কুলাউড়ায় ভারপ্রাপ্তের ভারে ১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান : ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান


দ্যা সিলেট পোস্ট প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৮, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন / ০
কুলাউড়ায় ভারপ্রাপ্তের ভারে ১৯ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান : ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান

আব্দুল কুদ্দুস, কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) থেকে:

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজসহ নামী-দামী ৪টি কলেজ, ৩টি মাদ্রাসা ও ১২টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভারপ্রাপ্ত প্রধানদের ভারে নুয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন যাবত এসব প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ অধ্যক্ষ, সুপার কিংবা প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম যেনো খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধানগণ নিয়মিত নিজের ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রশাসনিক চাপ সামলাতে হয়, যার ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এতে করে প্রতি বছর এসএসসি, এইচএসসি এবং সমমানের পরীক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল অর্জন হয়না।

শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, খোদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসেও গত প্রায় আড়াই বছর ধরে নেই শিক্ষা কর্মকর্তা। ওই কার্যালয়ের একাডেমিক সুপারভাইজার শফিকুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এদিকে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রধানগণ না থাকায় প্রশাসনিক কাজ ও পাঠদানে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবক ও স্থানীয়রা মনে করছেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসসহ এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারপ্রাপ্তের ভারে অনেকটা নুয়ে পড়েছে। সরকারের প্রতি তাদের দাবি, অতি দ্রুত এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, সুপার এবং প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ভারমুক্ত করে শিক্ষার মানকে এগিয়ে নেওয়ার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুলাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার প্রায় আড়াই বছর আগে কুলাউড়া থেকে বদলি হন। তাঁর বদলির পর এখানে আর কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়নি। একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শফিকুল ইসলাম গত আড়াই বছর থেকে এ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দৈনন্দিন কাজের ফাঁকে
অনেক সময় আবার সরকারি কর্মসূচিতেও তাকে অংশগ্রহণ করতে হয়। ফলে উপজেলা শিক্ষা অফিস কিংবা প্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই তিনি পুরোপুরি সময় দিতে পারছেন না।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে গত ৯ মাস থেকে দায়িত্ব পালন করছেন কলেজের অধ্যাপক একে এম শাহজালাল। শহরের গুরুত্বপূর্ণ আরেক প্রতিষ্ঠান ইয়াকুব তাজুল মহিলা ডিগ্রি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে গত আড়াই বছর থেকে চলছে সকল কার্যক্রম। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন কলেজের অধ্যাপক সুজাতা সরকার। উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজে প্রায় একযুগ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে আতাউর রহমান দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনিও চলতি বছরের ৯ এপ্রিল অবসরে চলে যান। এরপর সেখানে ফের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে কলেজের অধ্যাপক নজমুল হোসেন দায়িত্ব পালন করছেন। উপজেলার আরেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ভাটেরা ডিগ্রি কলেজে গত আড়াই বছর থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. সলিম উদ্দিন। ভারপ্রাপ্তের ভারে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক কার্যক্রম, পাঠদানসহ দৈনদিন কাজেও চরম বিঘ্ন ঘটছে।

তাছাড়া উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক কিংবা জ্যেষ্ঠ কোনো শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এরমধ্যে বরমচাল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ফেরদৌসী সুলতানা, ভূকশিমইল স্কুল এন্ড কলেজে নুরুল ইসলাম, উত্তর কুলাউড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে আনিসুর রহমান, জালালাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে আব্দুস সবুর, আলী আমজদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে শশাঙ্ক শেখর গোস্বামী, শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শতদল দে, শাহ সুন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ে তাজুল ইসলাম, রাউৎগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে মো. জাকারিয়া, হাজীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সুমন্ত গোপাল দত্ত, তেলিবিল উচ্চ বিদ্যালয়ে সাইফুল ইসলাম, নবীগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে বানু রাম বিশ্বাস ও লংলা উচ্চ বিদ্যালয়ে আব্দুল খালিক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এছাড়াও উপজেলার হিংগাজিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে মুফতি গোলাম সরওয়ার, মনসুর মোহাম্মদিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় মাওলানা মো. ওবাইদুল্লাহ ও বরমচাল হযরত খন্দকার (র.) দাখিল মাদ্রাসায় ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে মাও. লুৎফুর রহমান দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

জানতে চাইলে মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আসমা সুলতানা নাসরীন বলেন, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত প্রধানদের দিয়ে চলছে সেখানে স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়োগ দেওয়ার বর্তমানে সুযোগ নেই। একমাত্র সরকার যদি লোকবল দেয় তাহলে এনটিআরসির মাধ্যমে সেই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শূণ্য পদে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়োগ দেওয়া যাবে। যে সব এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের পদ শূণ্য রয়েছে সেগুলোর চাহিদা চেয়ে একটি তালিকাও প্রেরণ করা হয়েছে।