার মেশিন নামানো যাচ্ছে না। এদিকে ধান কাটার জন্য শ্রমিকেরও চরম সংকট দেখা দিয়েছে। শ্রমিকের অভাবে ধান কাটার গতি অত্যন্ত ধীর, যার ফলে বেশিরভাগ ধান এখনো মাঠেই রয়ে গেছে।

সংসারের হাল ধরতে মাঠে শিক্ষার্থীরা

ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখন পরিবারের প্রতিটি সদস্য মাঠের লড়াইয়ে নেমেছেন। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েদেরও আজ বই-খাতা রেখে পরিবারের সাথে ধান তোলার কাজে হাত লাগাতে হচ্ছে। শুধু পেটের অন্ন সংস্থান নয়, বোরো ধানই তাদের বছরের একমাত্র অবলম্বন। এই ধান ঘরে তোলা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই।

প্রকৃতির বৈরিতা ও বাজারের অস্থিরতা

হাওরের কৃষককে সারা বছর লড়াই করতে হয় প্রকৃতির সাথে। কখনো কালবৈশাখী, কখনো শিলাবৃষ্টি, আবার কখনো অসময়ের বৃষ্টি—এই রুদ্রমূর্তির মাঝেই চলে জীবনসংগ্রাম। এর ওপর আছে ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার যন্ত্রণা। সারা সিজন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যে সোনা ফলানো হয়, বাজারে তার সঠিক দাম না পাওয়ায় কৃষকের দীর্ঘশ্বাস কেবল দীর্ঘই হচ্ছে।

ভেঙে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

শাল্লার কৃষকরা এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রহর গুনছেন। যদি পূর্বাভাস অনুযায়ী বন্যা চলেই আসে, তবে মাঠের ফসল তলিয়ে যাবে, আর সেই সাথে ভেঙে যাবে হাজারো কৃষক পরিবারের বেঁচে থাকার শেষ স্বপ্ন। ধান কাটা, মাড়াই, শুকানো এবং গোলায় তোলা—এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আগেই বন্যার আশঙ্কা তাদের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের প্রতি আহ্বান

হাওরের এই দুর্দিনে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ যদি জরুরি ভিত্তিতে শ্রমিক সহায়তা প্রদানসহ কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবেই কৃষকের দুঃখ কিছুটা লাঘব হতে পারে। অন্যথায়, শাল্লার কৃষি অর্থনীতি চরম ক্ষতির মুখে পড়ার তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। হাওরবাসীর একমাত্র দাবি—প্রকৃতির এই বৈরী সময়ে তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফলানো সোনার ধানটুকু যেন নিরাপদে গোলায় ওঠে।