সিসিকের পানির বিল কমানোর দাবিতে বালতি হাতে নারী-পুরুষ রাস্তায়


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২৯, ২০২১, ১:১৭ পূর্বাহ্ন /
সিসিকের পানির বিল কমানোর দাবিতে বালতি হাতে নারী-পুরুষ রাস্তায়

সিলেট প্রতিনিধিঃ

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) পানির বিল বৃদ্ধি নিয়ে গত ৩ মাস ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছেন নগরবাসী।

হঠাৎ করেই পানির দাম বাড়িয়ে দ্বিগুণ করায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের নাগরিকরা। সিসিকের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে ৩ মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) বালতি ও কলসি হাতে রাস্তায় নেমে আসেন নগরীর ১ ও ৭নং ওয়ার্ডের নারী-পুরুষ। প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে সিসিককে দ্রুত এ সিদ্ধান্ত হতে সরে আসার দাবি জানান তারা।

চলতি বছরের জুলাই থেকে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) পানির বিল বাড়িয়ে দিয়েছে। এ নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এই ইস্যুতে অনেকেই নেমে এসেছেন রাস্তায়। প্রায় প্রতিদিন নগরীর কোনো না কোনো স্থানে পালন করছেন মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি।

এমন পরিস্থিতিতে গত ১৩ ডিসেম্বর নগরভবনে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সিসিক কাউন্সিলরদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মেয়রের প্রতি কাউন্সিলররা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে পানির বিল কমানোর দাবি জানান। তবে এ বিষয়ে ওই দিন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে সিসিকের সাধারণ সভা ডেকে ‘নতুন সিদ্ধান্ত’ হবে বলে সেদিন জানিয়েছিলেন মেয়র আরিফ। তবে এ নিয়ে আর বৈঠক হয়নি নগরভবনে। যার ফলে ক্ষুব্ধ ও হতাশ নগরবাসী প্রতিদিনই চালিয়ে যাচ্ছেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে বিকাল ৩টায় নগরীর ফাজিলচিশত এলাকায় ১ ও ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের বালতি-কলসি হাতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়।

জানা যায়, চলতি বছরের ২১ জুন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নগরীতে মাসিক পানির বিল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয় সেই সভায়; যা কার্যকর করা হয় ১ জুলাই থেকে। কিন্তু পানির বিল বৃদ্ধির বিষয়টি সিসিক গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সবাইকে জানায় সিদ্ধান্তের ৪ মাস পর অর্থাৎ- গত ২ সেপ্টেম্বর। এরপর থেকে বাড়তি পানির বিল ঘিরে ‘জল ঘোলা করা’ শুরু হয় সিলেটে। করোনা পরিস্থিতিতে নানামুখী সংকটে পড়া মানুষ বাড়তি বিলের বোঝা টানতে নারাজ।

উল্লেখ্য, সিলেট মহানগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৮ কোটি লিটার। কিন্তু সিসিক প্রায় ৬ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে সক্ষম হয়। কুশিঘাটস্থ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং নগরীর বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ৪২টি গভীর নলকূপের সাহায্যে পানি উত্তোলন করে সরবরাহ করা হয়।

গত ২ সেপ্টেম্বর সিলেটের স্থানীয় একটি পত্রিকায় পানির বিল বাড়ানোর বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয় সিটি করপোরেশন (সিসিক)। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১ জুলাই থেকে পানির বিল বৃদ্ধির বিষয়টি কার্যকর হয়েছে।

আবাসিক সংযোগে প্রতি মাসে আধা ইঞ্চি ডায়ামিটারের (ব্যাস) লাইনে বিল ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা, পৌনে এক ইঞ্চি ব্যাসের লাইনে বিল ৪০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা এবং এক ইঞ্চি ব্যাসের লাইনে ১ হাজার টাকার পরিবর্তে দেড় হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বাণিজ্যিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি সংযোগে আধা ইঞ্চি ব্যাসের লাইনে মাসিক বিল ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা, পৌনে এক ইঞ্চি ব্যাসের লাইনে ৭০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকায় বাড়ানো হয়। এ ছাড়া, এক ইঞ্চি ব্যাসের লাইনে বাণিজ্যিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে মাসিক বিল দেড় হাজার পরিবর্তে ২ হাজার ২০০ টাকা, প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা এবং সরকারি গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে দেড় হাজার টাকা করা হয়।