ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কে. এম. টি হুসেইন-এর ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী পালন


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২২, ২০২১, ১:৪৬ পূর্বাহ্ন /
ভাষাসৈনিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কে. এম. টি হুসেইন-এর ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী পালন
অ আ আবীর আকাশ, ফরিদপুর থেকে ঘুরে এসেঃ 
ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলাস্থ গজারিয়া গ্রামের মরহুম কে. এম. টি হুসেইন (কে. এম.  তোফাজ্জল হুসেইন। ১৯৩৬-২০১৩) একজন ভাষাসৈনিক এবং রাষ্ট্রীয় সম্মানপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তিনি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়য় এর অধীন বাংলাদেশ সরকারী মুদ্রণালয় ( বিজি প্রেস)এর অধীনে ‘শ্রম-কল্যান অফিসার্থ (১ম শ্রেণির গেজেটেড অফিসার) পদে কর্মরত ছিলেন।
তিনি বাংলাদেশ সরকারী মুদ্রণালয়ের সিবিএ এর নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর  রহমান এর ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য পেয়েছিলেন। চাকুরীর পাশাপাশি তিনি লেখালেখি করতেন। দৈনিক বাংলা এবং ইত্তেফাকে তার লেখা কলাম এবং চিঠিপত্র বিভাগে তার লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হতো। ১৯৫২ সালে ছাত্র থাকাকালিন অবস্থায় তিনি ভাষা আন্দোলনের সাথে সক্রিয় ভাবে যুক্ত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার চন্ডিবরদী গ্রামে পাক হানাদারগণ আগুন জ্বালালে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে আক্রমণ করলে তিনি জীবনের মায়া ছেড়ে দিয়ে উর্দু ভাষায় পাকবাহিনীদের সাথে তুমুল বাক-বিতণ্ডা করেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের উপরে আক্রমণ করতে নিষেধ করেন। তার কথায় পাক বাহিনী ভড়কে যায় এবং উক্ত গ্রাম থেকে চলে যায়। (তথ্যসূত্রঃ সোলায়মান আলী মোল্লার লিখিত এবং ড. তপন বাগচী সম্পাদিত ‘ফরিদপুরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস্থ গ্রন্থ)।
তিনি পাক হানাদারদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং আহত হন। দেশ স্বাধীন হবার পরে  তিনি সরকারী চাকুরী থেকে অবসর গ্রহন করে পদে দীর্ঘ বছর কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি ঝওখঠঅ এৎড়ঁঢ় এর ম্যানেজার (প্রসাশন), ঞড়ঢ় ঞধংঃব  ঋড়ড়ফ চৎড়পবংংরহম খঃফ এর জেনারেল ম্যানেজার, কধষিধস ঝবিধঃবৎ খঃফ এর জেনারেল ম্যানেজার
(প্রশাসন) জেনারেল ম্যানেজার এর পদে চাকুরী  করেন।
২০০১ সালে তিনি চাকুরী জীবন সমাপ্ত করে নিজ জন্মস্থান ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার  গজারিয়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন। এলাকায় বসবাস কালীন সময়ে তিনি রাজনীতির সাথে সক্রিয় হয়ে  নগরকান্দা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল এবং উপজেলা আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধালীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর সকালে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলা পরিষদ কর্তৃক সরকারী  ভাবে আয়োজিত ‘বিজয় দিবসে সরকারী অনুষ্ঠান-এ তার সভাপতিত্ব করার কথা থাকলেও উক্ত দিন  সকাল ৫ ঘটিকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
১৬ ডিসেম্বর তার ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী। মরহুম কে. এম. টি হুসেইন এর আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করে তার পুত্র লেখক, সাংবাদিক, ঢাকা সাহিত্য পরিষদ-এর নির্বাহী সভাপতি জায়েদ হোসাইন লাকী এবং অপর পুত্র খালিদ হোসাইন বাকী তাদের পিতার আত্মার শান্তি কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।