
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
গাজীপুর সাফারি পার্কে ৪ বছর বয়সী হাতি জয়িতার আক্রমণে গুরুতর আহত শাহী বাহাদুর ওরফে রাজু (১২)-এর অবস্থা এখন সংকটাপন্ন। যার লাইসেন্স নং ০৩/২০২৪ ইং। হাতিটি প্রায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে, এমনটি দাবী করছেন হাতির মালিক আতিকুর রহমান। গত ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবরে তিনি একটি লিখিত আবেদন করেছেন। ওই আবেদনে তিনি ১২ বছর বয়সী হাতি ‘রাজু’-এর উন্নত চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। এর আগে গত ১ জুলাই আতিক আগারগাঁওস্থ প্রধান বন সংরক্ষকের কাছে আরেকটি লিখিত আবেদন করেন। সেই আবেদনে হাতিটির বর্তমান বাজারমূল্য ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করেন। এটি লালনপালনে তার আরও ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে দাবি করে অসুস্থ হাতিটির চিকিৎসার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণও চান তিনি। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান বংশপরম্পরায় হাতি লালনপালন করে আসছেন। রাজুসহ তার মোট ৫টি হাতি বর্তমানে রয়েছে। এগুলো লালনপালনে বন বিভাগের নিবন্ধনও আছে।
জানতে চাইলে মুঠোফোনে আতিকুর রহমান বলেন, গত বছরের ২১ মার্চ সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে হাতিটি আটক করে সাফারি পার্কে নিয়ে রাখা হয়। পার্কের হাতিশালায় যেখানে ৫টি হাতি থাকার কথা সেখানে রাজুসহ আরও ১০টি হাতি রয়েছে। শিকলবাধা রাজুর উপর চলতি বছরের ২৪ মে আক্রমণ করে পার্কের উম্মুক্ত হাতি জয়িতা। আক্রমণে রাজুর সামনের ২টি পা ভেঙ্গে যায়। এই খবরটি তাকে না জানানোয় তিনি পার্ক কর্তৃপক্ষকে ঘটনার জন্য দায়ী করে বলেন, এখানে তার সম্পূর্ণ গাফিলতি রয়েছে।
আতিকুর রহমান আরো জানান, প্রায় দেড় মাস ধরে হাতিটির চিকিৎসা চলছে। এখনো সে দাঁড়াতে পারেনি। দিনের পর দিন সে আরো দুর্বল হচ্ছে। অন্য হাতির আক্রমণের বিষয়টি পার্ক কর্তৃপক্ষের নজরে রাখা দরকার ছিল। তিনি সেটি করেননি। এখানে তার গাফিলতি রয়েছে। হাতিটিকে এখন বাঁচানো জরুরি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চান।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট নারায়ণগঞ্জ থেকে ‘রাজু’ নামের হাতিটিকে উদ্ধার করা হয়। হাতিটি রাস্তায় ও বিভিন্ন বাজারে চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহৃত হতো। উদ্ধারের পর তাকে সাফারি পার্কের হাতিশালায় নেওয়া হয়।
এদিকে সাফারি পার্ক সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৪ মে হাতিশালায় সাফারি পার্কে অন্য একটি হাতি তার উপর আক্রমণ করে। হাতিটির সামনের একটি পা ভেঙে যায়। অন্য পায়েও একটু আঘাত লাগে। পরে ক্রেন দিয়ে হাতিটিকে বালুর ঢিবির ওপর রাখা হয়। মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ৪ জুন থাইল্যান্ড থেকে দুজন বিশেষজ্ঞ বন্য প্রাণী চিকিৎসকও আনা হয়েছে। তারা চিকিৎসা চালাচ্ছেন।
গাজীপুর সাফারি পার্কের সহকারি বনসংরক্ষক তারেক রহমান মুঠোফোনে বলেন, ওই পার্কে বর্তমানে ১০টি হাতি আছে। এর মধ্যে চারটি পুরুষ হাতি সব সময়ই শিকলবন্দী থাকে। তিনি বলেন, হাতি রাজু’র অবস্থা এখনো অপরিবর্তিত। সে খাবার কম খাচ্ছে। থাইল্যান্ডের চিকিৎসকেরাও নিয়মিত তার খোঁজখবর রাখছেন।
আপনার মতামত লিখুন :