
তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ, জামালগঞ্জ
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে উপজেলায় সাচনাবাজার খেয়া ঘাটের জামালগঞ্জ অংশে ঘাটলা নির্মাণে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার সবচেয়ে জনবহুল অধ্যুষিত স্থান জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার খেয়া ঘাটে যাত্রীদের জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁচেছে।
জানা গেছে, খেয়া পাড়াপাড়ে জামালগঞ্জ সরকারী মডেল স্কুল সংলগ্ন ঘাটলা নির্মানে সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ থেকে ২০ (বিশ) লাখ টাকা বরাদ্ধে কাজ পান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মালতি এন্টার প্রাইজ। চলতি চৈত্র মাসের শেষ তারিখে ঘাটের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। শুধু পিলার ও রড এটে রেখে প্রায় চার মাস অতিবাহিত হলে তেমন কোন দৃশ্যমান কাজ চোখে পড়েনি।
এ নিয়ে দৈনিক নয়াদিগন্তের অনলাইনে রির্পোট প্রকাশ হলে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মালতি এন্টারপ্রাইজ তড়িগড়ি করে ঢালাই কাজ শুরু করে। নির্মাণাধীন কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সরেজমিন দেখা যায়, সিঁড়ির ভীমের গোড়া অনেকাংশে ফাঁকা রেখেই ঢালাই করা হয়েছে। পরে সেখানে মাটি দিয়ে ভরাট করে ঢেকে দেয়া হয়। এই কাজ কত দিন টেকসই হবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। ঢালাই কাজে ব্যবহৃত পাথর যথাযথভাবে পরিষ্কার না করেই ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নির্মাণের স্থায়ীত্বকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
এই ঘাট দিয়েই প্রতিদিন জামালগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার জনসাধারণ ছাড়াও পাশ্ববর্তী উপজেলা ধর্মপাশা ও মোহনগঞ্জের মানুষও এই ঘাটে দিয়ে খেয়া নায়ে সুরমা নদী পাড় হয়ে উপজেলার বৃহৎ সাচনাবাজার ও জেলা শহর ও বিভাগীয় শহর সিলেট যাতায়াত করেন। আবার নদীর ওপাড়ের হাজার হাজার মানুষ ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা জামালগঞ্জ উপজেলা সদরে আসেন। ঘাট নির্মাণ কাজ বিলম্বের কারণে দুই পাড়ের লাখো মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
জামালগঞ্জ পাড়ের ঘাট নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীরা বিকল্প একটি সরু পথ দিয়ে চলাচলে নারী-পুরুষ ও শিশুদের নিয়ে চরম বিরম্বনা পোহাচ্ছেন। এতে করে খেয়া পাড়াপাড়ের উঠা নামার সময় প্রচণ্ড ভীরের কারনে টোল আদায়ে গত তিন মাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ঘাটের ইজারাদারও। অপর দিকে সাচনাবাজার অংশের ঘাটটি বেশী খাড়া থাকায় যাত্রী উঠা নামায় দুর্ভোগসহ দুর্ঘটনার শিকারও হচ্ছেন লোকজন।
সাচনাবাজার খেয়া ঘাট পাড়াপাড়ের ইজারাদার মো: শহীদুর রহমান বলেন, প্রায় তিন মাস যাবৎ জামালগঞ্জ অংশের ঘাট নির্মাণ কাজে টিকাদার গাফিলতি করছেন। এ কারণ জনদূর্ভোগ বেড়েছে। ঘাট নির্মাণে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীরা বিকল্প একটি চিপা (সরু) পথে নারী-পুরুষ ও শিশুদের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। এতে করে খেয়া পাড়াপাড়ের সময় প্রচণ্ড ভীরের কারনে টোল আদায়ে গত তিন মাসে আমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এখানে পরিদর্শনে আসলে; আমি উনাকে ঘাট নির্মাণ কাজ বিলম্বের কারনে জনগনের চলাচলে সমস্যা সৃষ্টিসহ আমার টোল আদায়ে ক্ষতির বিষয়টি জানিযেছি। তিনি এটি দেখবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মালতি এন্টারপ্রাইজের মালিক বাপ্পি বলেন, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বালু মাটি হওয়ায় একটা ভীমের আংশিক মাটি সরে গিয়েছিল। বস্তা ভরে আমরা মাটি ভরাট করে দিয়েছি আশা করি কোন সমস্যা হবেনা।
জামালগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আয়াত উল্লাহ্ বেহেস্তি বলেন, এই কাজটি আমাদের না, জেলা পরিষদের কাজ, তবুও আমরা দেখছি। যতটুকু সম্ভব ঠিকাদারকে ভালোভাবে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
আপনার মতামত লিখুন :