রুহুল হোসেন: ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত


Nazrul Islam প্রকাশের সময় : জুন ১৯, ২০২৬, ৯:৫৩ পূর্বাহ্ন /
রুহুল হোসেন: ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা ও পারিবারিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

সাক্ষাৎকার গ্রহণে: নজরুল ইসলাম (ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট)

​পারিবারিক ও ব্যবসায়িক উভয় ক্ষেত্রেই সফল ব্যক্তিদের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করা সত্যিই এক গভীর অনুপ্রেরণার উৎস। রুহুল হোসেনের মতো একজন সফল ব্যক্তিত্বের গল্প কেবল ব্যবসায়িক কৌশল বা মুনাফার হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাঁর জীবনবোধ, দূরদর্শিতা এবং সমাজ গঠনে তাঁর নিঃস্বার্থ অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
​একজন সফল ব্যবসায়ীর প্রশংসা করার সময় কেবল আর্থিক সাফল্যের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ না করে, তাঁর নিরলস পরিশ্রম, কৌশলগত নেতৃত্ব এবং সমাজের প্রতি তাঁর ইতিবাচক প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া অপরিহার্য। এই ধরনের মূল্যায়ন কেবল ব্যক্তির স্বীকৃতি নয়, বরং অন্যদের জন্য একটি শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

রুহুল হোসেনের বেড়ে ওঠা ও পারিবারিক লিগ্যাসি।

রুহুল হোসেন জন্মগ্রহণ করেন সিলেটের জগন্নাথপুরে hason ফতেপুর গ্রামে। বসবাস করেন সিলেটের তালতলা রুহুল টাওয়ারে। স্থায়ীভাবে বসবাস করেন যুক্তরাজ্যের Waltham Abbey, Essex, England, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী Indian Lounge. King’s Cross.

​রুহুল হোসেনের পিতামহ, সিলেটের জগন্নাথপুরের আইয়ুব আলী মাস্টার, ১৯১৯ সালে যুক্তরাজ্যে আসেন এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের কমার্শিয়াল রোডে ‘শাহজালাল’ নামে একটি রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি ইউকে মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন। রেস্তোরাঁ ব্যবসার পাশাপাশি তিনি ১৩ সেন্ডি রেগোতে ‘ওরিয়েন্ট ট্রাভেলস’ নামে একটি ভ্রমণ সংস্থাও প্রতিষ্ঠা করেন। জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি স্থায়ীভাবে নিজ দেশে ফিরে যান এবং মৃত্যুর আগে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮০ সালের ১ এপ্রিল হাসান ফতেপুরের নিজ বাসভবনে তাঁর মৃত্যু হয়।

​আইয়ুব আলী মাস্টার দেশে ফিরে গেলে যুক্তরাজ্যে তাঁর ব্যবসার দায়িত্ব নেন তাঁরই ভাতিজা মফাজ্জল হোসেন। ১৯৫৩ সালে তিনি পিতার পথ অনুসরণ করে উত্তর ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে ‘দিলকুশ’ নামে তিনটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পরবর্তীতে উত্তরাধিকার সূত্রে রুহুল হোসেন পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

​রুহুল হোসেন ব্রিটেনে বসবাসকারী বাঙালি কমিউনিটির একজন সফল ক্যাটারিং ব্যবসায়ী, যিনি বহু বছরের পারিবারিক ব্যবসার ঐতিহ্যকে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। আজ এমন একজন সম্ভাবনাময় ব্যক্তিত্বের সমাজকর্ম, নিঃস্বার্থ দান-অনুদান এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনা একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমার দৃষ্টি কেড়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, এই মূল্যায়ন তাঁকে সমাজকল্যাণমূলক কাজে আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।

মুখোমুখি সাক্ষাৎকার:
নজরুল ইসলাম ও রুহুল হোসেন

প্রশ্ন:
আপনার সফলতার এই পর্যায়ে আসার পেছনে আপনার পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড বা ছোটবেলার কোনো শিক্ষার কি বিশেষ ভূমিকা ছিল?

উত্তর:
জীবনে সফল হতে হলে কাজ করে যেতে হবে, পরিশ্রমী ও সৎ হতে হবে, বই পড়ে জ্ঞানসমৃদ্ধ হতে হবে, সুস্থ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে হবে, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে এবং সৃষ্টিকর্তার উপর পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। আমার পিতামহ ও পিতার উত্তরাধিকারী হিসেবে আমি তাদের দেখানো পথেই হেঁটেছি, তাদের নীতি-আদর্শকে আঁকড়ে ধরেছি। অত্যন্ত কাছ থেকে তাদের ব্যবসায়িক দর্শন দেখার ও শেখার সুযোগ হয়েছে আমার। আপনি জেনে খুশি হবেন, আমরা ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে পারিবারিক ব্যবসার ১০০ বছর পার করেছি।

প্রশ্ন:
ক্যারিয়ারের একদম শুরুর দিকে পরিবারকে সময় দেওয়া এবং ব্যবসা দাঁড় করানোর মধ্যে ভারসাম্য রাখাটা কতটা কঠিন ছিল?

উত্তর;
একটি নতুন ব্যবসা দাঁড় করানোর প্রাথমিক সময়টাকে বলা হয় “ফায়ার ফাইটিং ফেজ”। প্রতিদিন নতুন নতুন সমস্যা আসবে, যার কোনো বাঁধা-ধরা সমাধান নেই। যখন দিন শেষে ২৪ ঘণ্টাই কম মনে হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই যেকোনো একদিকের সময় কেটে অন্য দিকে দিতে হয়। আর শুরুর দিকে সাধারণত পরিবারই সেই ত্যাগটা স্বীকার করে।

প্রশ্ন:
আপনার ব্যবসার মূল দর্শন বা প্রিন্সিপাল কী, যা আপনাকে বাজারে অন্যদের চেয়ে আলাদা করেছে? ব্যবসা বা ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং সময় কোনটি ছিল এবং কীভাবে আপনি তা কাটিয়ে উঠেছেন?

উত্তর:
আমি যদি আপনার প্রশ্নের উত্তর সংক্ষিপ্তভাবে দেই তাহলে বলব—আজকের দিনে বাজারে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হলো, অহংকার না করে প্রতিনিয়ত নিজেকে ‘রি-ইনভেন্ট’ (পুনরায় আবিষ্কার) করা। আমি সেই নীতিতেই বিশ্বাস করি।

প্রশ্ন:
একজন ব্যবসায়িক নেতা হিসেবে আপনার টিম বা কর্মচারীদের অনুপ্রাণিত করার মন্ত্র কী?

উত্তর:
একজন লিডার বা ব্যবসায়িক নেতার সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো এমন একটি টিম তৈরি করা, যারা লিডারের অনুপস্থিতিতেও একই গতিতে কাজ করে। আমার দৃষ্টিতে, টিমকে অনুপ্রাণিত করার মন্ত্র কোনো সস্তা মোটিভেশনাল স্পিচ বা শুধু মাস শেষে বোনাস দেওয়া নয়। এর পেছনে রয়েছে গভীর কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতি।

প্রশ্ন:
অনেকেই মনে করেন চরম ব্যবসায়িক ব্যস্ততার মাঝে পরিবারকে কোয়ালিটি টাইম দেওয়া অসম্ভব। আপনি এই মিথ বা ধারণাটি কীভাবে ভাঙলেন?

উত্তর:
ব্যস্ততার অজুহাতে পরিবারকে সময় না দেওয়াটা আসলে কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, বরং এটি আমাদের অগ্রাধিকার বা প্রায়োরিটি সেট করতে না পারার ব্যর্থতা। ব্যবসা বা ক্যারিয়ারের শুরুতে যে চরম ব্যস্ততা থাকে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু “ব্যস্ততা মানেই পরিবারের সাথে দূরত্ব”—এই ধারণাটি আমি ভেঙেছি মূলত আমার লাইফস্টাইল এবং মানসিকতায় বড় পরিবর্তনের মাধ্যমে।

প্রশ্ন:
আপনার জীবনের বড় বড় ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তগুলোতে আপনার পরিবারের ভূমিকা বা সমর্থন কেমন থাকে? কাজের চাপ বা মানসিক ক্লান্তি যখন ঘরে নিয়ে আসেন, তখন পরিবারের সাথে সম্পর্কের ওপর তার প্রভাব কীভাবে সামলান?

উত্তর:
আমার জীবনের বড় বড় ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত এবং মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষেত্রে আমার পরিবার কোনো ‘দর্শক’ নয়; বরং তারা আমার পেছনের মূল শক্তি এবং নোঙর (Anchor)। একজন সফল ব্যক্তির পেছনে একটি সমমনা এবং সাপোর্টিভ পরিবার থাকা কতটা জরুরি, তা আমি আমার প্রতিদিনের জীবনে অনুভব করি।

প্রশ্ন;
আপনার সন্তান বা পরবর্তী প্রজন্মকে আপনি ব্যবসার কঠিন মারপ্যাঁচ নাকি জীবনের নৈতিকতা—কোনটি আগে শেখাতে চান? তারা কি আপনার ব্যবসাই দেখভাল করবে, নাকি নিজের স্বপ্ন পূরণ করবে—এ বিষয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?

উত্তর:
সন্তান বা পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমার দৃষ্টিভঙ্গি খুব স্পষ্ট এবং আপসহীন। একজন অভিভাবক এবং ব্যবসায়ী হিসেবে আমি মনে করি, তাদের সামনে একটি সফল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি একটি সার্থক জীবন উপহার দেওয়া বেশি জরুরি। আমি আমার সন্তানদের ভালোলাগা, ভালোবাসা এবং তারা নিজেরা কী চায়—সেটার ওপরই বেশি গুরুত্বারোপ করি।

প্রশ্ন:
নতুন উদ্যোক্তা যারা একই সাথে একটি সুন্দর পরিবার এবং সফল ব্যবসা গড়তে চান, তাদের জন্য আপনার প্রধান ৩টি পরামর্শ কী কী?

উত্তর
নতুন উদ্যোক্তা যারা একই সাথে একটি সুখী পরিবার এবং সফল ব্যবসা গড়ার এক কঠিন কিন্তু দারুণ যাত্রায় পা বাড়িয়েছেন, তাদের আমি অভিনন্দন জানাই। এটি অসম্ভব কোনো মিশন নয়, তবে এর জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কিছু কৌশল:
​’পারফেক্ট ব্যালেন্স’ খোঁজা বন্ধ করুন, ‘ইন্টিগ্রেশন’ বা সমন্বয় শিখুন।
​ব্যবসার মতোই পরিবারের জন্য ‘ক্যালেন্ডার ও বাউন্ডারি’ তৈরি করুন।
​শুরুতেই একটি ‘সাপোর্ট সিস্টেম’ এবং ডেলিগেশনের (দায়িত্ব বণ্টন) অভ্যাস গড়ে তুলুন।

প্রশ্ন:
একটি প্রচলিত কৌতুক আছে—”A man is incomplete until he is married. After that, he is finished.” (একজন মানুষ বিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত অসম্পূর্ণ, আর বিয়ের পর সে শেষ!)। প্রত্যেক সফল ব্যক্তির সাফল্যের পেছনে একজন নারীর ভূমিকা থাকে—আপনার জীবনে এটি কতটুকু সত্য? আপনি কি শেষ হয়ে গিয়েছেন?

উত্তর:
(হাস্যরসে) আমি শেষ হয়ে যাইনি! রসিক এই জোকসের সাথে আমি একটু দ্বিমত পোষণ করছি। যার কথা না বললেই নয়—তিনি হচ্ছেন আমার প্রিয় স্ত্রী রুমানা হোসাইন। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আলোচনা অনেক দীর্ঘ হবে। তাঁর ঋণ এই জনমে শোধ করা যাবে না। তিনি আমার সুখ-দুঃখের সারথি, আমার সকল সাফল্যের মূল চাবিকাঠি! সিম্পলি শি ইজ ওয়ান্ডারফুল! আই লাভ মাই ফ্যামিলি।

প্রশ্ন:
আপনার জীবনের মূলমন্ত্র (Motto) কী, যা আপনাকে প্রতিদিন সকালে বিছানা থেকে টেনে তোলে? এবং আপনাকে আশ্বস্ত করছি, এটাই আমার শেষ প্রশ্ন।

উত্তর
আমার জীবনের মূলমন্ত্র খুব সহজ কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী। প্রতিদিন সকালে যখন আমার চোখ খোলে, আমি নিজেকে মনে করিয়ে দিই যে সৃষ্টিকর্তা আমাকে আরও একটা নতুন দিন দিয়েছেন নতুন কিছু করার জন্য, কারও জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার জন্য। এই দায়িত্ববোধ এবং জীবনকে অর্থপূর্ণ করার জেদটুকুই আমাকে প্রতিদিন সকালে বিছানা থেকে টেনে তোলে। আর আপনার শেষ প্রশ্নটির পর আমি অন্তত শান্তিতে আজকের দিনটি শেষ করতে পারব! (হাসি)

সামগ্রিক মূল্যায়ন

​ব্যক্তিত্ব ও মানবিক গুণাবলী: সদা হাস্যোজ্জ্বল একজন মানুষ চারপাশের পরিবেশকে মুহূর্তের মধ্যে ইতিবাচক শক্তিতে ভরিয়ে দিতে পারেন। রুহুল হোসেন তেমনি একজন মানুষ। সমাজে সাধারণত দেখা যায় বিত্ত-সম্পদ বাড়ার সাথে সাথে অনেকের অহংকার বাড়ে। কিন্তু যিনি অর্থ ও বিনয়—দুটোই একসাথে সুন্দরভাবে বজায় রাখতে পারেন, তিনিই প্রকৃত ভালো মানুষ। রুহুল হোসেনের ব্যক্তিত্বে এই মানবিক গুণাবলীগুলো সদা ভাস্বর।

​সামাজিক অবদান ও মেহমানদারি: প্রকৃত সাফল্য কেবল নিজের পকেট ভারী করায় নয়, বরং মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মধ্যে লুকিয়ে থাকে। রুহুল হোসেন ব্রিটেনের বাঙালি কমিউনিটির একজন উদার মনের মানুষ, যিনি পরম মমতায় মানুষকে খাওয়াতে ভালোবাসেন। এছাড়া নিজ উদ্যোগে একাধিক মসজিদ ও এতিমখানা নির্মাণ এবং আর্থিক সহযোগিতা করে তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করছেন।

​সার্থক অভিভাবকত্ব: সম্পদ বা টাকা-পয়সা উত্তরাধিকার হিসেবে রেখে যাওয়ার চেয়ে একটি উন্নত চরিত্র রেখে যাওয়া অনেক বেশি মূল্যবান। রুহুল হোসেন তাঁর সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা একজন অভিভাবক হিসেবে তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সফলতা।

​ঐতিহ্যের বাহক: ইতিমধ্যে রুহুল হোসেন যুক্তরাজ্যে পারিবারিক ব্যবসার ১০০ বছর পূর্তি করেছেন। একটি প্রতিষ্ঠিত লিগ্যাসি ধরে রাখা এবং তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম ও দূরদর্শিতার প্রয়োজন হয়, রুহুল হোসেন তা সফলভাবে করে যাচ্ছেন।

​ঘর সাজানো বা ইন্টেরিয়র ডিজাইনে গোল্ডেন প্যাটার্ন বা সোনালী রঙের ছোঁয়া রাখা কিন্তু দারুণ একটি শখ! এটি বাসায় এক নিমেষেই একটা রাজকীয়, অভিজাত এবং জমকালো (elegant & luxurious) ভাব নিয়ে আসে।
সৌখিনতা এবং বিলাসিতা শব্দ দুটি কাছাকাছি মনে হলেও এদের মধ্যে সূক্ষ্ম কিন্তু গভীর পার্থক্য রয়েছে। সহজ কথায় বলতে গেলে, সব সৌখিনতা বিলাসিতা নয়, তবে বিলাসিতা অনেক সময় সৌখিনতার চরম রূপ হতে পারে। কারো কারো ব্যাংক ব্যালেন্স উপচে পড়ছে, কিন্তু তাদের মনের প্রসারতা বা মানবিকতা মরুভূমির মতো শুষ্ক। একেই হয়তো বলা হয় “বিত্ত আছে কিন্তু চিত্ত নেই”। সেই বিচারের রুহুল হোসেনের বৃত্ত আছে চিত্ত ও আছে।

রুহুল হোসেন এমন একজন মানুষ, যিনি সাত সমুদ্র তেরো নদী ওপারে গিয়েও নিজের শেকড়কে ভোলেননি। তাঁর রেস্টুরেন্টের প্রতিটি পদের স্বাদে যেমন খাঁটি বাঙালিয়ানা, তেমনই তাঁর ব্যক্তিত্বে মিশে আছে এক সফল ও উদার মানুষের প্রতিচ্ছবি। এই সাক্ষাৎকারটি অত্যন্ত তথ্যবহুল এবং অনুপ্রেরণামূলক। তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, ব্যবসায়িক কৌশল এবং নেতৃত্বের দর্শনে তাঁর গভীর দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।