লজ্জার রেকর্ড নৌকার প্রার্থীদের


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৮, ২০২২, ১:৩১ পূর্বাহ্ন /
লজ্জার রেকর্ড নৌকার প্রার্থীদের

ডেস্ক রিপোর্ট। দি সিলেট পোস্ট।

পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীরাই বেশি বিজয়ী হয়েছেন। এ নির্বাচনে লজ্জাকর ফলাফলের বেকর্ড করেছেন অনেক আওয়ামী লীগ প্রার্থী। তারা জামানতও হারিয়েছেন। এরমধ্যে লজ্জার ফলাফল করেছেন ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার ৬ নম্বর ফলসী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নিমাই চাঁদ মন্ডল। তিনি ভোট পেয়েছেন মাত্র ৪২টি। ফরিদপুরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে লজ্জার রেকর্ড গড়েছেন সদরপুর উপজেলার চরমানাইর ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. বজলু মাতুব্বর। তিনি মাত্র ৫৬টি ভোট পেয়ে ১১ প্রার্থীর মধ্যে সপ্তম হয়েছেন। হারিয়েছেন জামানত। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ ধাপে আওয়ামী লীগ জয় পেয়েছে ৪৯.২৭ শতাংশ ইউপিতে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র-বিদ্রোহী ও অন্যান্য দল ৫০.৭২ শতাংশ ইউপিতে বিজয়ী হয়েছে। গতকাল ইসি প্রকাশিত ৬৯২ ইউপির ফলাফল প্রকাশ করে। ইসি জানিয়েছে, পঞ্চম ধাপে ইসির প্রকাশিত ৯৯২ ইউপির ফলাফলে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৩৪১টি, স্বতন্ত্র ৩৪৬টি, জাতীয় পার্টি দুটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি একটি ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ একটিতে জয় পেয়েছে। বিগত চার ধাপের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে ৪৮.৫১ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে পরাজিত হয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৫১.৪৯ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র, জাপাসহ অন্যান্য দল ৪৮.৫১ শতাংশ ইউপিতে বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত ৭৯৬ ইউপির ফলাফল বিশ্লেষণে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ২৭ ইউপিতে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দেয়নি।

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৪৭.০৬ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে পরাজিত হয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৫২.৯২ শতাংশ; স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৪৪.৯৫ শতাংশ ও জাপাসহ অন্যান্য দল ২.১১ শতাংশ ইউপিতে জয় পেয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ৪২ শতাংশই পরাজিত হয়েছেন। যদিও প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা ৭৩.৪৮ শতাংশ বিজয়ী হয়েছিলেন। আর ওই ধাপে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন ২৪.২২ শতাংশ ইউপিতে। গত ১১ নভেম্বরের দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ৫৮.২৭ শতাংশ জয়ী হয়েছেন। বাকি ৪১.৭৩ শতাংশ নৌকার প্রার্থী নিজ দলের বিদ্রোহী, স্বতন্ত্র (বিএনপি), অন্যান্য দলের প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন। এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন ৩৯.৫৬ শতাংশ। তাদের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত নেতারাও আছেন। প্রথম ধাপে গত ২১ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বরের ভোটে নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা ৭৩.৪৮ শতাংশ ইউপিতে জয়ী হন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছিলেন ২৪.২২ শতাংশ ইউপিতে।