​শাল্লার শতবর্ষী চাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত।।


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২২, ২০২৬, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন /
​শাল্লার শতবর্ষী চাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত।।

হাবিবুর রহমান হাবিব, শাল্লা (সুনামগঞ্জ) থেকে :

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘চাকুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি দীর্ঘ ১০৯ বছরে পদার্পণ করলেও আজও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত। আধুনিক শিক্ষার যুগে জেলার প্রতিটি উপজেলায় দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মিত হলেও এই শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানটি আজও জরাজীর্ণ ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে।

​সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো অত্যন্ত নড়বড়ে। ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে, দেয়ালে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষ প্লাবিত হয়। এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে এখানে মোট ২৬৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত।

বিদ্যালয়টিতে কোনো স্থায়ী শহীদ মিনার নেই। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্যোগে সংগৃহীত বাঁশ, কাঠ ও কাগজ দিয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানায়। ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরিয়ান তালুকদার ও পারমিতা সরকার জানায়, তাদের খুব ইচ্ছা বিদ্যালয়ে একটি সুন্দর ও স্থায়ী শহীদ মিনার থাকবে।

​স্থানীয় অভিভাবক সমর দাস ও সুকেশ দাস ক্ষোভের সাথে বলেন, “যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে জেনেও নিরুপায় হয়ে সন্তানদের এখানে পাঠাচ্ছি। অন্যান্য স্কুলে সরকারি বরাদ্দ পৌঁছালেও আমাদের এই প্রাচীন স্কুলটি কেন বঞ্চিত হচ্ছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না।”
​বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসীম কুমার সিংহ আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে নিজেদের হাতে বাঁশ-কাঠের মিনার বানায়—এটি যেমন গর্বের, তেমনি কর্তৃপক্ষের অবহেলার এক বড় প্রমাণ। আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি, কিন্তু আজো নতুন ভবন বা শহীদ মিনার নির্মাণের আশ্বাস বাস্তবায়ন হয়নি।”
​এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার রায়ের সাথে কথা হলে তিনি জানান, নতুন ভবন নির্মাণের জন্য বিদ্যালয়টি বর্তমানে তালিকাভুক্ত আছে।
​তবে চাকুয়া গ্রামের বাসিন্দারা অবিলম্বে আধুনিক ভবন ও স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, দ্রুত সংস্কার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা না হলে এই প্রাচীন প্রতিষ্ঠানটি অচিরেই বিলীন হয়ে যেতে পারে।